বায়ু দূষণে ‘গড়ে ৭ বছর আয়ু হারাচ্ছে’ বাংলাদেশিরা
“বায়ু দূষণের কারণে ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ নাগরিক শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়ার সক্ষমতা হারিয়ে ফেলছে,” বলেন স্থপতি ইকবাল হাবিব।
বায়ু দূষণের কারণে বাংলাদেশিদের গড় আয়ু ৬ বছর ৮ মাস কমেছে বলে এক সমীক্ষার বরাতে জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন-বাপা।
মঙ্গলবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনী মিলনায়তনে ‘বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে করণীয়’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য তুলে ধরেন বাপার যুগ্ম সম্পাদক অধ্যাপক আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার।
যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের এনার্জি পলিসি ইনস্টিটিউট থেকে প্রকাশিত ‘এয়ার কোয়ালিটি লাইফ ইনডেক্স-২০২৩’ অনুযায়ী, বায়ু দূষণ যে কেবল বাংলাদেশিদের আয়ু কমাচ্ছে-এমন নয়, বিশ্বের সব মানুষেরই গড় আয়ু কমেছে ২ বছর ৪ মাস।
বায়ু দূষণের ভয়াবহতা তুলে ধরে অধ্যাপক কামরুজ্জামান বলেন, “আমার সাংবিধানিক অধিকার- আমি একটা সুস্থ জীবন যাপন করব। কিন্তু আমার জীবন থেকে এই যে ৬ বছর চলে গেল, এটা তো একপ্রকার ইনডিরেক্টলি মানুষকে খুন করে ফেলা। এই খুনটা নীরবে-নিভৃতে করছে। এই ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের পর্যায়ে যারা দায়িত্বে আছেন, তিনি যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, একজন রিকশাচালকও একইভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
“পার্থক্য হচ্ছে- যার অর্থনৈতিক সক্ষমতা আছে, তিনি ডাক্তারের কাছে যেতে পারছেন, উনি তুলনামূলক কমফোর্ট জোনে থাকেন। কিন্তু আমার দরিদ্র মানুষ, খেটে খাওয়া মানুষ, বস্তিবাসী এই দূষণের মাঝে থাকছেন এবং তিলে তিলে ক্ষয় হয়ে যাচ্ছেন। সেটি কেউ হিসাব করছে না।”
বাংলাদেশিদের গড় আয়ু ৬ দশমিক ৮ বছর কমায় মানব সম্পদের ক্ষতি নিয়ে তিনি প্রশ্ন রাখেন, “এতে কি রাষ্ট্রের ক্ষতি হচ্ছে না? দায়িত্বশীল যারা, তারা সিগনিফিক্যান্ট এবং টেকসই কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। সেজন্য বছরের পর বছর এগুলো হচ্ছে।”
নিয়ম না মেনে নির্মাণকাজ করার পাশাপাশি ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল, নগর পরিকল্পনায় ঘাটতি, আইনের দুর্বলতা, দায়িত্বশীলদের সদিচ্ছার অভাবকে বায়ু দূষণের অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেন অধ্যাপক কামরুজ্জামান।
তিনি বলেন, ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ডিজিজেস অব দা চেস্ট অ্যান্ড হসপিটালে ২০২১ সালে আউটডোর এবং জরুরি বিভাগ মিলিয়ে ২ লাখ ১০ হাজার রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন। ৭ বছর আগে এই সংখ্যা ছিল মাত্র ৮৫ হাজার।
স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, বায়ু দূষণের কারণে ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ নাগরিক শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়ার সক্ষমতা হারিয়ে ফেলছে। এটা সারা দেশে ভয়াবহ অবস্থা তৈরি করছে।
অন্যদের মধ্যে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের সভাপতি নুর মোহাম্মদ তালুকদার, সহ সভাপতি অধ্যাপক এম শহীদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আলমগীর সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।
(প্রতিবেদনটি প্রথম ফেইসবুকে প্রকাশিত হয়েছিল ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩ তারিখে: ফেইসবুক লিংক)
