Published : 04 May 2026, 05:12 PM
নিরাপত্তা নিশ্চিতে জাতীয় মহাসড়ক, আঞ্চলিক মহাসড়ক, জেলার মহাসড়কগুলো ধাপে ধাপে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
তিনি বলেন, “আমার মনে হয় যে মোটামুটিভাবে বছরে তো সাড়ে চার থেকে পাঁচ হাজার মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায়। এটা আমাদের জন্য অনাকাঙ্ক্ষিত, খুব দুর্ভাগ্যজনক।
“এবার আমরা যেটা চাচ্ছি, প্রাধিকার-অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জাতীয় মহাসড়কগুলোকে সিসি ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসা, এরপর আঞ্চলিক মহাসড়ক, এরপর হচ্ছে জেলা মহাসড়ক। এটা পর্যায়ক্রমে আমরা আনতে আপনার পদক্ষেপ নিয়েছি, পরিকল্পনা, পদক্ষেপ এবং কর্মসূচি নিয়েছি। এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে, চলছে ধাপে ধাপে।”
সোমবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক সম্মেলনে সড়ক পরিবহন খাত সংক্রান্ত অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন মন্ত্রী।
বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে ভূমি অধিগ্রহণকে প্রধান সমস্যা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, “ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক, চার বছর, ভূমি অধিগ্রহণ শেষ হয়নি এখনো। আমি যখন দায়িত্ব নিলাম, তখন দেখলাম যে মাত্র ২০ শতাংশ হয়েছে। সেটা এই দুই মাসের মধ্যে এখনো মনে হয় ৪৬ শতাংশ করতে পেরেছি।”
নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতে নানা প্রতিবন্ধকতার কথাও বলেছেন সড়কমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “এরকম অনেক প্রকল্প আছে। যেমন: রাস্তার দুই পাশ দখল, রাস্তার উপরে বাজার, রাস্তার উপরে অনেক সব গলিত হাট চলে আসে। অবৈধ বিজ্ঞাপন বিলবোর্ড আছে। সেগুলি অপসারণ করা দরকার। নদীগুলি বা সরকারি জায়গায় ক্রমাগতভাবে দখল হয়। সেখানে আরও তৎপর থাকলে ভালো হয়।”

তিনি বলেন, যানবাহনগুলো বিশেষ করে ট্রাক বা কভার্ড ভ্যানের যে পরিমাণ মালামাল নেওয়ার কথা, কোনো কোনো সময়ে সেগুলো তার চেয়ে দুইগুণ, তিনগুণ মাল তারা বহন করে।
এর ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে রবিউল আলম বলেন, “যেটাতে রাস্তা ভেঙে যায়, ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সে ব্যাপারে তাদের (ডিসি) আরও অ্যাটেনশন দিতে বা কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।”
যত্রতত্র স্পিড ব্রেকার যাতে না দেওয়া হয়, সে বিষয়ে ডিসিদের উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
“কোনো স্কুল মনে করছে, সেখানে দরকার, মান না বজায় রেখে বা ওই অঞ্চলে স্পিড ব্রেকারের প্রয়োজন আছে কী না, তা বিবেচনা না করে যত্রতত্র করেছে।
“সে সমস্ত জায়গায় রোড সেফটি, রোড বাস্তবায়ন, এই জায়গা অনেক জায়গা দখল আছে, সেগুলি থেকে কীভাবে সেটা মুক্ত করা যায় সরকারের পক্ষে, রাষ্ট্রের পক্ষে, রাষ্ট্রের স্বার্থে কিভাবে কাজ করা যায়, সেগুলি নিয়ে তাদের সাথে আমার কথা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা মনে করছি, এই সম্মেলনের পর কেন্দ্র এবং মাঠ পর্যায়ের প্রশাসনের মধ্যে আরও সমন্বয় বাড়বে, আরও বেশি দক্ষতা দেখা যাবে, আরও বেশি কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া যাবে এবং সফল হওয়া যাবে।”
এ সময় সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান উপস্থিত ছিলেন।