Published : 02 Mar 2026, 09:12 PM
ইরানে হামলার ঘটনাকে ‘ভয়াবহ’ অভিহিত করে বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিকে ‘খুব কঠিন’ হিসেবে মন্তব্য করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সোমবার বিকালে ধানমন্ডিতে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “আমরা এখন একটা খুব কঠিন সময়ে বাস করছি, যে সময়টা খুবই অস্থির। বিশ্ব রাজনীতিতে ভয়াবহ নৈতিকতার অভাব।
“বিনা কারণে একটি দেশের সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপ, বিনা কারণে একটি দেশের প্রধানকে, একটি মতবাদের প্রধানকে হত্যা করা, একটা স্বাধীন রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে তুলে নিয়ে গিয়ে জেলে পুড়ে দেওয়া…এক ভয়াবহ বিশ্ব।”
ইন্সটিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (আইএসটি) মিলনায়তনে প্রয়াত অধ্যাপক শাহিদা রফিকের স্মরণে এ অনুষ্ঠান হয়।
মির্জা ফখরুল বলেন, “আমরা যারা কিছুটা পুরনো মানুষ, আমরা বেড়ে উঠেছি গণতান্ত্রিক একটা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে, চিন্তার মধ্য দিয়ে। আমাদের ধ্যান-ধারণা, চিন্তা-ভাবনার মধ্যে সবসময় গণতান্ত্রিক চিন্তাভাবনাই আছে।
“আমরা মানবিক মূল্যবোধে বিশ্বাস করি, আমরা মানবতায় বিশ্বাস করি, আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি, আমরা প্রতিটি রাষ্ট্রের স্বাধীনতাতে বিশ্বাস করি। এরকম মানুষগুলো আমরা এখন অত্যন্ত কষ্টে আছি। চতুর্দিককার অবস্থা দেখে আমরা কেমন যেন হতাশ হয়ে পড়ছি।”
তিনি বলেন, “বাংলাদেশেও ঠিক একইভাবে অস্থিরতার মধ্য দিয়ে আমরা এগিয়ে চলেছি। আল্লাহর কাছে হাজারো শুকরিয়া জানাই যে, আল্লাহর অশেষ রহমতে বাংলাদেশের মানুষ এখনো সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে বিচলিত হয় না, দ্বিধা করে না।”
গেল বছরের ২ মার্চ ৭৭ বছর বয়সে মৃত্যু হয় শাহিদার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষক বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ছিলেন।
ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যানও ছিলেন শাহিদা। তার স্বামী রফিকুল ইসলাম মিয়া ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য।
শাহিদা রফিকের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “তিনি ছিলেন সেই জাতের একজন মানুষ, যিনি সত্যকে সত্য বলতেন, কালোকে কালো বলতেন, ন্যায়কে ন্যায় বলতেন, অন্যায়কে অন্যায় বলতেন।
“আমার প্রায় মনে পড়ে, একসঙ্গে কাজ করেছি দীর্ঘদিন। তিনি রাজপথে আমার সঙ্গে হেঁটেছেন, স্লোগান দিয়েছেন, তার বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা হয়েছিল। সবগুলোকে মোকাবেলা করে তিনি কিন্তু সামনের দিকে এগিয়ে গেছেন।”