সাবেক মন্ত্রীর ‘নির্দেশে’ ইউপি অফিসে তালা, অভিযোগ চেয়ারম্যানের

চেয়ারম্যানের অভিযোগ, "৩৫-৪০ জন অস্ত্রধারী লাঠিসোটা নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে। তারা চেয়ারম্যান কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেয়।”

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 27 July 2022, 12:58 PM
Updated : 27 July 2022, 12:58 PM

সাবেক রেলমন্ত্রী মুজিবুল হকের নির্দেশে পাঁচ মাস ধরে ইউপি অফিসে তালা আটকে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন চৌদ্দগ্রামের শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শাহ জালাল মজুমদার।

বুধবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, "বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে বিচার প্রার্থনা করেছি।"

তবে অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে ওই ঘটনাকে ‘দুই চাচাতো ভাইয়ের দেনা-পাওনার দ্বন্দ্ব’ বলে জানিয়েছেন সাবেক রেল মন্ত্রী ও কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের সংসদ সদস্য মুজিবুল হক।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শাহ জালাল দাবি করেন, গত বছর ডিসেম্বরে ইউপি নির্বাচনে পছন্দের মেম্বার প্রার্থী হেরে যাওয়ায় সাবেক মন্ত্রী মুজিবুল হকের অনুসারীরা ইউনিয়ন পরিষদে তালা দেন।

"এলাকার সংসদ সদস্য আমাকে ফোনে নির্দেশ দেন আমি যেন আমার ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডে এমপি সাহেবের ভাতিজা তোফায়েলসহ পরিবারের সদস্যদের পছন্দের মেম্বার প্রার্থী মনির হোসেনকে নির্বাচিত করতে সহযোগিতা করি।

"মনির হোসেনকে নির্বাচিত করতে না পারায় এমপি সাহেব ও ওনার ভাতিজারা মিলে যুবদলের ক্যাডার সন্ত্রাসী জুয়েলসহ স্থানীয় কিছু দুষ্ট প্রকৃতির লোককে দিয়ে আমাকে বিভিন্নভাবে অপমান অপদস্ত করার নানা রকম চক্রান্ত ষড়যন্ত্র শুরু করে।

“প্রকাশ্যে বিভিন্ন সভা সমাবেশে বক্তব্য দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে যেতে নিষেধ করে। চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করার জন্য বারবার হুমকি প্রদান করতে থাকে, না হয় আমাকে পদত্যাগে বাধ্য করা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়।”

এছাড়া লোকাল গভর্নেন্স সাপোর্ট প্রজেক্টের (এলজিএসপি) জন্য সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ৯টি ওয়ার্ডে সভার তারিখ এবং স্থান নির্ধারণ করলে তাকে কোনো ওয়ার্ড সভা করতে দেওয়া হবে না বলে ঘোষণা দেওয়া হয় বলে জানান তিনি।

একপর্যায়ে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি ইউনিয়ন পরিষদে হামলা চালিয়ে তার কক্ষে তালা দেওয়া হয় বলে জানান চৌদ্দগ্রামের ৪ নং শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ জালাল।

"যুবদল ক্যাডার, বিভিন্ন মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি মনিরুজ্জামান জুয়েলের নেতৃত্বে স্থানীয় এমপির ভাতিজা ইউসুফ, আহসান, খোকন ও পরিবারের সদস্যরাসহ ৩৫-৪০ জন অস্ত্রধারী লাঠিসোটা নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে।

"তারা চেয়ারম্যান কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেয়। যা এখনো পর্যন্ত তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। ওই দিন আমি ইউনিয়ন পরিষদের ছিলাম না। যে কারণে আমি প্রাণে বেঁচে যাই।।"

হত্যার হুমকি এবং পদত্যাগ করার নির্দেশ দিয়ে সন্ত্রাসীরা চলে যায় জানিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, এর দুই মাস পর গত ১৪ জুলাই একটি অনুষ্ঠান থেকে বাড়ি ফেরার পথে আবারও তার উপর হামলা হয়।

“স্থানীয় নালঘর বাজারে পৌঁছলে হঠাৎ এমপির আশির্বাদপুষ্ট যুবদল ক্যাডার মোস্তফা মনিরুজ্জামান জুয়েলের নেতৃত্বে ৭/৮ জন সন্ত্রাসী অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আমার ওপর ফের হামলা চালায়।

"এ সময় সন্ত্রাসী জুয়েল আমাকে গুলি করার নির্দেশ দিতে থাকে। যখন একের পর এক গাড়ির গ্লাস ভাঙতে শুরু করে আমি বাঁচার তাগিদে আর্তচিৎকার করতে থাকি এবং গাড়ি থেকে নেমে দৌড়ে পার্শ্ববর্তী সামাদ মেম্বারের বাড়িতে আশ্রয় নেই।

Also Read: কুমিল্লায় অস্ত্র হাতে ভাইরাল সেই জুয়েল গ্রেপ্তার

"এ সময় সন্ত্রাসীরা গাড়ির চালক আমজাদ হোসেনকে বেদম মারধর করে গাড়িটি সম্পূর্ণরূপে ভেঙে চুরমার করে ফেলে।”

শাহজালালের অভিযোগ, এই হামলার পরও সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে কোন প্রকার ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো তাকে প্রধান আসামি করে তথ্য প্রযুক্তি আইনে মামলা করা হয়েছে।

"উল্টো আমাকে ১ নম্বর আসামি করে আমার আরও ৫ জন কর্মীকে আসামি করে মিথ্যা বানোয়াট তথ্য দিয়ে আমার বিরুদ্ধে তথ্য প্রযুক্তি আইনে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।”

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ করেছেন কি না- জানতে চাইলে চেয়ারম্যান বলেন, “মুজিব ভাই আমাদের সবার অভিভাবক, আমি মনে করেছিলাম তিনি নিজেই ওনার ভাতিজাদের ডেকে তালা খুলে দেবেন।

"কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় আমি বাধ্য হয়ে আমাদের জেলার ডিসি সাহেবের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।”

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের সংসদ সদস্য মুজিবুল হক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ইউনিয়ন পরিষদে তালা লাগানো হয়েছে টাকা পয়সা পাওনা-দাওনা নিয়ে। এখানে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ কেন? আমি এখানে নাই।”

তালা দেওয়ার অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, “আমি শাহাজালালকে বহু সুযোগ-সুবিধা দিয়েছি, এখন বেঈমানি করছে। আসলে জুয়েল ও চেয়ারম্যান শাহজালাল চাচাত ভাই। এটা ভাইয়ে-ভাইয়ে পাওনা-দাওনার দ্বন্দ্ব।

“এটাতে যদি রাজনীতি আনে তাইলে তো আর কিছু নেই। জুয়েল আমার কর্মী, সেটা পরে; তারা আপন চাচাত ভাই। ভাইয়ে-ভাইয়ে দ্বন্দ্ব; শাহজালাল ও জুয়েল কারও বিরুদ্ধে বা পক্ষেও আমি বলি নাই।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক