১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

পদ্মা ব্যারেজের ‘স্বপ্নদ্রষ্টা’ ছিলেন জিয়াউর রহমান: উপদেষ্টা তিতুমীর

“অনেকগুলো পরিবর্তন, পরিমার্জন ও সংযোজনের মাধ্যমে এই প্রকল্প নেওয়া হয়েছে,” বলেন তিনি।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 14 May 2026, 10:06 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:37 PM

পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের ‘স্বপ্নদ্রষ্টা’ জিয়াউর রহমান ছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক এ উপদেষ্টা বলেন, “যে প্রকল্প (পদ্মা ব্যারেজ) একনেকে গতকাল পাস হলো, সেটার স্বপ্নদ্রষ্টা ছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। এবং সেটার সঙ্গে অতীতের গবেষণা ও সমীক্ষা কাজে লাগানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী হয়েছে।”

তিনি বলেন, “বর্তমান প্রকল্পে অনেক কিছু পরিবর্তন হয়েছে। জনগণের রায় ও জনগণের সঙ্গে সর্ম্পক রেখে পরিকল্পিত উপায়ে, অর্থাৎ শহীদ প্রেসিটেন্ট জিয়াউর রহমান যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, প্রাণ প্রকৃতি ব্যবস্থাপনায় যে গঙ্গা চুক্তি করেছিলেন, একইভাবে অনেকগুলো পরিবর্তন, পরিমার্জন ও সংযোজনের মাধ্যমে এই প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।”

বৃহস্পতিবার ‘অর্থনৈতিক কৌশল প্রণয়ন সংক্রান্ত অ্যাডভাইজরি কমিটি’র দ্বিতীয় সভার পর ব্রিফিংয়ে আসেন রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

এদিন ঢাকার আগারগাঁওয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে এনইসি  মিলনায়তনে এই সভা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। 

ব্রিফিংয়ে তিতুমীর বলেন, “প্রকল্পটি নিয়ে অতীতে যত সমীক্ষা হয়েছে, প্রধামন্ত্রীকে ব্রিফ করা হয়েছে। তারপর কী কী পরিবর্তন আনতে হবে, সেই নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।”

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি, পরিবেশ ও অর্থনীতি রক্ষায় এবং শুষ্ক মৌসুমে পানিসঙ্কট দূর করতে বুধবার সাড়ে ৩৪ হাজার কোটি টাকার পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পে অনুমোদন দেয় সরকার।

বিএনপি সরকার গঠনের পর এটা ছিল একনেক বৈঠকে অনুমোদন পাওয়া প্রথম মেগা প্রকল্প।

২০৩৩ সালের জুনের মধ্যে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড। প্রকল্পের পুরো অর্থায়ন হবে সরকারের কোষাগার থেকে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, রাজবাড়ী জেলার পাংশা পয়েন্টে পদ্মা নদীর ওপর একটি ব্যারেজ নির্মাণ করে পানি সংরক্ষণ করা হবে, যা থেকে খাল বা ক্যানেলের মাধ্যমে কৃষিজমিতে পানি সরবরাহ করা যাবে। একই সঙ্গে নদীর নাব্য রক্ষা, লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণ এবং মৎস্যসম্পদ উন্নয়নেও এ প্রকল্প ভূমিকা রাখবে।

উন্নয়ন পরিকল্পনায় বড় সংস্কার

নতুন পরিকল্পনা কাঠামোতে সরকার বড় সংস্কারের উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন তিতুমীর।

তিনি বলেন, ‘‘প্রথমত প্রকল্প নির্বাচন বা ‘প্রোগ্রামিং’ প্রক্রিয়া পুনর্গঠন করা হবে, যেন তা জনরায়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। দ্বিতীয়ত, নিয়মিত পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করা হবে। তৃতীয়ত, তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করা হবে, যেন গবেষক, শিক্ষক ও নাগরিকরা প্রকল্পের বাস্তব চিত্র যাচাই করতে পারেন। আর চতুর্থত, পুরো প্রক্রিয়াকে জনবান্ধব ও জবাবদিহিমূলক করা হবে।’’

অতীতে দেশের অধিকাংশ পরিকল্পনা গ্রহণের পর দিন থেকেই ‘মৃত দলিল’ হয়ে যেত বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “আগের পরিকল্পনা পদ্ধতিতে কাঠামোগত দুর্বলতা ছিল প্রকট। প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রিতা, একাধিকবার সংশোধন, সময়মতো প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ না দেওয়া এবং ‘জুন সিনড্রোম’-এর মতো প্রবণতা পরিকল্পনা ব্যবস্থাকে অকার্যকর করে তুলেছিল।”

রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর দাবি করেন, “নতুন অর্থনৈতিক কৌশলে ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে খাতভিত্তিক পরিকল্পনা, সুনির্দিষ্ট কৌশল এবং পরিমাপযোগ্য সূচক (ইন্ডিকেটর) নির্ধারণ করা হচ্ছে।”