Published : 23 Apr 2026, 05:45 PM
বাংলাদেশ সীমান্তের নদীপথ ও জলাভূমি পাহারায় বিষধর সাপ ও কুমিরের মত প্রাণী ছাড়তে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘বিতর্কিত ও অপ্রচলিত পরিকল্পনা’ নিয়ে বিভক্তি তৈরি হয়েছে দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফে।
বৃহস্পতিবার বিএসএফের এক শীর্ষ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে পশ্চিমবঙ্গভিত্তিক ইংরেজি দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফ বলছে, বিষয়টি নিয়ে এরইমধ্যে বিএসফের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে মতভেদ দেখা দিয়েছে।
৪ হাজার ৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফের গুলি চালানো নিয়ে বহু বছর ধরে সমালোচনা হয়ে আসছে। এর মধ্যেই বাংলাদেশ সীমান্তের নদীপথ ও জলাভূমি পাহারায় বিএসএফ বিষধর সাপ ও কুমিরের মত প্রাণী ছাড়ার কথা ভাবছে বলে চলতি মাসের শুরুর দিকে খবর দেয় ভারতের একাধিক সংবাদমাধ্যম।
গত ৯ ফেব্রুয়ারি বিএসএফের উচ্চ পর্যায়ের এক বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে সম্ভাব্যতা যাচাইয়েরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে টেলিগ্রাফের সঙ্গে আলাপকালে বিএসএফের সাবেক মহাপরিচালক ও পদ্মশ্রী পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রকাশ সিং সীমান্তে সাপ-কুমির ‘মোতায়েনের’ ধারণাকে ‘বোকামি’ বলেন। তিনি বলেন, “এটি সীমান্তের কাছাকাছি বসবাসকারী সাধারণ নাগরিকদের জীবন বিপন্ন করবে।
“কুমির এবং সাপ কীভাবে আন্তর্জাতিক সীমান্তের শূন্য রেখার কাছে বসবাসকারী বাংলাদেশি এবং ভারতীয়দের মধ্যে পার্থক্য করবে? আমি জানি না কে এই প্রস্তাব দিয়েছে, তবে এটি হাস্যকর।”
টেলিগ্রাফের খবরে বলা হয়, সীমান্তে সাপ-কুমির ছাড়ার প্রস্তাব নিয়ে এমন এক সময়ে আলোচনা হচ্ছে যখন পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন চলছে। নির্বাচনের প্রচারে বিজেপি দাবি করছে, পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতাসীন তৃণমূলের ‘রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায়’ রাজ্যের জনতাত্ত্বিক কাঠামোতে ‘উদ্বেগজনক পরিবর্তন’ ঘটছে।
দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নেতৃত্বে বিজেপি অভিযোগ তুলছে, বাংলাদেশি ‘অনুপ্রবেশকারীরা’ পশ্চিমবঙ্গের মধ্য দিয়ে ভারতে প্রবেশ করে পুরো দেশে ছড়িয়ে পড়ছে।
বিএসএফ সূত্রের বরাতে খবরে বলা হয়, সম্প্রতি ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সীমান্তের নদী ও জলাভূমি এলাকায় অনুপ্রবেশ ঠেকাতে জলাভূমি অংশে বিষধর সাপ ও কুমির ছাড়ার সম্ভাব্যতা যাচাই করতে বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়। এ বিষয়ে বাহিনীর একজন কর্মকর্তা স্বীকার করেন, নদী ও জলাভূমির মতো দুর্গম এলাকায় সরীসৃপ মোতায়েন নিয়ে তাদের শীর্ষ কর্মকর্তারাও দ্বিধাবিভক্ত।
তিনি বলেন, “কিছু কর্মকর্তা এই ধারণার বিরোধিতা করেছেন। বিশেষ করে বন্যার সময় সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় বসবাসকারী সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার মারাত্মক ঝুঁকির কথা বলেছেন তারা। বিষয়টি নিয়ে আগামী সপ্তাহে আরও একটি বৈঠক ডাকা হয়েছে।”
শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, বাংলাদেশের সঙ্গে ত্রিপুরা, আসাম, মেঘালয় এবং মিজোরামেরও দীর্ঘ সীমান্ত আছে।
দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলছেন, সীমান্তের যেসব সংবেদনশীল অংশে বেড়া দেওয়া সম্ভব নয়, সেখানে সাপ-কুমির ছাড়ার ধারণাটি বিবেচনা করা হচ্ছে। কারণ সীমান্তের প্রায় ১৭৫ কিলোমিটার নদী ও জলাভূমি এলাকা হওয়ার কারণে সেখানে অনুপ্রবেশ, চোরাচালান এবং অন্যান্য অবৈধ কার্যক্রম রোধ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
বিএসএফকে এমন নদী অঞ্চলগুলো চিহ্নিত করতে বলা হয়েছে, যেখানে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা যেতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত প্রস্তাবটি আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে, কিছুই চূড়ান্ত হয়নি।
বিএসএফের এক কর্মকর্তা বলেন, “আমরা যখন সীমান্ত রক্ষায় অত্যাধুনিক সরঞ্জাম ব্যবহার করছি, তখন এটা (সাপ-কুমির ছাড়ার পরিকল্পনা) খুব প্রাচীন ধারণা নয় কি? আমি নিশ্চিত না যে, এই প্রস্তাব কাঙ্ক্ষিত ফলাফল দেবে কি না।”
পুরনো খবর
বাংলাদেশ সীমান্তের নদীপথে সাপ-কুমির ছাড়ার পরিকল্পনা বিএসএফের!