Published : 12 Dec 2023, 12:37 PM
ঢাকার আশুলিয়ার শিমুলিয়া এলাকার বংশাই নদী থেকে গত শনিবার যে নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল, সেটি নরসিংদীর একটি পোশাক কারখানার কর্মী রুবিনা খাতুনের, যিনি কথিত প্রেমিকের হাতে খুন হয়েছেন।
লাশ উদ্ধারের ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তারের পর এ তথ্য জানিয়েছে র্যাব।
আশুলিয়া থেকে সোমবার রাতে র্যাব-৪ এর সদস্যরা অভিযান চালিয়ে এনামুল সানা ও সোহাগ রানা নামের দুইজনকে গ্রেপ্তার করে বলে বাহিনীর আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান।
এনামুল আশুলিয়ায় থাকেন, তার বাড়ি খুলনার পাইকগাছায়। বর্তমানে ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালানো এনামুল আগে কাজ করতেন পোশাক কারখানায়। তার স্ত্রী-সন্তানও আছে।
আর এনামুলের দুঃসম্পর্কের আত্মীয় সোহাগ বাসের হেলপার। সোহাগ এর আগে মাদক মামলায় এক মাস জেলও খেটেছেন।
মঙ্গলবার সকালে ঢাকার কারওয়ান বাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, গত ৯ ডিসেম্বর বিকাল সাড়ে ৩টায় বংশাই নদীতে এক নারীর মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয় লোকজন নৌ পুলিশ ও র্যাবকে জানায়।
পরে র্যাব-৪ এর গোয়েন্দা টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় ওই নারীর নাম-পরিচয় শনাক্ত করে।
নিহত রুবিনা খাতুন (২৪) নরসিংদীর পলাশ এলাকায় একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। তার বাড়ি দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর থানার রঘুনাথপুর দোলাপাড়া গ্রামে। রুবিনার বাবার নাম আব্দুল ওয়ারেছ।
লাশ উদ্ধারের পরদিন গত ১০ ডিসেম্বর রুবিনার ভাই আশুলিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
র্যাব কর্মকর্তা মঈন বলেন, “গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদে র্যাব জেনেছে, মাস ছয়েক আগে এনামুলের সঙ্গে রুবিনার সোশাল মিডিয়ায় পরিচয় হয়। এরপর ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে সম্পর্ক তৈরি হয়। এনামুল প্রায়ই রুবিনাকে বেশি বেতনে চাকরির দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে আশুলিয়ায় আসতে বলতেন।
“গত ৩ ডিসেম্বর এনামুলের স্ত্রী-সন্তান পাইকগাছায় চলে গেলে সে রুবিনাকে আশুলিয়ায় তার বাসায় নিয়ে আসে। ৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত রুবিনা ওই বাসায় ছিল। সে সময় রুবিনা বারবার এনামুলকে বিয়ের কথা বললে সে রাজি হয়নি। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিবাদও হয়েছে।”
তিনি বলেন, “জিজ্ঞাসাবাদে এনামুল বলেছে, ৮ ডিসেম্বর রুবিনা ফের বিয়ের কথা তুললে দুজনের মধ্যে ঝগড়া বেঁধে যায়। এক পর্যায়ে এনামুল ক্ষিপ্ত হয়ে রুবিনার মুখে বালিশ চাপা দিয়ে তাকে হত্যা করে।
“রুবিনাকে হত্যার পর এনামুল পরিস্থিতি সামাল দিতে সোহাগকে মোবাইল ফোনে বিষয়টি জানিয়ে তাকে বাসায় ডেকে আনে। এরপর পরিকল্পনা অনুযায়ী দুজনে মিলে রাত তিনটার দিকে রুবিনার মৃতদেহ চাদরে পেঁচিয়ে এনামুলের মোটরসাইকেলে করে ৫ কিলোমিটার দূরে বংশাই নদীর উপর রাঙ্গামাটি ব্রিজে নিয়ে যায়। পরে ব্রিজ থেকে রুবিনার লাশ নদীতে ফেলে দেয়।”
রুবিনার ভাইয়ের করা মামলার তদন্তে নেমে দুজনকে গ্রেপ্তার করে বলে জানান কমান্ডার মঈন।