Published : 15 Jan 2026, 12:04 PM
সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটের ডোমেইন বন্ধ, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাকে গালিগালাজ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে মগবাজার টেলিফোন এক্সচেঞ্জের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার জয়ীতা সেন রিম্পীসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে ঢাকার আদালতে মামলা হয়েছে।
বুধবার ঢাকার মহানগর হাকিম মো. হাসান শাহাদাতের আদালতে বুধবার মামলাটি করেন ইউনিভার্সিটি অব স্কিল এনরিচমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজির উপদেষ্টা মুহা. তাজুল ইসলাম। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে সিআইডিকে প্রতিবেদন দিতে বলেছে।
এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার কোর্ট রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলনে করেন বাদী তাজুল ইসলাম।
তিনি বলেন, “বুধবার আদালতে এ মামলা করা হয়। বৃহস্পতিবার আদেশের বিষয়ে জানতে পেরেছি।”
মামলায় মগবাজার টেলিফোন এক্সচেঞ্জের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডোমেইন) মোস্তফা আল মাহমুদ, অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার (ডোমেইন) আবীর কল্যাণ আবেদীন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সহকারী সচিব (বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়-২) শাহ আলম সিরাজ ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. রাকিবুজ্জামান মাসুদকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ডে অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অব স্কিল এনরিচমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজ কর্তৃপক্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি ওয়েবসাইট (www.uset.ac.bd) ও (www.uset.edu.bd) পরিচালনা করেন। অ্যাডমিন প্যানেলের পাসওয়ার্ড যেন কাউকে না দেওয়া হয়, সেজন্য ২০২৫ সালের ১৫ এপ্রিল বিটিসিএলকে চিঠি দিয়ে অনুরোধ করেছিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

এজাহারে বলা হয়, ডোমেইন বিষয়ে আপত্তি এসেছে জানিয়ে ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়েকে চিঠি দেওয় হয়। অভিযোগ শুনানি বাবদ ২৩ হাজার টাকা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নথিপত্র ৩০ নভেম্বরের মধ্যে জমা দিতে বলা হয়। সেদিন পে-অর্ডারসহ কাগজপত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে জমা দিতে গিলে তা গ্রহণ না করে আসামিরা ফেরত দেন। বলেন, ডিমান্ড নোট অনুসারে ২৭ নভেম্বর টাকা জমা দেওয়ার মেয়াদ চলে গেছে।
বাদীর ভাষ্য, আসামিদের ‘নিরপেক্ষতার’ ঘাটতি দেখে এবং ন্যায় বিচার পাওয়ার সম্ভাবনা নেই আঁচ করে তাদের দুরভিসন্ধমিূলক কার্যকলাপের প্রতিকার চেয়ে ও ডোমেইন বন্ধ না করার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন দায়ের করা হয়।
মামলায় বলা হয়েছে, এর মধ্যে বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য তাজুল ইসলাম গত ১৫ ডিসেম্বর জয়ীতা সেন রিম্পীর সঙ্গে তার কার্যালয়ে কথা বলতে যান। তবে রিম্পী প্রচন্ডভাবে ক্ষুদ্ধ হয়ে তাকে গালিগালাজ করে এবং বিটিসিএলের বারান্দায় যেন কোনোদিন না দেখে বলে হুমকি দেন। তাছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবাসইটও বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দেন।
বাদী তাজুলের ভাষ্য, রিম্পী হাই কোর্টে দায়ের করা রীট পিটিশনের ল’ইয়ার্স সার্টিফিকেট রিসিভ করেননি এবং আবেদন গ্রহণ শাখার কর্মচারীকে আবেদন গ্রহণ না করার জন্য বারণ করেন।
এজাহারে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি, ল’ইয়ার্স সার্টিফিকেট গ্রহণ না করে দাপ্তরিক কাজে অসহযোগিতার বিষয়ে তাজুল ইসলাম তার আইনজীবীর মাধ্যমে গত ১৮ ডিসেম্বর লিগ্যাল নোটিস পাঠান। এরপর আসামিরা ১১ জানুয়ারি বেলা ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি ডোমেইন বন্ধ করে দেয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে বলে মামলায় বলা হয়েছে।