সাবেক দুদক কমিশনার জহুরুল হককে ৩ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ
জহুরুল হকের বিরুদ্ধে আসামিদের কাছ থেকে ‘আর্থিক সুবিধা’ গ্রহণ, ‘জালিয়াতির’ মাধ্যমে রাজউক-এর প্লট বরাদ্দ নেওয়া, বড় দুটি টেলিকম অপারেটরের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের ‘ঘুষ’ নেওয়ার অভিযোগের অনুসন্ধান করছে দুদক।
‘ঘুষ, ক্ষমতার অপব্যবহার ও জালিয়াতির’ অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাবেক কমিশনার মো. জহুরুল হককে প্রায় তিন ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুদক।
বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে হাজির হন। দুপুর দেড়টার দিকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তিনি কার্যালয় ত্যাগ করেন। তবে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের কোনো প্রশ্নের জবাব তিনি দেননি।
দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম সাবেক কমিনার জহুরুল হককে জিজ্ঞাসাবাদ করার তথ্য জানালেও বিস্তারিত বলতে পারেননি।
সংস্থার একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “জিজ্ঞাসাবাদে মূলত সাবেক কমিশনার জহুরুল হক এবং তার স্ত্রীর নামে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-রাজউকের প্লট বরাদ্দ সংক্রান্ত বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। প্লটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট টেলিকম–সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়েও জানতে চাওয়া হয়, তবে প্রধানভাবে ছিল প্লট সংক্রান্ত বিষয়টি।
“জিজ্ঞাসাবাদে রাজউকের প্লট বিষয়ে ‘মিসডিক্লারেশন’ বা সম্পদ বিবরণীতে ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগটি বিশেষভাবে উঠে আসে। আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে, জহুরুল হকের স্ত্রী ২০১২–১৩ সালের দিকে একটি প্লট পেয়েছিলেন। কিন্তু জহুরুল হক ২০১৪ সালে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে উল্লেখ করেন, তার স্ত্রীর নামে কোনো প্লট নেই। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি দাবি করেন, বিষয়টি তার নজরে ছিল না এবং খেয়াল না করায় ওই তথ্য সম্পদ বিবরণীতে অন্তর্ভুক্ত হয়নি।”
অনুসন্ধানের প্রয়োজনে জহুরুল হককে আবারও তলব করা হতে পারে বলে দুদকের ওই কর্মকর্তা বলেছেন।
জহুরুল হকের বিরুদ্ধে ‘ক্ষমতার অপব্যবহার’ করে তদন্তাধীন মামলার আসামিদের কাছ থেকে ‘আর্থিক সুবিধা’ গ্রহণ, ‘জালিয়াতির’ মাধ্যমে রাজউক-এর প্লট বরাদ্দ নেওয়া, বড় দুটি টেলিকম অপারেটরের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের ‘ঘুষ’ গ্রহণ এবং সেই অর্থ বিদেশে পাচার করে বিভিন্ন দেশে সম্পদ অর্জনের অভিযোগের অনুসন্ধান করছে দুদক ।
এসব অভিযোগ অনুসন্ধানে গত বছরের জানুয়ারিতে দুদকের পরিচালক এস এম এম আখতার হামিদ ভূঞার নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি অনুসন্ধান দল গঠন করা হয়। দলে আরও রয়েছেন সহকারী পরিচালক মিনহাজ বিন ইসলাম এবং উপসহকারী পরিচালক মো. জাকির হোসেন।
এর আগে গত ৩ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক ইনকামিং কলের টার্মিনেশন রেট ও রেভিনিউ শেয়ার ‘বেআইনিভাবে’ কমিয়ে রাষ্ট্রের প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা ক্ষতি করার অভিযোগে জহুরুল হকসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে জহুরুলের পাসপোর্ট বাতিল করে তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।
সাবেক জেলা ও দায়রা জজ জহুরুল হক বিডিআর হত্যা মামলার বিচারক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৪ সালে তিনি অবসরে যান। আওয়ামী লীগ সরকার তাকে বিটিআরসির কমিশনার এবং পরে চেয়ারম্যান করে।
২০২১ সালের ১০ মার্চ কমিশনার হিসেবে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) যোগ দেন জহুরুল হক। ক্ষমতার পালাবদলের পর ২০২৪ সালের ৩০ অক্টোবর তিনি পদত্যাগ করেন।
