Published : 17 Jul 2024, 06:40 PM
সরকারি চাকরির কোটা সংস্কারের দাবিতে চলমান আন্দোলনের নামে ‘নাশকতা, সরকার পতনের অপচেষ্টা এবং মুক্তিযোদ্ধাদের কটাক্ষ করার’ প্রতিবাদে ঢাকায় সমাবেশের ডাক দিয়েছে মুক্তিযোদ্ধা-শ্রমিক-কর্মচারী-পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদ।
বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় বায়তুল মোকররমের দক্ষিণ গেইটে এই সমাবেশ হবে।
সাবেক মন্ত্রী ও মুক্তিযোদ্ধা-শ্রমিক-কর্মচারী-পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা শাজাহান খান বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন থেকে সমাবেশের ঘোষণা দেন।
ওই সম্মেলনেই মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সবাইকে রাজাকার বলেন নাই। তার কথাকে বিকৃত করে তারা (আন্দোলনকারীরা) স্লোগান দিচ্ছে। তাদের আসল চরিত্র তারা প্রকাশ করেছে। ”
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর ভাষ্য, আন্দোলন বা কোনো কিছু দাবি করার অধিকার স্বাধীন দেশে যে কারোরই থাকতে পারে।
“কিন্তু স্বাধীনতাবিরোধী ছাত্রদল, ছাত্র শিবির ঢাকা বিশ্বিবদ্যালয়ের হলগুলোতে তছনছ করেছে।”
আন্দোলনে ছাত্রলীগের ভূমিকা নিয়ে তিনি বলেন, “রাজু ভাস্কর্যের সমাবেশে ছাত্রলীগ সভাপতি প্রকারান্তরে আন্দোলনকারীদের পক্ষেই কথা বলেছে। কিন্তু তারপরেও তারা লাঠিসোঁটা নিয়ে ছাত্রলীগের উপর হামলা চালিয়েছে। আমাদের ছেলেরা প্রস্তুত ছিল না। তারপর তারা আত্মরক্ষার চেষ্টা করেছে।”
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরির সব কোটা বাতিল করেছিল সরকার। হাই কোর্ট তা অবৈধ ঘোষণা করে কোটা ফিরিয়ে আনার রায় দিলে চলতি মাসের প্রথম দিন থেকে নতুন করে আন্দোলন শুরু হয়।
শুরুতে অবস্থান কর্মসূচি, সড়ক অবরোধ, বাংলা ব্লকেডসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে আন্দোলনকারীরা তাদের দাবিদাওয়া জানিয়ে আসছিলেন। কিন্তু কোটা আন্দোলন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এক বক্তব্যের পর পরিস্থিতি বদলে যায়।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেছিলেন, “কোটা আন্দোলন করার আগে তো তাদের রেজাল্টগুলো দেখা উচিত ছিল যে- কোথায় তারা দাঁড়িয়েছে! দ্বিতীয়টি হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি তাদের এত ক্ষোভ কেন? মুক্তিযোদ্ধাদের নাতি পুতিরা পাবে না, তাহলে কি রাজাকারের নাতি পুতিরা (চাকরি) পাবে?”
সরকারপ্রধানের ওই বক্তব্যের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা স্লোগান তোলে– ‘তুমি কে আমি কে, রাজাকার রাজাকার’। নিজেদের রাজাকার আখ্যা দিয়ে তাদের এমন স্লোগানের সমালোচনা হয় বিভিন্ন মহলে। সরকার সমর্থক ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগও এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়।

গত সোমবার দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনা ঘটে। এর জের ধরে মঙ্গলবার সকাল থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ করে কোটাবিরোধী আন্দোলনকারীরা।
দুই পক্ষের শক্ত অবস্থানে দুপুরের পর থেকে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সংঘর্ষ শুরু হয়। দফায় দফায় সংঘাতের এসব ঘটনায় ঢাকা, চট্টগ্রাম এবং রংপুরে ৬ জন মারা যান এবং আহত হন কয়েকশ মানুষ।
মোজাম্মেল হক বলেন, "গতকাল দেখেন কী অবস্থা। তাদের লাশ দরকার ছিল। সেই লাশ পাওয়ার জন্য আত্মঘাতীভাবে তারা অস্ত্র নিয়ে হামলা করেছে। সকলের আত্মার মাগফিরাত কামনা করি। সরকার লাশ চায় না। শাপলা চত্বরে বিএনপি জামাত নেমেছে। তারা রাজনৈতিকভাবে আন্দোলনটা নিয়েছে। এখন আর সেটা ছাত্রদের হাতে নেই। যারা প্রভু, সপ্তম নৌবহর পাঠিয়েছে, তাদের হাতে চলে গেছে।"
পরিষদের আহ্বায়ক শাজাহান খান বলেন, ভিয়েতনাম, ইউরোপে যুদ্ধাপরাধীরা তিন প্রজন্ম ধরে তাদের দেশে চাকরিতে নিষিদ্ধ। আর বাংলাদেশ কোটা সংস্কারের নামে জনজীবন অচল করছে।
আন্দোলনের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “কোটা ব্যবস্থা নিয়ে আপিল বিভাগের স্থিতাবস্থা আদেশের পরে হাই কোর্ট বিভাগের রায়ের কোনো কার্যকারিতা বর্তমানে নেই। এরপরও শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলমান থাকার যৌক্তিকতা নেই।”
শাজাহান খানের অভিযোগ হল, শিক্ষার্থীদের কোটাবিরোধী আন্দোলনে ‘অনুপ্রবেশকারী ছাত্রদল, ছাত্রশিবিরের ইন্ধনে’ ৬ জনের প্রাণহানি হয়েছে।
অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কামরুল ইসলাম বলেন, “আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আমরা আছি। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বিচারাধীন বিষয়। এই হল অবস্থা। আজকে এই ইস্যুকে কাজে লাগিয়ে বিএনপি জামাত দেশ অস্থিতিশীল করছে। সাধারণ ছাত্রদের পেছনে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করে তারা নেমেছে। প্রতিটা হল শিবির ছাত্রদল দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছে।”
শেখ হাসিনাকে ‘ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য’ এই আন্দোলন হচ্ছে মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরীর মায়া বলেন, “বসে থাকার কোনো রাস্তা নেই। স্বাধীনতার ৫৩ বছর পর রাজাকার বলে স্লোগান দেয়। আমি আমার সন্তান নাতিপুতিদের নিয়ে আসব। কালকের সমাবেশে আপনারাও সেভাবে আসবেন। এদের প্রতিহত করতে হবে।”