শাহজালালে পেটে করে ৭ কেজি ‘সোনার ডিম’ এনে ধরা চারজন

তিনজন প্রাকৃতিক উপায়ে তা বের করে দেন; একজনকে হাসপাতালে নিয়ে পেট থেকে ডিমের মত দেখতে সোনার বল বের করা হয়।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 2 Dec 2023, 03:43 PM
Updated : 2 Dec 2023, 03:43 PM

ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দরে পৃথক ফ্লাইটে দুবাই থেকে আসা চারজনের কাছ থেকে প্রায় সাত কেজি সোনা উদ্ধার করা হয়েছে।

এসব যাত্রী পেটের ভেতরে টেপ দিয়ে পেঁচানো ডিম আকৃতির সোনার বল বহন করছিলেন। ডিম্বাকৃতির ওই বলে অর্ধতরল সোনা আছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শুক্রবার গভীর রাতে ও শনিবার ভোরের দিকে পৃথকভাবে তাদের গ্রেপ্তারের পর শনিবার চারজনের মধ্যে তিনজন প্রাকৃতিক উপায়ে সেই ‘ডিম’ বের করে দেন; একজনকে হাসপাতালে নিয়ে পেট থেকে সোনার বল বের করতে হয়।

তাছাড়া তাদের কাছ থেকে কিছু স্বর্ণালঙ্কারও উদ্ধার করার কথা জানান বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জিয়াউল হক।

উদ্ধার করা ছয় কেজি ৯৫৬ গ্রাম সোনার দাম প্রায় সাত কোটি টাকা উল্লেখ করে তিনি জানান, শুক্রবার রাত আড়াইটার দিকে অবতরণ করা এমিরেটসের ফ্লাইটে ঢাকায় নামেন যাত্রী জসীম উদ্দিন (৪৭), লিটু মিয়া (৩৯) ও জুম্মন খান (৪৫)।

তারপর ভোর ৫টায় ইউএস-বাংলার আরেকটি ফ্লাইটে নামেন আলী হোসেন নামের এক যাত্রী।  

জিয়াউল জানান, বিমানবন্দরে নামার ওপর তাদের নজরদারি করে একটি গোয়েন্দা সংস্থা, কাস্টমস ও এপিবিএন’র কর্মকর্তারা। পরে তাদের আটক করে জানতে চাওয়া হয়, তাদের কাছে শুল্কযোগ্য কোনো পণ্য আছে কি না।

তিনি বলেন, “তারা অস্বীকার করলে তল্লাশি করেও কিছু পাওয়া যায়নি। পরে উত্তরার হলি ল্যাব ডায়গনেস্টিক সেন্টারে পাঠিয়ে এক্সরে করলে পেটের ভেতর ডিম্বাকৃতির বস্তুর অস্তিত্ব পাওয়া যায়। পরে তাদের বিমান বন্দরে ফিরিয়ে আনা হলে তিনজন প্রাকৃতিক কর্মের মাধ্যমে ডিম্বাকৃতির স্বর্ণের পেস্ট বের করে দেন।”

আরেকজনকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসকের সহায়তায় সোনার ‘ডিম’ বের করা হয় বলে জানান পুলিশ কর্মকর্তা জিয়াউল।

তিনি জানান, আলী হোসেনের পেট থেকে ৮৮০ গ্রাম ওজনের তিনটি ‘সোনার ডিম’, একটি সোনার বার (বিস্কুট) এবং অলংকারসহ মোট ১ কেজি ৯৪ গ্রাম স্বর্ণ পাওয়া যায়। জসীম উদ্দিনের কাছ থেকে প্রায় দুই কেজি ওজনের নয়টি সোনার ‘ডিম’, একটি গোল্ডবার ও অলংকারসহ মোট ২ কেজি ১৬৪ গ্রাম স্বর্ণ পাওয়া যায়।

জুম্মন খানের কাছে দেড় কেজি ও লিটু মিয়ার কাছে আরও দুই কেজি ১৬৪ গ্রাম স্বর্ণ পাওয়া যায়। তাদের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় মামলা করা হয়েছে বলে নান তিনি।