২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

সালমানের স্টুডিওতে হামলা: সুস্পষ্ট কারণ জানে না পুলিশ, গ্রেপ্তার ৩

“আমাদের কাছে প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে, এটা জমিকে কেন্দ্র করে বিবাদমান গ্রুপের মধ্যে হয়তো হতে পারে।“

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 27 Sep 2026, 01:44 PM

Updated : 27 Sep 2026, 02:02 PM

ঢাকার ইসিবি চত্বর এলাকায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ‘ব্রাউনফিশ’ ও আশপাশে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তবে হামলার সুস্পষ্ট কারণ এখনও জানা যায়নি বলে ভাষ্য ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি)।

শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে নিউ গিনি প্রপার্টিজের আবাসন প্রকল্পে ওই হামলার ঘটনা ঘটে। সালমানের স্টুডিওর পাশাপাশি নিউ গিনির অফিসসহ আশপাশের স্থাপনা হামলাকারীদের নিশানায় ছিল।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, নিউ গিনি প্রপার্টিজের জমি নিয়ে দ্বন্দ্ব থেকে এ হামলা হয়ে থাকতে পারে। তবে কাদের মধ্যে সেই বিরোধ তা এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।

রোববার নিউ গিনি প্রপার্টিজের প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার মো. মাহিদুল ইসলাম।

তিনি বলেন, “গতরাতে একদল লোক দলবদ্ধভাবে এসে সেখানে ভাঙচুর চালায়। খবর পেয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি, পরিদর্শক তদন্ত, পরিদর্শক অপারেশনসহ পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

“ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে রাতেই অভিযান চালিয়ে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।”

Image

কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ক্ষতিগ্রস্ত স্টুডিও ‘ব্রাউনফিশ’।

পুলিশ কর্মকর্তা মাহিদুল বলেন, “তিনজনকে আমরা ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করেছি। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া গ্রহণ চলমান রয়েছে।

“আমাদের আরও টিম কাজ করছে। আমরা আশা করি, এই ঘটনায় যারা জড়িত ছিল, তাদেরকে আইনের আওতায় আনতে পারব।”

গ্রেপ্তার তিনজন হলেন—মামুন, আসলাম ও মুন্না। পুলিশ কর্মকর্তা জানান, মামুনের বাড়ি ময়মনসিংহের গফরগাঁও, তিনি ভাষানটেক বস্তিতে থাকেন। আসলামের বাড়ি টাঙ্গাইলে, তিনি অটোরিকশা চালান। আর মুন্নাও ভাষানটেক বস্তিতে থাকেন।

হামলার কারণ জানতে চাইলে ডিএমপি কর্মকর্তা মাহিদুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও তথ্য পাওয়ার পর বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে বলা সম্ভব হবে।

“প্রাথমিকভাবে আমাদের কাছে মনে হয়েছে, এটা হচ্ছে একটা হাউজিং বিজনেস। এখানে এতগুলো লোক একসঙ্গে দলবদ্ধভাবে এবং রাতের বেলা এসেছে। সে কারণে হয়তো জমিকে কেন্দ্র করে, জমির দখল-বেদখলকে কেন্দ্র করে বিবাদ থাকতে পারে।”

Image

কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ‘ব্রাউনফিশ’-এ হামলার পাশাপাশি লুটপাট করা হয়।

নিউ গিটি প্রোপার্টিজের পরিচালক সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া ঘটনার পর বলেছিলেন, “তারা (হামলাকারীরা) দীর্ঘদিন যাবৎ বিভিন্ন রকম চাঁদাবাজি, হুমকি-ধমকি, জমি দখলসহ নানান ধরনের কর্মকাণ্ড আমাদের সাথে করে আসতেছে।

“আজকে সাড়ে ১০টা নাগাদ প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ সবাই অস্ত্র নিয়ে ৪০ থেকে ৫০টা ফায়ার করছে। ফায়ার করে গেট ভেঙে ফেলছে। হার্ডডিস্কসহ সবকিছু লুটপাট করে নিয়ে গেছে। টাকা ছিল, ফোন ছিল।”

ঘটনার পরে স্টুডিওতে আসা সালমান মুক্তাদির বলেছিলেন, “একটা শুটে কত খরচ হয় আপনারা জানেন। সেখানে ৩০-৪০টা ক্লায়েন্টের যখন সবকিছু নিয়ে যায়, কত ক্ষতি হতে পারে—এটা যদি চোখ বন্ধ করেও কিছু একটা ধারণা করা হয়...

“আমি ভাবছিলাম আমার প্রতি শত্রুতা, বাট দেখলাম যে পুরা প্রজেক্টেই ওরা হামলা করছে। সো প্রজেক্ট রিলেটেড কিছুই হইছে—এতটুক আমি শিওর।”

হামলার সঙ্গে চাঁদা দাবির কোনো সম্পর্ক আছে কি না কিংবা সালমান মুক্তাদিরের কাছে চাঁদা চাওয়া হয়েছিল কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে যুগ্ম কমিশনার মাহিদুল বলেন, “এ ধরনের কোনো তথ্য আমাদের কাছে এই মুহূর্তে নেই, কোনো চাঁদা বা কোনো কিছু নিয়ে।

“আমাদের কাছে প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে, এটা জমিকে কেন্দ্র করে বিবাদমান গ্রুপের মধ্যে হয়তো হতে পারে। আমরা প্রপার ইনভেস্টিগেশন করলেই জানতে পারব।”

পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ঘটনাটি এখনও তদন্তাধীন এবং তদন্ত শেষ হলে হামলার কারণ ও জড়িতদের বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।

পুরানো খবর:

সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, লুটপাট