Published : 12 Jan 2026, 11:42 AM
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের জন্য যে গণভোট হতে যাচ্ছে, সে সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে দেশজুড়ে ব্যাপক কর্মসূচি পরিচালনার কথা জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।
প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, গণভোট বিষয়ে অস্পষ্টতা দূর করতে মাঠপর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা, ধর্মীয় নেতা ও বিভিন্ন বেসরকারি সংগঠনের প্রতিনিধিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
এর অংশ হিসেবে রোববার বরিশালে আলাদাভাবে বিভাগীয় কর্মকর্তা সম্মেলন ও ইমাম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এসব আয়োজনে গণভোট বিষয়ে প্রশিক্ষণমূলক বক্তব্য দেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আলী রীয়াজ ও মনির হায়দার।
একই ধরনের কর্মসূচি সোমবার অনুষ্ঠিত হবে রাজশাহীতে। রংপুরে আগামী বুধবার এবং পরদিন চট্টগ্রামে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন হবে। এছাড়া ১৭ জানুয়ারি ঢাকায়, ১৯ জানুয়ারি ময়মনসিংহে, ২২ জানুয়ারি সিলেটে এবং ২৪ জানুয়ারি খুলনায় ইমাম সম্মেলন ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হবে।

প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এসব কর্মসূচিতে বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং বেসরকারি সংগঠনের প্রতিনিধিদের প্রশিক্ষণের আয়োজন করছে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়। ইমাম ও ধর্মীয় নেতাদের প্রশিক্ষণের আয়োজন করছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।
প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর বলছে, মতবিনিময় সভায় বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ জ্যেষ্ঠ শিক্ষক, সাংবাদিক, প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও সম্পাদক, দোকান মালিক সমিতিসহ বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতা, এনজিও প্রধান ও সংগঠনের প্রতিনিধি, ধর্মীয় নেতা, ‘সুশীল সমাজের’ প্রতিনিধি এবং অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন।
গণভোটের সরকারি প্রচারণার বিষয়ে রোববার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছিলেন, “সরকার হ্যাঁ ভোটের পক্ষে ক্যাম্পেইন করবে ও সচেতনতা তৈরি করবে।
“সরকার এ বিষয়ে টপ লিগ্যাল এক্সপার্টদের কাছ থেকে মতামত নিয়েছে। তারা লিখিতভাবে সরকারকে জানিয়েছে যে, সরকার চাইলে প্রচারণা চালাতে পারে, এ বিষয়ে কোনো আইনগত বাধা নেই।”
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে গণভোটও অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

গণভোটের ব্যালট
জনগণের মতামত গ্রহণের জন্য গণভোটের ব্যালট পেপারে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের গুরুত্বপূর্ণ চারটি প্রস্তাব থাকবে। এসব প্রশ্নের বিপরীতে ভোটারদের কাছে কেবল একটি ঘরে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ ভোট চাওয়া হবে।
ব্যালট পেপারটি এমন—
জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং জুলাই জাতীয় সনদে লিপিবদ্ধ সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত নিম্নলিখিত প্রস্তাবসমূহের প্রতি আপনার সম্মতি আছে?: (হ্যাঁ/না)
(ক) নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ার আলোকে গঠন করা হইবে।


(খ) আগামী জাতীয় সংসদ হইবে দুই কক্ষবিশিষ্ট। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ সদস্যবিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হইবে এবং সংবিধান সংশোধন করিতে হইলে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদন দরকার হইবে।
(গ) সংসদে নারীর প্রতিনিধি বৃদ্ধি, বিরোধী দল হইতে ডেপুটি স্পীকার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচন, মৌলিক অধিকার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, স্থানীয় সরকার, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতাসহ তফসিলে বর্ণিত যে ৩০টি বিষয়ে জুলাই জাতীয় সনদে ঐকমত্য হইয়াছে—সেগুলো বাস্তবায়নে আগামী সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী রাজনৈতিক দলগুলো বাধ্য থাকিবে।
(ঘ) জুলাই জাতীয় সনদে বর্ণিত অপরাপর সংস্কার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুসারে বাস্তবায়ন করা হইবে।