Published : 12 Mar 2026, 07:02 PM
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আসামি হওয়া ১৫ সেনা কর্মকর্তার বিচার প্রচলিত সামরিক আইনে করার দাবি তুলেছে বিবাদীপক্ষ।
বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সংবাদ সম্মেলনে এসে আসামিপক্ষের আইনজীবী এ বি এম হামিদুল মিসবাহ এ দাবি জানান।
তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনালে বর্তমানে কর্মরত ১৫ জন সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তিনটি মামলা চলছে। আসামিদের মধ্যে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) তিনজন, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) দশজন এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) দুজন রয়েছেন।
তিনটি মামলার মধ্যে দুটি গুম ও খুন বিষয়ক এবং অপরটি জুলাই-অগাস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের।
এই তিন মামলারই সাক্ষ্য চলছে। ইতোমধ্যে কিছু সাক্ষীর জবানবন্দি ও জেরা শেষ হয়েছে। মামলাগুলোর পরবর্তী শুনানি পর্যায়ক্রমে ২৯ মার্চ, ৩১ মার্চ ও ৭ এপ্রিল হওয়ার কথা।
আদালতের অধিক্ষেত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলে হামিদুল মিসবাহ বলেন, এই মামলাগুলো ট্রাইব্যুনালের অধিক্ষেত্রের মধ্যে পড়ে না। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনার সময় এবং বর্তমানেও কর্মরত সেনা অফিসার।
"তাদের বিরুদ্ধে গুম বা খুনের যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা ‘রোম স্ট্যাটিউট’-এর সংজ্ঞা অনুযায়ী মানবতাবিরোধী অপরাধের আওতায় পড়ে না। এক্ষেত্রে শুধু আইসিটি আইন বিবেচনা করলেই হবে না, এখানে সেনা আইনের প্রয়োগও দেখতে হবে। চাকরিরত কর্মকর্তা হওয়ায় প্রচলিত সেনা আইনেই তাদের বিচার হওয়া সম্ভব ছিল এবং আইনে এখনও সেই সুযোগ রয়েছে।"
আইসিটি আইনের সাম্প্রতিক সংশোধন নিয়ে তিনি বলেন, "সেনা আইন বহাল থাকার পরেও ট্রাইব্যুনালের আইনকে ঘঁষামাজা করে এতে সংশোধন আনা হয়েছে, যা অনেক পুরনো সেনা আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
“আমরা মনে করি, এটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে করা হয়েছে। সেনা কর্মকর্তাদের মামলা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনাটা আইনি কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক।"
তিনি বলেন, কেবল এই বিচার প্রক্রিয়াকে বৈধতা দিতে ২০২৪ সালের ৫ অগাস্টের পর এবং ২০২৫ সালে দুই দফায় আইসিটি আইন সংশোধন করা হয়েছে।
ফৌজদারি মামলার ক্ষেত্রে ‘রেট্রোস্পেক্টিভ ইফেক্ট’ বা ভূতাপেক্ষ কার্যকারিতা দিয়ে আইন প্রয়োগ করাকে ‘নজিরবিহীন’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, "এটি সংবিধান প্রদত্ত নাগরিক অধিকারের পরিপন্থি।"
বর্তমান চিফ প্রসিকিউটরের পূর্ববর্তী মামলাগুলো পর্যালোচনার আশ্বাসকে স্বাগত জানিয়ে ন্যায়বিচারের স্বার্থে পুনঃতদন্তের দাবি জানান হামিদুল মিসবাহ।
সদ্য সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ নির্দেশনায় এই মামলাগুলো 'উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে' করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
অ্যাডভোকেট হামিদুল মিসবাহ বলেন, "সেনাবাহিনী একটি অত্যন্ত সুশৃঙ্খল বাহিনী। কর্মকর্তারা যখন র্যাব, ডিবি বা ডিজিএফআইয়ে ডেপুটেশনে কাজ করেন, তখনও তাদের মূল নিয়ন্ত্রণ বা 'মাদার অর্গানাইজেশন' থাকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।"
তাই তাদের যেকোনো অপরাধ বা শৃঙ্খলার বিচার আর্মি অ্যাক্টেই হওয়া সমীচীন বলে তিনি মনে করেন।