Published : 28 Feb 2026, 10:42 PM
অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষাকে অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক করা এবং বাজেটে শিক্ষাখাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দসহ এ খাতের উন্নয়নে এক গুচ্ছ প্রস্তাব দিয়েছে গণসাক্ষরতা অভিযান।
শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরে শিক্ষা নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংস্থাগুলোর এ মোর্চা।
শিক্ষা খাতে বাজেট বাড়ানোসহ ১২ দফা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে গণসাক্ষরতা অভিযান একগুচ্ছ প্রস্তাব তুলে ধরতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নিজেদের পরামর্শগুলো তুলে ধরেন গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী।
পাঠ্যক্রম সংস্কার ও পরীক্ষা পদ্ধতি পরিবর্তন করে পরীক্ষার চাপ কমিয়ে কোচিং ও নোট-গাইডের ব্যবহার কমানোর সুপারিশও করা হয় সংবাদ সম্মেলনে।
রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, “আমরা পাবলিক পরীক্ষাকে বেশি গুরুত্ব দেই কিন্তু শ্রেণি কক্ষের শিক্ষার মানের দিকে গুরুত্ব দিচ্ছি না।”
তিনি অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষাকে অবৈতনিক করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এতে সাধারণ মানুষের শিক্ষা লাভের সুযোগ বাড়বে।”
বাজেটে বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি তা সঠিকভাবে বণ্টন এবং সঠিক ব্যবহারের তাগিদও দেওয়া হয় সংবাদ সম্মেলনে। শিক্ষাখাতে বাজেটে ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ইলেক্ট্রনিক ব্যবস্থা তদারকির প্রস্তাব তুলে ধরেন রাশেদা কে চৌধুরী।
সব শিক্ষার্থীর জন্য মিড-ডে মিলের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি স্কুল থেকে ছাত্রীদের ঝরে পড়া কমাতে পিরিয়ডকালীন স্বাস্থ্যের বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
সরকারের ‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব’ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, এ পদক্ষেপ শিক্ষা ব্যবস্থাকে এগিয়ে নেবে।
সরকারের দেওয়া বাকিসব পরামর্শ বাস্তবায়নের জন্য গণসাক্ষরতা অভিযানের অভিযানের তরফে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।
শিক্ষায় রোবোটিক্স বা আইসিটির দিকে নজর দেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সততা ও নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করার তাগিদ দেওয়া হয়।
সাধারণ শিক্ষা ও কারিগরি শিক্ষার ন্যূনতম মান নির্ধারণ করার প্রস্তাবও তুলে ধরা হয় সংবাদ সম্মেলনে।
শিক্ষা সংস্কারে স্বাধীন কমিশন গঠন, শিক্ষকদের সম্মান ও সম্মানী বাড়ানোর এবং শিক্ষাঙ্গনকে রাজনীতি মুক্ত রাখার দাবিও জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে গণসাক্ষরতা অভিযানের আহ্বায়ক মোস্তাক আহমেদ, প্রাথমিক ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা সংস্কারে পরামর্শক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক মনজুর আহমেদ, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের শিক্ষা ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বিষয়ক পরামর্শক কমিটির প্রধান মোস্তার রাজা চৌধুরী, শিক্ষা গবেষণা ইনিস্টিটিউটের শিক্ষক শাহ শামীম আহমেদ, নটর ডেম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক জ্যোতি এফ গোমেজ উপস্থিত ছিলেন।