১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

শামীম ওসমান ও  নাঈমুল ইসলামের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

দুদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. জাকির হোসেন গালিব মঙ্গলবার এ আদেশ দেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 25 Feb 2025, 04:22 PM

Updated : 26 Aug 2026, 11:54 AM

নারায়ণঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমান ও তার স্ত্রী এবং দুই ছেলেমেয়ের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আদালত। 

দুদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. জাকির হোসেন গালিব মঙ্গলবার এ আদেশ দেন।

শামীম ওসমানের স্ত্রী ও দুই ছেলেমেয়ে হলেন-সালমা ওসমান, ইমতিনান ওসমান এবং লাবিবা জোহা অঙ্গনা। 

এছাড়া স্ত্রী এবং তিন মেয়েসহ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রেস সচিব নাঈমুল ইসলাম খানের দেশত্যাগেও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন একই বিচারক।

আদালতে দুদকের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা আক্কাস আলী বলেছেন, মামলার অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক রেজাউল করিম শামীম ওসমান ও তার স্ত্রী-সন্তানদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করেন। পরে আদালত আবেদন মঞ্জুর করে এ আদেশ দেন।

দুদকের আবেদনে বলা হয়, শামীম ওসমানেরর বিরুদ্ধে টেন্ডার বাণিজ্য, চাঁদাবাজি, দলীয় পদ ও মনোয়ন বাণিজ্য, জমি দখল, বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারি বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প থেকে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ এবং বিদেশে অর্থ পাচার এবং কানাডা-যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনা ও দুবাইয়ে ব্যবসা পরিচালনাসহ নিজ নামে ও পরিবারের সদস্যদের নামে শত শত কোটি টাকা জ্ঞাত আয় বর্হিভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আছে। 

তারা দেশত্যাগের চেষ্টা করছে বলে জানা গেছে।অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বিদেশ পালিয়ে গেলে তদন্ত কার্যক্রম দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তাই অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে তাদের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন দুদক।

পরিবারসহ নাঈমুলের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

এদিন দুদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. জাকির হোসেন গালিব সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রেস সচিব নাঈমুল ইসলাম খান, তার স্ত্রী নাসিমা খান মন্টি, তিন মেয়ে লাবিবা নাঈম খান, যুলিকা নাঈম খান এবং আদিভা নাঈম খানের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন।

নাঈমুল ইসলাম খান। ফাইল ছবি। 

নাঈমুল ইসলাম খান। ফাইল ছবি।

আদালতে দুদকের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা আক্কাস আলী বলেছেন, মামলার অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা দুদকের উপ পরিচালক আফরোজা হক খান এ আবেদন করেন। আদালত আবেদন মঞ্জুর করে আদেশ দেন।

আবেদনে বলা হয়, ঈমুল ইসলাম খান ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে ১৬৩টি ব্যাংক হিসাব পাওয়া গেছে। এসব হিসাবে প্রায় ৩৮৬ কোটি টাকা জমা হয়েছে, যার মধ্যে ৩৭৯ কোটি ৫২ লাখ টাকা ইতোমধ্যে উত্তোলন করা হয়েছে। বর্তমানে ওই হিসাবগুলোতে রয়েছে মাত্র ৮ কোটি ২৭ লাখ টাকা।

জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক নাঈমুল ইসলাম খান ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে  জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য দুই সদস্যবিশিষ্ট টিম গঠন করেছে দুদক। 

দুদক জেনেছে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। তারা বিদেশে পালিয়ে গেলে অনুসন্ধান কাজ ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। 

অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে তাদের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন দুদক।