Published : 01 Oct 2025, 01:03 AM
বিকাল থেকে ঝুম বৃষ্টি কিছুটা বিঘ্ন ঘটালেও, পূজার আনন্দে বাধ সাধতে পারেনি। বৃষ্টি উপেক্ষা করেই মহাঅষ্টমীর সন্ধ্যায় রমনার কালী মন্দিরে লোকজনের ভিড় দেখা যায়।
মঙ্গলবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মুক্ত মঞ্চে যাত্রাপালার পরিবেশনা দুর্গোৎসবে বাড়তি আনন্দ যোগ করে।
সকাল থেকে কুমারী পূজা, দেবীর আরাধনার পাশাপাশি বিভিন্ন মণ্ডপে ঘুরে ঘুরে দেবী দর্শন করেন ভক্তরা। কেউ কেউ হৈ-হল্লুড় এবং আনন্দ আড্ডায় মাতেন।
স্বপরিবারে রমনা কালী মন্দিরে এসেছিলেন ব্রজমোহন দাশ। তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “প্রতি বছরই পূজায় অষ্টমী আর নবমীতে ঢাকার বড় বড় সব মণ্ডপেই যাওয়া হয়। অনেক আনন্দ করি। সেই সাথে দেবীর কাছে সকলের জন্য প্রার্থনাও করি।”
বাংলা একাডেমির উল্টোদিকে মন্দিরে প্রবেশের পথেই বিড়ম্বনায় পড়তে হয় সড়কের দুই পাশে সব খাবারের দোকান থাকায়।
এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে অচিন্ত্য চক্রবর্তী নামে একজন বলেন, “মন্দিরের পাশেই বড় মাঠ আছে। কিন্তু মন্দিরের সামনের রাস্তাতেই খাবারের দোকান বসানোর কারণে হাঁটাচলা করতেও সমস্যা হয়। যারা দেবীকে অঞ্জলি দিতে আসেন। তারা বিড়ম্বনা পোহান।”

এই ভিড়েও মাঝে মাঝে প্রাইভেট কারও ভেতরে প্রবেশ করছে, যার কারণে আরও বেশি বিড়ম্বনা পোহাতে হচ্ছে বলে অভিযোগ অচিন্ত্য চক্রবর্তীর।
তবে ভিন্ন মত অমরেশ পাল নামের আরেকজন দর্শনার্থীর। তিনি বলেন, “পূজায় ধাক্কাধাক্কি হবেই। এটাও আনন্দের। এখানে এসে পরিবারের সবাই খাওয়া-দাওয়া, হৈ-হল্লুড় করবেন। এটা স্বাভাবিক বিষয়।”
মণ্ডপে দেখা যায় আরতিতে ‘ধুনুচি’ নাচে আনন্দ প্রকাশ করছেন অনেকে। কেউ আবার দেবীর সঙ্গে ছবি তুলছেন।
রমনা কালী মন্দিরের পূজা কমিটি থেকে মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয়, ‘যে কোনো বয়সের যে কেউ আরতিতে অংশ নিতে পারবেন’। ফলে শিশু থেকে বিভিন্ন বয়সের অনেকে আরতিতে অংশ নেন এবং নেচে গেয়ে দেবী বন্দনায় মাতেন।
এদিন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে এবং শিল্পকলা একাডেমির ব্যবস্থাপনায় শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী ‘শারদীয় সাংস্কৃতিক উৎসব’।
মুক্তমঞ্চে উৎসবের প্রথম সন্ধ্যায় মঞ্চায়িত হয় যাত্রাপালা ‘মহিষাসুর মর্দিনী, দেবী দুর্গা’। যাত্রাপালাটির পালাকার উজ্জ্বল কুমার বেপারী। পরিবেশনায় ছিল পিরোজপুরের মাতা মজ্জুলিকা ধর্মীয় নাট্য সংস্থা।
স্ত্রীকে নিয়ে যাত্রাপালা দেখছিলেন অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা হালিম প্রামাণিক। তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আসছিলাম তো পূজায়। এখানে এসে দেখি যাত্রাপালা হচ্ছে। ছোটবেলায় গ্রামে যাত্রাপালা দেখছি। অনেক বছর পর আবার যাত্রাপালা দেখে ছোটবেলার অনেক স্মৃতি মনে পড়ে গেল।”
যাত্রাপালায় বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেন উজ্জল কুমার বেপারী, রনজিৎ হালদার, রেবতী রঞ্জন মজুমদার, প্রমথ রঞ্জন গোমস্তা, প্রবীর বেপারী, সঞ্জয় বিশ্বাস, সুদেব মণ্ডল, হিমাংশু হাওলাদার, অমল হালদার, মানিক বড়াল, বিমল বৈদ্য, দ্বিপক হাওলাদার, সৌরভ হালদার, মো. সেলিম, নির্মল চন্দ্র দে, গৌতম দাস, খোকন বিশ্বাস, মুক্তি চক্রবর্তী, জানকী রায়, শিমু দেবনাথ, মো. হাবিব, রহিম মিঞা, মো. রবিউল, বিজন কান্তি হাওলাদার ও জ্যোতি রায়।

দুই দিনব্যাপী ‘শারদীয় সাংস্কৃতিক উৎসবের' সমাপনী দিন বুধবার সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমির নন্দনমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
শিল্পকলা একাডেমি জানিয়েছে, এদিন শুরতেই ৫০ জন শিল্পীর অংশগ্রহণে ঢাক-ঢোল বাদন পরিবেশিত হবে। এরপর ‘মাঙ্গলিক নৃত্য’ পরিবেশন করবেন স্পন্দন এর নৃত্যশিল্পীরা।
একক সংগীত ‘ওই আসন তলে মাটির পরে’, ‘আমরা মিলেছি আজ মায়ের ডাকে’ ও ‘এবার তোর মরা গাঙ্গে বাণ এসেছে’ পরিবেশন করবেন শিল্পী অনিমা রায়।
‘মঙ্গল দ্বীপ জ্বেলে’, ‘হৃদ মাঝারে রাখবো ছেড়ে দেবো না’ ও ‘আজি বাংলাদেশের হৃদয় হতে’ পরিবেশন করবেন দেবলীনা সুর দোলা।
এরপর ‘বাগিচায় বুলবুলি তুই’, ‘বেহুলা’, ‘সোনা দিয়া বান্ধাইয়াছি ঘর’, ‘আলগা করোগো খোপার বাঁধন’, ‘শোন গো দখিনা হাওয়া’, ‘আহা কি আনন্দ আকাশে বাতাসে’, ‘এ হাওয়া’, ‘অভিমানী বৃষ্টি’, ‘আজ এই বৃষ্টির কান্না দেখে’ ও ‘জ্বালা জ্বালা’ গানগুলো পরিবেশন করবেন ঋতুরাজ।
সবশেষে ‘ফাগুনেরও মোহনায় (পাহাড়ী ম্যাশআপ)’, ‘সুন্দরী কমলা’, ‘ও রঙবতী’ এবং ‘ফোক ম্যাশআপ’ পরিবেশন করবেন শিল্পী সিঁথি সাহা।
অনুষ্ঠান সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।