১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

জ্বালানি সাশ্রয়: মহানগরীতে ৩ দিন সশরীরে, ৩ দিন অনলাইন ক্লাসের সুপারিশ

শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে আলোচনা হবে এবং সেখানেই সিদ্ধান্ত হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 31 Mar 2026, 09:47 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:17 PM

ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সাশ্রয়ের অংশ হিসেবে দেশের মহানগরী এলাকার মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সশরীরে পাঠদানের পাশাপাশি অনলাইনেও ক্লাস নেওয়ার বিষয়ে সরকারকে সুপারিশ করবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

জ্বালানি সংকটের ভিন্ন এ বাস্তবতায় পুরোপুরি অনলাইন নির্ভর না হয়ে তিন দিন অনলাইনে ও তিন দিন ‘অফলাইনের’ (সশরীরে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান) সঙ্গে মিলিয়ে সমন্বিত বা ‘ব্লেন্ডেড’ শিক্ষা পদ্ধতি চালুর ওপর গুরুত্ব দিয়ে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলেছে মন্ত্রণালয়। 

প্রথম ধাপে শুধু সিটি করপোরেশনের অধীন বিদ্যালয় ও কলেজের ক্ষেত্রে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। 

তবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনলাইন ক্লাস নেওয়ার বিষয়ে এখনও এমন কোনো সুপারিশের খবর মেলেনি।

মঙ্গলবার বিকালে মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে ঢাকা মহানগরীর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান, শিক্ষা বোর্ড ও মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতবিনিময় সভায় এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

পরে বৈঠকে সপ্তাহে তিন দিন অনলাইন এবং তিন দিন অফলাইনে (সশরীরে) ক্লাস পরিচালনার বিষয়ে ‘প্রাথমিক সিদ্ধান্ত’ হওয়ার কথা বলেছেন সংশ্লিষ্টরা। সভায় সভাপতিত্ব করেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি এবং ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক খন্দোকার এহসানুল কবির বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সভায় অনলাইন-অফলাইনে ক্লাস চালানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে কিন্তু এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলে তা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হবে।”

এর আগে সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেছিলেন, “আমরা আলোচনা করেছি যে, অনলাইনে এডুকেশনটা প্রমোশন করা…। আমরা এ বিষয়ে একটি প্রস্তাব মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে উপস্থাপন করব। তারপরে এটা নিয়ে মন্ত্রিসভায় আলোচনা হবে এবং সিদ্ধান্ত আসবে।”

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে ২০২০ সালের মার্চে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। পরে এসব প্রতিষ্ঠানে অনলাইনে শ্রেণিকার্যক্রম পরিচালনা শুরু করা হয়।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার কারণে জ্বালানি সংকটে পড়েছে প্রায় পুরো বিশ্ব। বাংলাদেশও এই সংকটে আছে। যুদ্ধের অস্থিরতার মধ্যে সরকার মধ্যপ্রাচ্য ছাড়াও অন্য উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টা করছে।

এমন প্রেক্ষাপটে আবারও অনলাইন ক্লাসের কথা আলোচনায় এসেছে। তবে এবার সমন্বিত পদ্ধতিতে ক্লাস চালানোর দিকে হাঁটছে সরকার। এ পদ্ধতিতে প্রথাগত সশরীরে শ্রেণিকক্ষের পাঠদান এবং ডিজিটাল বা অনলাইন প্রযুক্তির সমন্বয়কে বোঝায়। এতে শিক্ষার্থীরা আংশিক সময় শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত থেকে এবং পাশাপাশি অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমেও ক্লাসে অংশ নেবেন।

ম্ঙ্গলবারের সভায় অংশ নেওয়া ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাজেদা বেগম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সভায় সপ্তাহে তিন দিন অনলাইন এবং তিন দিন অফলাইনে শ্রেণিকার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। শিক্ষকেরা এ বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে। আশা করছি, শিগগির এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

এর আগে সকালে শিক্ষামন্ত্রী মিলনও বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট বিবেচনায় স্কুল পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের ‘অনলাইন ও সশরীরে’ দুই পদ্ধতিতেই ক্লাস নেওয়ার ভাবনার কথা বলেছিলেন।

তবে অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে আলোচনা হবে এবং সেখানেই সিদ্ধান্ত হবে বলে তখন বলেন তিনি।

অনলাইনে ক্লাস চালুর ভাবনার ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, “এটা যেহেতু বৈশ্বিক সমস্যা, শুধুমাত্র বাংলাদেশের নয়। এবং আমরা জানি না এই সংকট কতদিন চলবে।

“সেই কারণে আমরা ভাবছি যে অনলাইন-অফলাইন দুই সিস্টেমে আমাদের ক্লাস নেওয়ার সিস্টেম প্রবর্তন করা যায় কী না। মনে করেন সপ্তাহে পাঁচ দিন ক্লাস ছিল। এখন আমরা এসব ক্লাস লস করেছি রোজার ছুটিতে এবং বিভিন্ন রকম আন্দোলন-টান্দোলন সব মিলিয়ে। এখন আমরা স্কুল আওয়ারটাকে সিক্স ডেইজে উইক করছি। এর মধ্যে জ্বালানি সংকট কারণে আমরা অনলাইন এবং অফলাইন দুটো পদ্ধতি নিয়েই ভাবছি।”

দুই পদ্ধতিতে ক্লাস নেওয়ার বিষয়ে একটি জরিপের কথা তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “ইতিমধ্যে আমরা একটা জরিপ করেছি। সেই সার্ভেতে ৮৫ শতাংশ মানুষ চাচ্ছে, তারা যেন অনলাইনে যায়। কিন্তু পুরোটুরি অনলাইনে যদি যাওয়া হয় আমরা আবার আনসোশাল হয়ে যাব। এটা নিয়ে আমরা ভাবছি।”

স্কুলে 'অনলাইন-অফলাইনদুভাবেই ক্লাস নেওয়ার ভাবনা