Published : 27 Aug 2026, 11:18 PM
গুমের কারণে কারও মৃত্যু হলে, লাশ পাওয়া গেলে অথবা পাঁচ বছর পরও তাকে জীবিত বা মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা না গেলে দায়ী ব্যক্তির সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে জাতীয় সংসদে বিল উঠেছে।
প্রস্তাবিত বিলে এ ধরনের অপরাধে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি যাবজ্জীবন বা ন্যূনতম পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
বিলটি উত্থাপনের পর পরীক্ষা করে দুই কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছে।
বিল উত্থাপনের আগে বিরোধী দল সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে। তাদের অভিযোগ, পূর্ণাঙ্গ সংস্কার পাশ কাটিয়ে ‘খণ্ডিত’ সংস্কারের অংশ হিসেবে এ ধরনের বিল আনা হচ্ছে।
বিলে গুমকে স্বতন্ত্র ফৌজদারি অপরাধ বিবেচনা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। সাধারণ গুমের ঘটনায় সর্বনিম্ন তিন বছর থেকে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা জরিমানার প্রস্তাব রয়েছে।
আইনের অনুমোদনহীন ‘গোপন আটককেন্দ্র’ নির্মাণ, স্থাপন বা ব্যবহারও আলাদা অপরাধ হবে।
শুধু সরাসরি গুমে জড়িত ব্যক্তিই নন, অপরাধে আদেশ, অনুমতি, সম্মতি বা প্ররোচনা দেওয়া ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং অধস্তনদের গুম ঠেকাতে ব্যর্থ কমান্ডারকেও একই অপরাধে দায়ী করার সুযোগ রাখা হয়েছে।
অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা, জরুরি পরিস্থিতি কিংবা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে কাজ করার অজুহাতও গুমের অভিযোগ থেকে রেহাই পাওয়ার কারণ হবে না।
কেন এই আইন
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মানবাধিকার, মানবিক মর্যাদা, ব্যক্তি-স্বাধীনতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য আইনটি আনা হয়েছে।
বিলে বলা হয়েছে, ব্যাপক বা পরিকল্পিত পদ্ধতির বাইরে বাংলাদেশে বিভিন্ন গুমের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনা প্রতিরোধ, তদন্ত, দায়ীদের শাস্তি এবং ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের প্রতিকার নিশ্চিত করতে নতুন আইন প্রয়োজন।
বাংলাদেশ ২০২৪ সালের ৩০ অগাস্ট সব ব্যক্তিকে গুম থেকে সুরক্ষার আন্তর্জাতিক সনদে যোগ দেয়। একই বছর শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে সংঘটিত গুমের অভিযোগ তদন্তে কমিশন গঠন করা হয়।
এরপর গুমকে আলাদা অপরাধ হিসেবে আইনি কাঠামোয় আনার উদ্যোগ নেয় সরকার।
কোন কাজ ‘গুম’?
প্রস্তাবিত আইনে সরকারি কর্মচারী বা শৃঙ্খলা-বাহিনীর কোনো সদস্য নিজ ক্ষমতাবলে কাউকে গ্রেপ্তার, আটক, অপহরণ বা অন্যভাবে স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করার পর সেই ঘটনা অস্বীকার করলে অথবা ওই ব্যক্তির অবস্থান, অবস্থা বা পরিণতি গোপন করলে তা ‘গুম’ হিসেবে গণ্য হবে।
সরকারি কর্তৃপক্ষের অনুমোদন, সমর্থন বা সম্মতিতে অন্য কোনো ব্যক্তি একই কাজ করলেও তা গুমের আওতায় পড়বে।
তবে ব্যাপক বা পরিকল্পিত পদ্ধতিতে সংঘটিত গুম এ আইনে বিচার হবে না। সেগুলো আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিচার হবে।
অপরদিকে কাউকে গ্রেপ্তারের পর সংবিধানের ৩৩(২) অনুচ্ছেদে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা হলে- এর আগে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার স্বার্থে গ্রেপ্তারের তথ্য বা অবস্থান প্রকাশ না করাকে গুম ধরা হবে না।
‘গুম একটি চলমান অপরাধ’
বিলে গুমকে ‘চলমান অপরাধ’ হিসেবে বিবেচনার বিধানের প্রস্তাব করা হয়েছে।
গুম হওয়া ব্যক্তির অবস্থান, অবস্থা বা পরিণতি প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত অপরাধটি চলমান বলে গণ্য হবে।
ব্যক্তিটি মারা গেছেন বলে নিশ্চিত হলেও তার মরদেহ বা দেহাবশেষের অবস্থান শনাক্ত এবং তা আইনগত উত্তরাধিকারীদের কাছে হস্তান্তর না করা পর্যন্ত অপরাধ শেষ হয়েছে বলে ধরা হবে না।
গুমে মৃত্যু হলে সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড
বিলে সাধারণ গুমের জন্য কমপক্ষে তিন বছর থেকে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
তবে গুমের কারণে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হলে বা তার লাশ পাওয়া গেলে শাস্তি আরও বাড়বে।
একই বিধান প্রযোজ্য হবে যদি গুমের পাঁচ বছর পরও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জীবিত বা মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা না যায়।
এসব ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন অথবা কমপক্ষে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া যাবে।
এর সঙ্গে সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা অর্থদণ্ড করা যাবে।
একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে অন্য কোনো অপরাধের বিচার শেষ হয়ে গেলেও পরে গুমের ফলে মৃত্যু বা পাঁচ বছর নিখোঁজ থাকার বিষয় সামনে এলে নতুন মামলা করার সুযোগ থাকবে।
প্রমাণ নষ্টেও পাঁচ বছরের সাজা
কেউ জেনেশুনে গুমের সাক্ষ্যপ্রমাণ নষ্ট, গোপন, বিকৃত বা পরিবর্তন করলে কমপক্ষে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হবে। এর সঙ্গে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা যাবে।
গুম, গোপন আটককেন্দ্র বা সাক্ষ্যপ্রমাণ ধ্বংসের অপরাধের চেষ্টা, আদেশ, নির্দেশ, সহায়তা, প্ররোচনা বা ষড়যন্ত্রে জড়িত ব্যক্তিও মূল অপরাধীর সমান শাস্তি পাবেন।
গোপন আটককেন্দ্র করা হবে অপরাধ
বিলে ‘গোপন আটককেন্দ্র’ এর সংজ্ঞা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। আইন দ্বারা অনুমোদিত নয় এমন আটককেন্দ্র এর মধ্যে পড়বে।
এমনকি কোনো আটককেন্দ্র আইনসম্মত হলেও সেখানে আটক ব্যক্তির অবস্থান বা পরিণতি সম্পর্কে তার স্বজন বা সন্ধানকারী ব্যক্তি কিংবা প্রতিষ্ঠানকে অন্ধকারে রাখা হলে সেটিও গোপন আটককেন্দ্রের আওতায় আসতে পারে।
এ ধরনের আটককেন্দ্র নির্মাণ, স্থাপন বা ব্যবহার করলে কমপক্ষে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
কমান্ডারও দায় এড়াতে পারবেন না
প্রস্তাবিত আইনের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশে শৃঙ্খলা-বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও কমান্ডারদের দায় নির্ধারণ করা হয়েছে।
কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা অধস্তনকে গুমের আদেশ, অনুমতি, সম্মতি বা প্ররোচনা দিলে অথবা নিজে অংশ নিলে মূল অপরাধীর জন্য নির্ধারিত সাজা পাবেন।
গুমের পরিকল্পনায় যুক্ত থাকলেও একই বিধান প্রযোজ্য হবে।
অধস্তন সদস্যরা গুম করছেন বা করতে যাচ্ছেন, এমন তথ্য জানার পরও তা ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকেও দায়ী করার সুযোগ রয়েছে।
এমনকি শৃঙ্খলা রক্ষা, নিয়ন্ত্রণ বা তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা বা অবহেলার কারণে অধস্তন সদস্যরা অপরাধ করলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার দায় তৈরি হতে পারে।
শৃঙ্খলা-বাহিনীর সদস্য নন এমন ঊর্ধ্বতন ব্যক্তির ক্ষেত্রেও একই ধরনের দায় রাখা হয়েছে।
নিজ বাহিনীর তদন্ত নিজেরা নয়
কোনো শৃঙ্খলা-বাহিনী বা তার সদস্যের বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগ এলে সেই বাহিনী নিজেই অভিযোগ তদন্ত করতে পারবে না।
সেক্ষেত্রে সরকার অভিযুক্ত বাহিনী ছাড়া অন্য কোনো শৃঙ্খলা-বাহিনী বা আন্তঃবাহিনী তদন্ত দলের কাছে তদন্ত দিতে পারবে।
তদন্তকারী কর্মকর্তাকে ৯০ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন দিতে হবে।
যুক্তিসঙ্গত কারণে ম্যাজিস্ট্রেট আদালত আরও ৩০ দিন সময় দিতে পারবে।
বর্ধিত সময়েও তদন্ত শেষ না হলে তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকবে।
থানা অভিযোগ না নিলে আদালতে
গুমের শিকার ব্যক্তি, প্রত্যক্ষদর্শী অথবা ঘটনা সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য জানা ব্যক্তি থানায় অভিযোগ করতে পারবেন।
থানার ওসি অভিযোগ নিতে অস্বীকার করলে অভিযোগকারী সরাসরি ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নালিশি মামলা করতে পারবেন।
গুমের অভিযোগ আমলে নিতে ম্যাজিস্ট্রেটকে সরকার বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন নিতে হবে না।
গুম হওয়া ব্যক্তির সন্ধানে আটককেন্দ্র, কোনো স্থান বা স্থাপনায় তল্লাশির জন্য আদালত পরোয়ানাও দিতে পারবে।
বিচারও সর্বোচ্চ ১২০ কার্যদিবসে
গুমের অপরাধের বিচার হবে দায়রা জজ আদালতে।
অভিযোগ গঠনের ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে বিচার শেষ করতে হবে।
এই সময়ের মধ্যে সম্ভব না হলে আদালত কারণ উল্লেখ করে আরও ৩০ কার্যদিবস সময় নিতে পারবে। অতিরিক্ত সময় নেওয়ার কারণ সুপ্রিম কোর্টকে জানাতে হবে।
তদন্তের ক্ষেত্রেও ৯০ দিনের সঙ্গে সর্বোচ্চ ৩০ দিন বাড়ানোর সুযোগ রাখা হয়েছে।
অনুপস্থিতিতেও বিচার
অভিযুক্ত ব্যক্তি গ্রেপ্তার বা বিচার এড়াতে পালিয়ে গেলে তার অনুপস্থিতিতেও বিচার করা যাবে।
অভিযোগপত্র গ্রহণের পর আদালত তথ্যপ্রযুক্তি, একটি বহুল প্রচারিত বাংলা জাতীয় দৈনিক, বিদেশি দূতাবাস, ইন্টারপোল বা অন্য যুক্তিসঙ্গত পদ্ধতিতে তাকে হাজির হওয়ার নোটিস দিতে পারবে। তারপরও হাজির না হলে বিচার চলবে।
সব অপরাধ জামিন অযোগ্য
প্রস্তাবিত আইনের অপরাধগুলো আমলযোগ্য, জামিন অযোগ্য ও আপস অযোগ্য হবে।
তবে নারী, শিশু বা শারীরিকভাবে অসুস্থ অভিযুক্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার বিঘ্নিত হবে না বলে আদালত সন্তুষ্ট হলে জামিন দেওয়া যাবে।
দায়রা আদালতের রায় বা দণ্ডের বিরুদ্ধে ৬০ দিনের মধ্যে হাই কোর্টে আপিল করা যাবে।
মিথ্যা অভিযোগেও পাঁচ বছরের কারাদণ্ড
গুমের মামলা শেষে আদালতের কাছে যদি প্রমাণ হয় যে অভিযোগটি মিথ্যা ও হয়রানিমূলক ছিল, তাহলে অভিযোগকারীকে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিতে পারবে আদালত।
প্রয়োজনে অভিযোগকারীকে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডও দেওয়া যাবে।
ক্ষতিপূরণ না দিতে পারলে দেবে রাষ্ট্র
আদালত গুমের ঘটনায় যে অর্থদণ্ড দেবে, সেটি ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণ হিসেবে গণ্য হবে।
দণ্ডিত ব্যক্তির স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি থেকে এই অর্থ আদায় করা যাবে।
ক্ষতিপূরণের দাবি অন্য দাবির তুলনায় অগ্রাধিকার পাবে।
দণ্ডিত ব্যক্তির সম্পত্তি থেকে অর্থ আদায় সম্ভব না হলে রাষ্ট্র ভুক্তভোগীকে ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য থাকবে।
এজন্য দণ্ডিত ব্যক্তির সম্পত্তি ক্রোক ও নিলামে বিক্রির নির্দেশও দিতে পারবে আদালত।
পাঁচ বছর পর ‘গুম সনদ’
গুম হওয়া ব্যক্তির স্বামী বা স্ত্রী কিংবা নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যরা তার সম্পত্তি ব্যবহার বা হস্তান্তরের জন্য আদালতে আবেদন করতে পারবেন।
ঋণ পরিশোধ, পরিবারের ভরণপোষণ ও প্রয়োজনীয় খরচের জন্য আদালত ‘গুম সনদ’ দিয়ে সম্পত্তি ব্যবহারের অনুমতি দিতে পারবে।
কোনো ব্যক্তি কমপক্ষে পাঁচ বছর ধরে গুম থাকলে এবং ফিরে না এলে তার বৈধ উত্তরাধিকারীরা সম্পত্তি বণ্টনের আবেদন করতে পারবেন।
সেক্ষেত্রে আদালত সম্পত্তি উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বণ্টনযোগ্য ঘোষণা করে গুম সনদ দিতে পারবে।
চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে তহবিল
গুমের শিকার ব্যক্তির চিকিৎসা, ভুক্তভোগীদের পুনর্বাসন, ক্ষতিপূরণ ও আইনগত সহায়তার জন্য আলাদা তহবিল করার বিধান রাখা হয়েছে। সরকার এই তহবিল গঠন করতে পারবে।
গুম হওয়া ব্যক্তি ও পরিবারের সহায়তা, নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধান, মৃত্যুর ক্ষেত্রে দেহাবশেষ শনাক্ত ও হস্তান্তর এবং অভিযুক্তকে প্রত্যর্পণের ক্ষেত্রেও অন্য দেশের সঙ্গে সহযোগিতার সুযোগ রাখা হয়েছে।
হবে কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডার
গুম হওয়া ব্যক্তিদের তথ্য নিয়ে সরকারের তত্ত্বাবধানে একটি কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডার থাকবে।
সেখানে গুম হওয়া ও উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের পরিচয়, নিখোঁজ হওয়ার তারিখ ও স্থান, সম্ভাব্য কারণ, পরিবারের অভিযোগ ও প্রাথমিক সাক্ষ্য রাখা হবে।
অভিযুক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পরিচয়, বাহিনীর নাম, ইউনিট, পদবি, দায়িত্বকাল, তদন্ত, আদালতের আদেশ ও আপিলের অবস্থাও তথ্যভান্ডারে থাকবে। ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের তথ্যও সংরক্ষণ করা হবে।
ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও তদন্তের স্বার্থে পুরো তথ্যভান্ডার প্রকাশ করা হবে না। তবে জনস্বার্থে এর সারসংক্ষেপ প্রকাশ করা যাবে।
ট্রাইব্যুনালে যাবে ‘ব্যাপক বা পরিকল্পিত গুম’
বিলে সাধারণ গুম এবং মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে সংঘটিত গুমের বিচারের পথ আলাদা রাখা হয়েছে।
ব্যাপক বা পরিকল্পিত পদ্ধতিতে সংঘটিত গুমের বিচার হবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে।
সাধারণ আদালতে তদন্তের সময় ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে যদি মনে হয় কোনো ঘটনা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে বিচারযোগ্য, তাহলে তদন্ত প্রতিবেদন ও সাক্ষ্যপ্রমাণ ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলির কাছে পাঠাতে হবে।
বিচারের পর্যায়েও দায়রা আদালতের কাছে একই বিষয় প্রতীয়মান হলে মামলাটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পাঠানো যাবে।
একই ঘটনায় কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে কার্যক্রম চললে এ আইনে একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে কার্যক্রম চালানো যাবে না।
সর্বোচ্চ শাস্তির পাশাপাশি ক্ষতিপূরণের বিধান রেখে গুম আইনের খসড়া