Published : 01 Feb 2026, 07:13 PM
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) দুই ভাগের অধ্যাদেশের বিরোধিতা আন্দোলনে ‘সংগঠকের ভূমিকা পালন’ করায় এক অতিরিক্ত কর কমিশনারের মূল বেতন দুই ধাপ কমানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনে তার বিরুদ্ধে লঘুদণ্ডের কথা বলেছে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ-আইআরডি।
একই সঙ্গে সেহেলা সিদ্দিকা নামের এ কর্মকর্তার সাময়িক বরখাস্তের আদেশও প্রত্যাহার করে নিয়েছে সংস্থাটি।
আন্দোলনের সময় তিনি আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিটের অতিরিক্ত কর কমিশনারের দায়িত্ব পালন করছিলেন। পরে ‘সংগঠকের ভূমিকা’ পালনের দায়ে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
আইআরডির প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, অধ্যাদেশ জারির পর এর বিরোধিতা করে গত বছরের ২১ মে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হোয়াটসঅ্যাপে তিনটি বার্তা দেন সেহেলা সিদ্দিকা। দায়িত্বরত কর্মচারীদের দাপ্তরিক দায়িত্ব পরিত্যাগ করে রাজস্ব ভবনে আসতে বাধ্য করতে ‘সংগঠকের ভূমিকা’ পালনের মাধ্যমে দেশের রাজস্ব আহরণ কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করেন তিনি, যা সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা, ১৯৭৯–এর ৩০এ বিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং একই বিধিমালার ৩২ বিধি অনুযায়ী অসদাচরণের শামিল।
এ নিয়ে বিভাগীয় মামলা হয় এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর সেহেলা সিদ্দিকার বিরুদ্ধে অসদাচরণ প্রমাণিত হয় বলে আইআরডির আদেশে বলা হয়েছে।
তার বর্তমান মূল বেতন ৭১ হাজার ২০০ টাকার দুই ধাপ নিচে ৬৫ হাজার ৮২০ টাকা মূল বেতনে অবনতিকরণের ‘লঘুদণ্ড’ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে প্রজ্ঞাপনে।
এনবিআর দুই ভাগ করে রাজস্ব ব্যবস্থাপনা ও রাজস্ব নীতি নামে দুটি স্বতন্ত্র বিভাগ করে অধ্যাদেশ জারি করে সরকার। সেই অধ্যাদেশ বাতিলের দাবিতে কলম বিরতিসহ নানা কর্মসূচি দিয়ে আন্দোলনে নামেন এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তাদের আন্দোলনের মুখে সরকার পিছু হটে।
২২ মে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অধ্যাদেশে ‘প্রয়োজনীয় সংশোধনী’ আনা হবে। আর সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান কাঠামোতেই চলবে এনবিআরের সব কাজ।
এর মধ্যে সংস্থাটির কর্মীরা নানা অভিযোগ তুলে এনবিআর চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে নতুন করে আন্দোলনে নামেন এবং সংস্থার কার্যালয়ে তাকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করেন।
দাবি আদায়ে ২৮ জুন ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি শুরু করেন এনবিআর কর্মীরা। তাদের আন্দোলনে স্থবির হয়ে পড়ে আমদানি-রপ্তানিসহ এনবিআরের কার্যক্রম। পরের দিনও কর্মসূচি অব্যাহত থাকলে সংস্থাটির সেবাকে ‘অত্যাবশ্যকীয়’ ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেয় অন্তর্বর্তী সরকার।
সংকট নিরসনে সেদিন এনবিআর কর্মীদের অবিলম্বে কর্মস্থলে ফেরা এবং আইনবিরোধী ও জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থি কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার আহ্বানও জানানো হয়। পরে সংকট সমাধানে পাঁচ উপদেষ্টাকে নিয়ে উপদেষ্টা কমিটি গঠন করার কথা জানায় সরকার।
তবে ব্যবসায়ী নেতাদের মধ্যস্থতায় আন্দোলনকারীদের প্লাটফর্ম এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ শাটডাউন কর্মসূচি তুলে নেয়।
এরপর আন্দোলনের সামনের সারির নেতাদের ‘দুর্নীতির তথ্যানুসন্ধানে’ নামে দুদক। তিন দফায় ১৬ জনের তথ্যানুসন্ধান শুরুর তথ্য দেয় সংস্থাটি।
সে সময় সেহেলা সিদ্দিকার বিরুদ্ধেও অনুসন্ধানে নামে দুদক। তিনি ঐক্য পরিষদের মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
যা ছিল হোয়াটসঅ্যাপ বার্তায়
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সেহেলা সিদ্দিকা গত বছরের ২১ মে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে (হোয়াটসঅ্যাপ) বিকেল ৫টা ৪৬ মিনিটে লেখেন, “জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আয়কর, কাস্টমস ও ভ্যাটের মাঠপর্যায়ের ঢাকার সব সহকর্মীদের আগামীকাল সকাল ৯:৩০ ঘটিকার মধ্যে এনবিআরে আগমন ও বিকাল ৫:০০টা পর্যন্ত অবস্থান করার জন্য এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ কর্তৃক অনুরোধ করা হলো।
এ ছাড়া ঢাকার বাইরের আয়কর, কাস্টমস ও ভ্যাটের মাঠপর্যায়ের সব সহকর্মীদের নিজ নিজ কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে সকাল ৯:৩০ ঘটিকা থেকে বিকেল ৫:০০ ঘটিকা পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি পালন করার জন্য এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ কর্তৃক অনুরোধ করা হলো।”
একই দিন রাত ৯টা ৪৩ মিনিটে সেহেলা সিদ্দিকা লেখেন, “বিশেষ ঘোষণা, আগামীকাল ২২ মে বৃহস্পতিবার ঘোষিত কর্মসূচির ক্ল্যারিফিকেশন– ১. এনবিআর ও ঢাকার সব দপ্তরের সব কর্মকর্তা–কর্মচারীর অবস্থান কর্মসূচি চলবে সকাল ৯:০০টা থেকে এনবিআরে। ২. আগামীকাল আমদানি, রপ্তানি ও আন্তর্জাতিক যাত্রীসেবা আওতামুক্ত থাকবে।”
একই দিন রাত ৯টা ৪৭ মিনিটে সেহেলা সিদ্দিকা লেখেন, “বিকাল ৫:০০টা পর্যন্ত আমাদের কর্মসূচি বহাল থাকবে।”
আগের খবর:
এনবিআরে আন্দোলন: কাজে ফিরে 'শাস্তির ভয়ে' কর্মীরা
এনবিআরে আন্দোলন: একই দিনে ৯ কর্মকর্তা বরখাস্ত
এনবিআরে আন্দোলন: এবার তিন সদস্য ও এক কমিশনার অবসরে
এনবিআরের আরো ৫ জনের বিরুদ্ধে দুদকের তথ্যানুসন্ধান শুরু
‘হুমকি’ উপেক্ষা করে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ এনবিআরে, চলবে রোববারও, বন্দরে স্থবিরতা