Published : 13 Jul 2025, 12:38 AM
টানা ভারি বৃষ্টিতে বন্যার কবলে পড়া ফেনীতে সেলোনিয়া ও মুহুরি নদীর পানি কমছে। এতে জেলায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতির আভাস দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
শনিবার পানি উন্নয়ন বোর্ডের পূর্বাভাস কেন্দ্রের নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়, ফেনী জেলার সেলোনিয়া ও মুহুরি নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ‘পানি সমতলও’ কমছে। আগামী তিন দিন তা অব্যাহত থাকতে পারে এবং ফেনী জেলার বন্যা পরিস্থিতি উন্নতি হতে পারে।
তবে এ অববাহিকায় আগামী তিন দিন মাঝারি থেকে মাঝারি-ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
সক্রিয় মৌসুমী বায়ু আর লঘুচাপের প্রভাবে প্রবল বৃষ্টিতে ফেনীসহ দেশের বেশ কিছু জেলায় জলাবদ্ধতার পাশাপাশি নদ-নদীর পানি বেড়ে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়। ফেনীতে প্রশাসনের হিসেবে ৩৪ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে। আশ্রয়কেন্দ্রেও যেতে হয় অনেককে।
এরপর শুক্রবার থেকে বৃষ্টি কমে এলে পরিস্থিতির অবনতি হয়নি।
এখন পূর্বাভাস কেন্দ্রের হালনাগাদ তথ্য বলছে, দেশের সব প্রধান নদ-নদীর পানি সমতল বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের অভ্যন্তরে ও উজানে উল্লেখযোগ্য ভারি বৃষ্টিপাত পরিলক্ষিত হয়নি।

এদিকে গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি সমতল স্থিতিশীল আছে; যা আগামী একদিন পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। কিন্তু পরবর্তী চার দিন নদীগুলোর পানি সমতল বাড়তে পারে; তবে তা বিপৎসীমার নিচেই থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
এ অববাহিকাতেও আগামী পাঁচ দিন মাঝারি থেকে মাঝারি-ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র।
ফেনীতে বন্যা কবলিত সাড়ে ৩৪ হাজার মানুষ, আশ্রয়কেন্দ্র ছাড়ছে লোকজন
অপরদিকে, সিলেটের সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি সমতল হ্রাস পাচ্ছে এবং বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী একদিন এসব নদীর পানি সমতল হ্রাস পেতে পারে এবং পরবর্তী দুদিন বাড়তে পারে।
এ অঞ্চলে আগামী একদিন হালকা থেকে মাঝারি এবং পরবর্তী দুদিন মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
চট্টগ্রাম বিভাগের গোমতী, ফেনী, হালদা, মাতামুহরি ও সাঙ্গু নদীর পানি সমতল কমছে এবং বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী একদিন পর্যন্ত নদীগুলোর পানি সমতল স্থিতিশীল থাকতে পারে এবং পরবর্তী দুদিন বাড়তে পারে।
এ অববাহিকায় আগামী তিন দিন মাঝারি-ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি সমতল স্থিতিশীল আছে ও যমুনা নদীর পানি সমতল বাড়ছে, যা আগামী একদিন স্থিতিশীল থাকতে পারে।
কিন্তু পরবর্তী চার দিন পানি সমতল হ্রাস পেতে পারে এবং বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। এ অববাহিকায় আগামী পাঁচ দিন হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।