৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩

অবৈধ অভিবাসনের ‘গোড়ার কারণ’ খোঁজার তাগিদ মোমেনের

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “বালি প্রসেস যেন কোনোভাবেই ‘সাময়িক উপশমের জন্য ব্যথানাশক’ না হয়।”

অবৈধ অভিবাসনের ‘গোড়ার কারণ’ খোঁজার তাগিদ মোমেনের

অ্যাডিলেডে বালি প্রসেস ফোরামে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 10 Feb 2023, 09:43 PM

Updated : 10 Feb 2023, 09:43 PM

অবৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়ার মূল কারণ খুঁজে বের করতে বিশ্বের নীতি-নির্ধারকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। 

শুক্রবার অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেডে বালি প্রসেস ফোরামের মানবপাচার এবং এ সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক অপরাধ বিষয়ক মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে এ আহ্বান জানান তিনি। 

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “বালি প্রসেস যেন কোনোভাবেই ‘সাময়িক উপশমের জন্য ব্যথানাশক’ না হয়; অবৈধ অভিবাসনের গোড়ার কারণ খুঁজে বের করার উপর গুরুত্ব দেওয়া উচিত।” 

মানবপাচার ও এর সঙ্গে সম্পর্কিত আন্তঃরাষ্ট্রীয় অপরাধ মোকাবেলায় উপায় খুঁজতে ২০০২ সালে ইন্দোনেশিয়ার বালিতে গঠিত ‘বালি প্রসেস ফোরাম’। বাংলাদেশসহ ৪৯টি দেশ ও সংস্থা এই ফোরামের সদস্য।

বালি প্রসেস ফোরামের মন্ত্রী পর্যায়ের অষ্টম বৈঠকে অংশ নিতে অস্ট্রেলিয়া সফর করছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন। 

বৃহস্পতিবার সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, “যুদ্ধ ও সহিংসতা, দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত, ক্রমবর্ধমান বৈষম্য, নিয়মিত অভিবাসনের স্বল্পতা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট উদ্বাস্তু জনগোষ্ঠীর মত সমস্যাগুলো অনিয়মিত অভিবাসন বৃদ্ধিতে অবদান রাখছে। 

“যা বিশ্বের নীতি নির্ধারকদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। সুতরাং বালি প্রসেসকে কার্যকর করতে সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে অনিয়মিত অভিবাসনের মূল কারণ চিহ্নিত করে তা মোকাবিলায় ভূমিকা রাখতে হবে।” 

রোহিঙ্গা সমস্যাকে ‘আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি’ হিসেবে বর্ণা করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে সকল দেশকে সক্রিয়ভাবে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছি।”

‘বালি প্রসেস’ সম্মেলনের ফাঁকে অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওয়াং এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্লেয়ার ও’নীলের সাথে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন। 

তিনি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টিতে অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতা কামনা করেন। 

মানবিক সাহয্যের পাশাপাশি শরণার্থী ভিসা দিয়ে রোহিঙ্গাদের নেওয়ার বিষয়টি অস্ট্রেলিয়া বিবেচনা করতে পারে বলে মন্তব্য করেন মোমেন। 

সম্মেলনে ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথেও তিনি সাক্ষাৎ করেন। এসময় তিনি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আসিয়ান দেশগুলোকে যুক্ত করতে এবং এ বিষয়ে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টিতে ইন্দোনেশিয়ার সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। 

বৃহস্পতিবার অ্যাডিলেডে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের সাথে একটি মতবিনিময় সভাও করেছেন মোমেন।