Published : 26 Apr 2026, 05:34 PM
সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক কর্মকর্তা মাঞ্জিল হায়দার চৌধুরীকে আবার চার দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান এ আদেশ দেন।
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই শাহ আলম এ তথ্য দিয়েছেন।
এর আগে মাঞ্জিল হায়দারকে হত্যা মামলায় তিন দফা ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় এক দফা মিলিয়ে ১৭ দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়।
রাজধানীর মহাখালীর ডিওএইচএস এলাকা থেকে ৯ এপ্রিল মাঞ্জিল হায়দারকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এরপর ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদ নিহতের ঘটনায় নিউ মার্কেট থানার মামলায় তাকে তিন দফায় ১২ দিনের রিমান্ডে পায় পুলিশ।
২২ এপ্রিল রমনা মডেল থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে মাঞ্জিল হায়দারকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠায় আদালত।
রিমান্ড শেষে রোববার তাকে আদালতে হাজির করে এই মামলায় দ্বিতীয় দফায় সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা-ডিবির রমনা জোনাল টিমের পরিদর্শক আমজাদ হোসেন তালুকদার।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি শামছুদ্দোহা সুমন রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে অনেক তথ্য পাওয়া গেছে, যেগুলো সম্পূর্ণ নয়। তারাই বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সেই সময় (এক-এগারো) নির্যাতন করেছেন। আজকের মামলায় তার সঙ্গে আর কারা সম্পৃক্ত, এসব বের করতে আরো রিমান্ড দরকার।”
আসামিপক্ষের আইনজীবী কামাল হোসেন রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। তিনি বলেন, “মাঞ্জিল হায়দারকে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার করে টানা ১২ দিন রিমান্ডে রাখেন তদন্ত কর্মকর্তা। সেখানে থাকাকালে আবার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ডে নেওয়া হয়। মামলার অভিযোগের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।”
তিনি ২১ বছর সেনাবাহিনীতে চাকরি করেছেন তুলে ধরে আইনজীবী কামাল বলেন, “আওয়ামী লীগের আমলে মেজর পদে থাকতে হতো না তার, যদি অসৎ উদ্দেশ্য থাকত। তিনি অসুস্থ, হার্টে ব্লক আছে।”
এছাড়া অভুত্থানের সময় সেনাবাহিনী যে তার বিপক্ষে দাঁড়ায়নি সে কথা তুলে ধরে সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাঞ্জিল হায়দারের জামিন প্রার্থনা করেন তার আইনজীব।
শুনানি শেষে আদালত মাঞ্জিল হায়দারের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদেশ দেয়।
মামলার বিবরণীতে বলা হয়েছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের সদস্যরা গত বছরের ১২ সেপ্টেম্বর দুপুরে রমনা থানাধীন রূপায়ণ টাওয়ারের সামনে মিছিল করে। এ সময় তারা সরকারবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি সরকার তথা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও ক্ষতি সাধনের লক্ষ্যে অপপ্রচার করছিল। ঘটনাস্থলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আসামিরা পালানোর চেষ্টা করে। কয়েকজনকে সেখান থেকে আটক করা হয়।
এ ঘটনায় ওই দিনই রমনা মডেল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করে পুলিশ।