Published : 16 Jul 2026, 07:21 PM
রাজধানীতে শিশু আবীর অপহরণ মামলায় বিচারিক আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মশিউর রহমান মন্টুকে খালাস দিয়েছে হাই কোর্ট।
অপর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মিজানুর রহমান মিজানের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাই কোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেয়।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবীরসহ কয়েকজন আইনজীবী।
অন্যদিকে আসামিপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী অনাবিলানন্দ রায়, এ আর এম কামরুজ্জামান কাকন, মোহাম্মদ অলি মিয়া, তানজিল মাহমুদ ও রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী হাফিজুর রহমান খান।
আসামিপক্ষের আইনজীবী অনাবিলানন্দ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “নিম্ন আদালতের রায়ে মশিউর রহমান মন্টু ও মিজানুর রহমান মিজানের মৃত্যুদণ্ড হয়েছিল। হাই কোর্টের রায়ে মন্টুকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে এবং মিজানের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন করা হয়েছে।
“এছাড়া বিচারিক আদালতে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত অন্য সব আসামিদেরও খালাস দেওয়া হয়েছে।”
আসামিদের খালাসের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “মামলায় মিজানের ভূমিকার সঙ্গে অন্য আসামিদের সম্পৃক্ততা রাষ্ট্রপক্ষ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে পারেনি।”
২০১৯ সালের ১৬ মে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭ এর বিচারক মো. খাদেম উল কায়েস এই মামলার রায় দেন। রায়ে মশিউর রহমান মন্টু ও মিজানুর রহমান মিজানকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া দুইজনকেই ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।
এছাড়া বিচারিক আদালতের রায়ে ছাব্বির আহম্মেদ, কামাল উদ্দীন, কাউছার মৃধা, রেজা মৃধা, আলিম হোসেন চন্দন, রেজাউল করিম, নজরুল ইসলাম, ইকবাল হোসেন শুভ্র এবং আব্দুল্লাহ আল মামুনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।
জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর ও শাহ মো. অলিউল্লাহকে খালাস দিয়েছিল বিচারিক আদালত।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ২ মে রাত সাড়ে ৮টার দিকে আট বছর বয়সি শিশু আবীর উত্তরার মোহাম্মদীয় মাখজানুল উলুম মাদ্রাসা থেকে প্রাইভেটকারে বাসায় ফিরছিল। পথে বনানী ফ্লাইওভারের নিচে মাইক্রোবাসে আসা ১২-১৪ জনের একটি দল তাদের গতিরোধ করে। তারা গাড়িচালক ও কেয়ারটেকারকে নামিয়ে দিয়ে আবীরকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।
পরবর্তীতে অপহরণকারীদের পক্ষ থেকে আবীরের বাবার কাছে ১০ কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরে দুই কোটি টাকায় সমঝোতা হয়। মুক্তিপণের টাকা বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা দেওয়া এবং কুর্মিটোলা হাসপাতালের সামনে নগদে দেওয়ার পর আবীরকে মুক্তি দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় আবীরের মামা মো. এনায়েত উল্যাহ বাদী হয়ে ২০১৫ সালের ১৮ মে ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেন।
র্যাব-১ এর অভিযানে মিজান, রেজাউল, নজরুল, বাবর ও অলিউল্লাহকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাদের কাছ থেকে মুক্তিপণের ১ কোটি ৮০ লাখ ৬৫ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।