Published : 29 Mar 2026, 01:03 AM
সাত বছর আগে ঢাকার বনানীতে ফারুক রূপায়ণ (এফআর) টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের মামলায় বিচার শুরু হলেও তা আটকাতে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হচ্ছেন আসামিরা।
একজনের আবেদনে তার বিচার কার্যক্রম স্থগিতের আদেশ এসেছে। অপর আসামিরাও উচ্চ আদালতে ছুটছেন বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
২০১৯ সালের ২৮ মার্চ দুপুরে বনানীর ৩২ কামাল আতাতুর্ক অ্যাভেনিউয়ের এফআর টাওয়ারে আগুন লাগে। জীবন বাঁচাতে বিভিন্নভাবে বাণিজ্যিক এ ভবন থেকে নামার সময় দুর্ঘটনা ও অগ্নিদগ্ধ হয়ে ২৬ জন প্রাণ হারান, আহত হন শতাধিক ব্যক্তি।
এ ঘটনায় ৩০ মার্চ বনানী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মিল্টন দত্ত বাদী হয়ে মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ২০ ডিসেম্বর ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। তবে রূপায়ণ গ্রুপের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খান মুকুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ না পাওয়ায় তাকে অব্যাহতির আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের গুলশান জোনাল টিমের পরিদর্শক (নিরস্ত্র) সমীর চন্দ্র সূত্রধর।
ওই বছরের ২৭ ডিসেম্বর অভিযোপত্রটি ঢাকার তৎকালীন মহানগর হাকিম আরফাতুল রাকিবের আদালতে উপস্থাপন করা হয়। তবে আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ না করে মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেয়।

এরপর পিবিআই মামলার তদন্ত শুরু করে। ২০২৪ সালের ২২ জানুয়ারি একই আসামিদের অভিযুক্ত করে এবং লিয়াকত আলী খান মুকুলকে অব্যাহতির সুপারিশ করে অভিযোগপত্র জমা দেন পিবিআই'র ঢাকা মেট্রো দক্ষিণের পরিদর্শক (নিরস্ত্র) রফিকুল ইসলাম। এরপর ৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকার তৎকালীন মহানগর হাকিম রশিদুল আলম পিবিআইয়ের দেওয়া ৮ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন।
আসামিরা হলেন-এফআর টাওয়ার ভবনের ব্যবস্থাপনা কমিটিতে থাকা এস এম এইচ আই ফারুক, তাজভিরুল ইসলাম, সেলিম উল্লাহ, এ এ মনিরুজ্জামান, সৈয়দ আমিনুর রহমান, ওয়ারদা ইকবাল, রফিকুল ইসলাম ও কাজী মাহমুদুন নবী। তাদের মধ্যে এস এম এইচ আই ফারুক এবং কাজী মাহমুদুন নবী মারা গেছেন।
আসামিদের মধ্যে ফারুক জমির মূল মালিক। বিএনপি নেতা তাজভীরুল ইসলাম ভবন পরিচালনা কমিটির সভাপতি। অপর ছয়জন ভবন পরিচালনা কমিটির সদস্য।
মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠানো হয়। গত বছরের ২৮ অগাস্ট সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। বিচার শুরুর আগেই মারা যান এস এম এইচ আই ফারুক।
ঢাকার নবম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মাহমুদুল হাসানের আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ছিল গত ৭ জানুয়ারি। তাজভিরুল ইসলাম ও ওয়ারদা ইকবাল অভিযোগ গঠনের আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাবেন জানিয়ে সময় আবেদন করেন। আদালত সময় আবেদন মঞ্জুর করে আগামী ৫ এপ্রিল সাক্ষ্যগ্রহণের দিন রেখেছেন।
এদিকে তাজভিরুল ইসলামের করা আবেদনে মামলার কার্যক্রম উচ্চ আদালত স্থগিত করেছে বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী সাজেদুর রহমান।

তিনি বলেন, “মামলায় অভিযোগ গঠন হয়েছে, সাক্ষ্যের পর্যায়ে গেছে। একই ঘটনায় এ মামলার পাশাপাশি দুদকের আরেকটি মামলা হয়েছে। একই অপরাধে দুই মামলা; যা চলতে পারে না। অভিযোগ গঠনই ইলিগ্যাল হয়েছে।”
আইনজীবী সাজেদুর বলেন, “আমরা ফ্ল্যাট মালিক; বিল্ডিংয়ের কনস্ট্রাকশনের কাজের সাথে জড়িত না। কনস্ট্রাকশনের ভুল-ত্রুটির কারণে ঘটনাটা ঘটেছে। কিন্তু তাদেরই আসামি করা হয়নি।
“রূপায়ণ গ্রুপের মালিককে অভিযোগপত্র থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ গঠনের আদেশের বিরুদ্ধে আমরা উচ্চ আদালতে যাই। উচ্চ আদালত মামলার কার্যক্রম স্থগিত করেছেন।”
অপর আসামিরাও উচ্চ আদালতে যাবেন জানিয়ে আমিনুর, সেলিম ও মনিরুজ্জামানের আইনজীবী সালমান আর রহমান বলেন, “মামলাটা সাক্ষ্যগ্রহণের পর্যায়ে আছে। তাজভিরুল ইসলাম নামে একজনের জন্য মামলার কার্যক্রম উচ্চ আদালত স্থগিত করেছে। আমরাও উচ্চ আদালতে যাব।”
তিনি বলেন, “তাদের বিরুদ্ধে যে ধারায় অভিযোগ গঠন করা হয়েছে, তা তাদের সাথে যায় না। মেইন আসামি ডেভেলপার; অথচ তার নাম অভিযোগপত্রে নেই। আমরা তো ফ্ল্যাট কিনেছি।
“ফ্ল্যাট মালিক কমিটির মেম্বার হওয়ায় মামলায় আসামি করা হয়েছে। আমরা উচ্চ আদালতে যাব। আশা করছি, মামলার কার্যক্রম স্থগিত হবে।”
যোগাযোগ করা হলে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আমিনুল ইসলাম সরকার বলেন, “সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ করতে আমরা রাষ্ট্রপক্ষ থেকে প্রস্তুত। আসামিরা উচ্চ আদালতে যাচ্ছেন।
“উচ্চ আদালত যদি মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে, তাহলে তো আমাদের কিছু করার নেই। আর যদি এমন কিছু না হয়, তাহলে সাক্ষী হাজির করে মামলার বিচার শেষ করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।”