Published : 05 May 2026, 04:01 PM
ইসলামি বক্তা শায়খ মিজানুর রহমান আজহারীর ছবি ও কণ্ঠ ব্যবহার করে ‘ডিপফেইক’ ভিডিও তৈরি এবং যৌন উত্তেজক পণ্য বিক্রির মাধ্যমে প্রতারণার মামলায় দুই আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে দআদালত।
তবে মামলার অপর ৮ আসামির রিমান্ড ও জামিন আবেদন নামঞ্জুর হয়েছে।
ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জুনাইদ শুনানি নিয়ে মঙ্গলবার এ আদেশ দেন।
রিমান্ডের আদেশ পাওয়া দুজন হলেন- মো. সারাফাত হোসেন ও মো. শাফায়েত হোসেন শুভ।
বাকিরা হলেন -শাহাদাত তৌফিক, মো. ইমাম হোসেন বিজয়, মো. রফিকুল হাসান, মিনহাজুর রহমান শাহেদ, তৌকি তাজওয়ার ইলহাম, অমিদ হাসান, মো. আব্দুল্লাহ ফাহিম এবং মো. ইমরান।
প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই রুকনুজ্জামান এ তথ্য জানিয়েছেন।
গত ২৩ এপ্রিল বিলাল হোসেন নামে এক ব্যক্তি বাদী হয়ে রাজধানীর পল্টন মডেল থানায় সাইবার নিরাপত্তা আইনে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার পর ডিএমপির পল্টন মডেল থানা ও সিএমপির বায়েজিদ বোস্তামী থানা পুলিশ চট্টগ্রামের শেরশাহ কলোনি এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তার করে।
তারা দেশের বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা হলেও চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকার একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে এই চক্রটি পরিচালনা করতেন। গত ২৫ এপ্রিল তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্টন মডেল থানার এসআই সামিম হাসা দশ আসামির ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।
আসামিদের পক্ষে আইনজীবী মোসলেহ উদ্দিন জসীমসহ কয়েকজন আইনজীবী রিমান্ড বাতিল করে জামিন প্রার্থনা করেন; রাষ্ট্রপক্ষ থেকে এর বিরোধিতা করে।
শুনানি নিয়ে আদালত দুই আসামির রিমান্ড এবং ৮ জনের রিমান্ড ও জামিনের আবেদন নাকচ করে দেয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, “আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে ডিজিটাল জালিয়াতি চালিয়ে আসছিল। তারা জনপ্রিয় ইসলামি বক্তা শায়খ মিজানুর রহমান আজহারীর ছবি ও কণ্ঠ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে সংগ্রহ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ডিপফেইক প্রযুক্তির সাহায্যে তার চেহারা ও কণ্ঠ হুবহু নকল করত। পরবর্তীতে সেই ভুয়া ভিডিওতে আজহারীর কণ্ঠ ব্যবহার করে ‘ইউরোসিন’ নামক একটি যৌন উত্তেজক ওষুধের প্রচারণা চালানো হত।”
বাদী এজাহারে বলেন, “সাধারণ মানুষ আজহারীর কথায় বিশ্বাস করে এসব পণ্যকে সত্য মনে করে অর্ডার দিতেন। আসামিরা ‘আজহারী শপ’, ‘ডক্টর সেবা’, ‘হালাল শপ’সহ প্রায় ২৪টিরও বেশি ভুয়া ফেইসবুক পেজ এবং ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এসব ভিডিও বুস্ট করে প্রচারণা চালাত। এরপর ‘পাঠাও’ ও ‘স্টিডফাস্ট’ কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ক্যাশ অন ডেলিভারিতে পণ্য পাঠিয়ে সাধারণ গ্রাহকদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিত তারা।”
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আজহারী বর্তমানে দেশের বাইরে থাকার সুযোগ নিয়ে এই চক্রটি তার নাম ও পরিচিতি ব্যবহার করে ধর্মীয় আবেগকে পুঁজি করে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে এই অপরাধ করে আসছিল।