Published : 19 Apr 2026, 09:14 PM
দেশে গৃহকর্মীদের নিবন্ধন কেন বাধ্যতামূলক করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাই কোর্ট।
সেইসঙ্গে বিদ্যমান ‘দ্য ডোমেস্টিক সার্ভেন্টস রেজিস্ট্রেশন অর্ডিন্যান্স ১৯৬১’ অনুযায়ী এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের ‘নিষ্ক্রিয়তাকে’ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে।
একটি রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি করে বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর বেঞ্চ রোববার এ আদেশ দেয়।
আদালত সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে এই রুলের জবাব দিতে বলেছে।
‘জনস্বার্থে’ এই রিট মামলা দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোসা. খাদিজাতুল কোবরা।
তিনি বলেন, “আদালত কোনো অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেননি। বিবাদীদের জবাব পাওয়ার পর আদালতের কাছে পরবর্তী নির্দেশনার জন্য আবেদন করা হবে।”
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে রিট মামলায় বিবাদী করা হয়েছে।
আবেদনে বলা হয়, দেশে গৃহকর্মীদের একটি বড় অংশ আনুষ্ঠানিক আইনি সুরক্ষা, চুক্তি, বা পরিচয়পত্র ছাড়াই কাজ করছে। ২০১৫ সালে সরকার ‘গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণ নীতি’ গ্রহণ করলেও এর কোনো কার্যকর নিবন্ধন, তদারকি বা প্রয়োগ ব্যবস্থা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।
এছাড়া ১৯৬১ সালের ‘ডোমেস্টিক সার্ভেন্টস রেজিস্ট্রেশন অর্ডিন্যান্স’-এ গৃহকর্মীদের বাধ্যতামূলক নিবন্ধন, রেজিস্ট্রেশন কার্ড ইস্যু এবং নিবন্ধন ছাড়া কাজের ওপর নিষেধাজ্ঞার স্পষ্ট বিধান রয়েছে।
কিন্তু এ আইন নির্দিষ্ট কিছু এলাকার বাইরে দেশব্যাপী সম্প্রসারণের পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, যার ফলে এটি কার্যত অকার্যকর হয়ে আছে।
আবেদনে আরো বলা হয়, একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ডেটাবেজ এবং নিবন্ধন ব্যবস্থা না থাকায় গৃহকর্তারা গৃহকর্মীদের সঠিক পরিচয় ও অতীত রেকর্ড সম্পর্কে জানতে পারেন না। ফলে অপরাধমূলক ঘটনার ক্ষেত্রে পুলিশি তদন্ত ও অপরাধী শনাক্তকরণে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটে।
সম্প্রতি রাজধানীর মোহাম্মদপুরে একজন গৃহকর্মীর বিরুদ্ধে মা ও মেয়েকে (লায়লা আফরোজ এবং নাফিসা নাওয়াল বিনতে আজিজ) হত্যার অভিযোগ ওঠার ঘটনা তুলে ধরা হয় রিট আবেদনে।
সব পক্ষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গৃহকর্মীদের জাতীয় পরিচয়পত্রের সাথে যুক্ত করে একটি বাধ্যতামূলক নিবন্ধন ব্যবস্থা তৈরি, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ডেটাবেজ গঠন এবং ব্যাকগ্রাউন্ড চেকের কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আরজি জানানো হয়েছে রিট আবেদন।
একইসঙ্গে গৃহকর্মীদের অধিকার, আইনি সুরক্ষা এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য জেলাভিত্তিক মনিটরিং ব্যবস্থা চালুর সুপারিশ করা হয়েছে।