Published : 08 Oct 2025, 11:23 PM
তিনটি খামের মাধ্যমে পোস্টাল ব্যালটে প্রবাসীদের ভোটদানের বিষয়টি তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টার আইসিটি ব্ষিয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেছেন, এটি ‘সম্পূর্ণ নিরাপদ’ এবং এতে গোপনীয়তা ‘অটুট’ থাকবে।
বুধবার ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “এটি বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে আরো সুদৃঢ় করার এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ।”
‘বিশ্ব ডাক দিবস’ উদযাপন উপলক্ষ্যে আগারগাঁওয়ের ডাক অধিদপ্তর প্রাঙ্গণে এই সংবাদ সম্মেলনের বিষয়টি তথ্য বিবরণীতে জানানো হয়েছে।
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার এই বিশেষ সহকারী বলেছেন, “বাংলাদেশ ডাক বিভাগ দেশের অন্যতম প্রাচীন ও জনগণের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত একটি প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে ৯ হাজার ৮৪৮টি ডাকঘরের মাধ্যমে প্রায় ৪০ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী সারা দেশে জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিচ্ছেন।”
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য প্রথমবারের মতো পোস্টাল ব্যালট সেবা চালুর ক্ষেত্রে গোপনীয়তা রক্ষা হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এটি বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে আরো সুদৃঢ় করার এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। মূলত তিনটি খামের মাধ্যমে প্রবাসীদের ভোটদান সম্পন্ন করা হবে। ফলে প্রবাসীদের ভোট প্রদান নিরাপদ হবে এবং গোপনীয়তা অটুট থাকবে।”
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ডাকযোগে ভোটদানের প্রক্রিয়া সহজ করছে নির্বাচন কমিশন।
বিদেশে ব্যালট পাঠানো ও বিদেশ থেকে আনাসহ অন্যান্য খরচ মিলিয়ে প্রায় ৪০০ কোটি টাকার উদ্যোগ নিয়েছে কমিশন। এতে প্রথমবারের মত তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর পোস্টাল ভোটিং পদ্ধতি চালু করা হচ্ছে।
পোস্টাল ভোটিং সহজ করতে একটি অ্যাপ চালু করছে ইসি। প্রাবাসী ছাড়াও নির্বাচনি এলাকার বাইরে থাকা ভোটাররাও সেই অ্যাপে নিবন্ধন করে এবার ভোট দিতে পারবেন।
বিশেষ সহকারী বলেন, “বাংলাদেশ ডাক বিভাগ এখন কেবল বার্তা বিনিময়ের মাধ্যম নয়, বরং ডিজিটাল যুগের এক আধুনিক ও নির্ভরযোগ্য সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান। ডাকযোগে ভূমি, পাসপোর্ট, স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স সেবা এখন নাগরিকদের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাচ্ছে।
“নাগরিকের ঠিকানার ডিজিটাল রূপান্তরে সরকারি-বেসরকারি যৌথ অংশদারিত্বে ‘জিও ফেন্সিং’ করার পাশাপাশি ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার পাইলট প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে ‘সেন্ট্রাল লজিস্টিক ট্রাকিং প্লাটফর্মের’ মাধ্যমে ই-কমার্সের জালিয়াতি রোধ করা হবে। আগামী মাস নাগাদ এই প্রকল্পটি চালু হবে। এআই ও অটোমেশন সংযোজন করে ডাক সেবার গতি ও মান বাড়ানো হবে। এছাড়া ডিজিটাল আর্থিক অন্তর্ভুক্তির পথ সুগম হবে।”
সংবাদ সম্মেলনে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব আব্দুন নাসের খান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী, ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এস এম শাহাবুদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।