Published : 29 Jun 2023, 01:24 PM
কোরবানির ঈদের দিন যে ভারী বর্ষণ দেখেছে রাজধানীবাসী, সে অবস্থা আরও অন্তত দুদিন চলবে বলে আভাস মিলেছে।
ঢাকায় বৃহস্পতিবার ঈদের নামাজ পড়তে গিয়ে সবাইকে পড়তে হয় বিড়ম্বনায়, তারপর পশু কোরবানির সময় ভোগান্তি আরও বাড়ে।
মাঝ আষাঢ়ে মৌসুমী বায়ু দেশের বেশিরভাগ অংশের উপর সক্রিয় থাকায় এমন আবহাওয়া জানিয়ে আবহাওয়াবিদ এ কে নাজমুল হক বলেছেন, “এ বৃষ্টির প্রবণতা আরও দুদিন থাকবে। তবে শুক্রবার থেকে চট্টগ্রাম অঞ্চলে বৃষ্টির তীব্রতা কমে আসবে।”
ঢাকায় ঈদের দিন ভোর থেকেই টানা বৃষ্টি চলছে, কখনও ভারী, কখনও হালকা, তবে বৃষ্টি থামছেই না। দিনভর এমন অবস্থা চলবে বলেই পূর্বাভাস মিলেছে।
সকাল থেকে টানা বর্ষণে শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠের অনেক স্থানে পানি জমে কর্দমাক্ত হয়ে পড়ে। কিন্তু এর মধ্যেই মুষলধারে বৃষ্টি মাথায় নিয়ে কয়েক হাজার মানুষ ঈদের নামাজ আদায় করেন। এবারের জামাতটি ছিল এই মাঠের ১৯৬ তম ঈদ জামাত।
ভোর ৬টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ১১৫ মিলিমিটার। আর সকাল ৬টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত ৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
আবহাওয়াবিদ নাজমুল বলেন, দেশের অধিকাংশ এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের এবং কোথাও কোথাও ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ হয়েছে। এরমধ্যে ঢাকা, কুমিল্লা ও খুলনায় বৃষ্টির তীব্রতা ছিল বেশি।
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে কুমিল্লায় ১৫৯ মিলিমিটার। তাপমাত্রা সবচেয়ে বেশি ছিল চট্টগ্রামে ৩৩.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সবচেয়ে কম ছিল যশোরে ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
উত্তর বঙ্গেপসাগরে মৌসুমী বায়ু প্রকবল থাকায় সমুদ্রবন্দরগুলোকে ৩ নম্বর সতর্কতা সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। তবে ঝড়ো হাওয়ার শঙ্কা কেটে গেলে সংকেত নামিয়ে ফেলা হতে পারে।
আগামী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঢাকাসহ দেশের সব বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হতে পারে। তবে কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে।
ঢাকায় বৃষ্টির কারণে কোরবানির বর্জ্য আর জল-কাদায় একাকার হয়েছে বিভিন্ন এলাকা। তবে সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা এরই মধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছেন।
জলাবদ্ধতা নিরসনে ডিএনসিসির কুইক রেসপন্স টিম ড্রেন পরিষ্কার করে পানি প্রবাহ নিশ্চিত করছে বলে জানান হয়েছে।
কোথাও কোনো পানি জমে থাকলে ‘সবার ঢাকা’ অ্যাপের মাধ্যমে ছবি তুলে লোকেশন উল্লেখ করে জানানোর জন্য নাগরিকদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে ডিএনসিসি। এছাড়া ডিএনসিসির হটলাইন ১৬১০৬ নম্বরে ফোন করেও জানানো যাবে।