১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

‘অবৈধ সম্পর্কের পর বিয়েতে রাজি না হওয়ায়’ খুন হন ব্যবসায়ী নজরুল

গত বুধবার চকবাজারের পোস্তা এলাকার বাসা থেকে ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 08 Dec 2024, 03:43 PM

Updated : 26 Aug 2026, 11:04 AM

পুরান ঢাকার চকবাজারে নিজ বাসায় ব্যবসায়ী নজরুল ইসলামকে খুনের ঘটনায় সাবিনা আক্তার নামের একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

চাকরি দেওয়ার আলোচনার সূত্রে মাসখানেক আগে দুইজনের পরিচয় হয় জানিয়ে পুলিশ বলছে, চাকরি না দেওয়া ও পরিচয়সূত্রে সম্পর্ক হলেও বিয়েতে রাজি না হওয়ার জেরে ব্যবসায়ীকে খুন করা হয়।

লাশ উদ্ধারের দুই দিন আগে তাকে খুন করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। 

লালবাগের আলীনগরে ‘নজরুল ইন্জিনিয়ারিং’ নামের ওয়ার্কশপ চালাতেন নজরুল। 

গত বুধবার চকবাজারের পোস্তা এলাকার ৬৬১ নম্বর এশিয়া টাওয়ারের পঞ্চম তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে হাত, পা ও মুখ বাঁধা এবং পুরুষাঙ্গ কাটা অবস্থায় ৪৬ বছর বয়সী নজরুল ইসলামের লাশ উদ্ধার করে চকবাজার মডেল থানা পুলিশ।

ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ফুলদানির ভাঙা অংশ, ধারালো চাকু ও অন্যান্য আলামত জব্দ করা হয়। 

একইদিন চকবাজার মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন নিহতের বড় ভাই মো. তহিদুল ইসলাম ওরফে তাপস।

পুরান ঢাকার ওই ভবনের নিরাপত্তাকর্মীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাপস ওইদিন বলেছিলেন, গাজীপুরে ব্যবসার মালামাল সন্ত্রাসীরা আটকে রেখেছে বলে সেখানে যাওয়ার কথা বাসার নিরাপত্তাকর্মীদের জানিয়েছিলেন তার ভাই।

ভবনের নিরাপত্তাকর্মীদের ভাষ্য, তারা নজরুলকে বাসা থেকে বের হতে দেখলেও ফিরতে দেখেননি।

ঘটনার আগে শুক্রবার নরসিংদীতে নজরুলের বোনের বাসায় যান তার স্ত্রী ও সন্তানরা। সোমবার থেকে তাকে ফোনে পাচ্ছিল না পরিবার। পরে ঢাকায় ফিরে এসে তার নজরুলের ছেলে সুমিত চাচা তাপসকে নিয়ে চকবাজার ও লালবাগ থানায় গিয়েছিলেন জিডি করতে। 

জিডি করতে না পেরে রাতে বাসায় ফিরে বাবার লাশ আবিষ্কার করেন সুমিত।  

মামলার তদন্তে নেমে ঘটনাস্থলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ২৫ বছর বয়সী সাবিনা আক্তারকে শনাক্ত করার পর শনিবার যশোরের বাঘারপাড়ার মির্জাপুর মধ্যপাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

রোববার দুপুরে মিন্টু রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের লালবাগ বিভাগের উপ কমিশনার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন বলেন, গ্রেপ্তার সাবিনা জিজ্ঞাসাবাদে নজরুলকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তার কাছ থেকে নিহত নজরুলের ব্যবহৃত দুইটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, “ঘটনার প্রায় এক মাস আগে এক ব্যক্তির মাধ্যমে চাকরির জন্য নজরুল ইসলামের সঙ্গে সাবিনার পরিচয় হয়। পরিচয়ের এক পর্যায়ে তারা অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন।

“স্ত্রী-সন্তানরা বাসায় না থাকায় নজরুল ইসলাম গত ২ ডিসেম্বর রাতে সাবিনাকে ডেকে নেন। সেদিন চাকরি ও বিয়ে নিয়ে তাদের মধ্যে বাক-বিতণ্ডার এক পর্যায়ে ভোর ৫ টার দিকে নজরুলকে শিল দিয়ে মাথা ও মুখে গুরুতর আঘাত করেন ও মুখে বালিশ চাপা দেন সাবিনা।”

উপকমিশনার জসীম বলেন, “নজরুল নিস্তেজ হয়ে পড়লে হাত, পা ও মুখ বেঁধে ধারালো চাকু দিয়ে পুরুষাঙ্গ কেটে তার মৃত্যু নিশ্চিত করেন সাবিনা।”

গ্রেপ্তার সাবিনার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে হত্যায় ব্যবহৃত রক্তমাখা শিল এবং ঘটনার দিন তার পরিহিত বোরকা উদ্ধার করেছে বলেও জানান তিনি।

বের হলেন গাজীপুর যাওয়ার কথা বলে, পরে ঘরেই মিলল ব্যবসায়ীর লাশ