১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

সুনামগঞ্জে ‘বন কর্মকর্তাদের সামনে’ মেছোবাঘ পিটিয়ে হত্যা, ক্ষোভ

“লোকজন প্রাণীটিকে বাঘ মনে করে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে বলে শুনেছি।”

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 26 Jul 2026, 01:20 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:44 PM

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় বাঘ আতঙ্কে একটি মেছোবাঘকে পিটিয়ে হত্যা করেছে স্থানীয় জনতা। 

তবে বন কর্মকর্তারা দাবি করছেন, তারা ঘটনাস্থলেই ছিলেন না।  

শনিবার বিকালে ছিলিমপুর গ্রামে আব্দুল আহাদ চৌধুরীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। প্রাণীটিকে উদ্ধারে বন বিভাগ ব্যর্থ হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। 

অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া সুনামগঞ্জের মল্লিকপুর বন বিভাগের কর্মকর্তা মো. আনিসুজ্জামান বলেছেন, “উদ্ধার অভিযান ব্যর্থ হওয়ার পর গ্রামবাসী মেছোবাঘটিকে হত্যা করেছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।”

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছে, কয়েক দিন ধরে ছিলিমপুর গ্রামের একটি ঝোপে মেছোবাঘটি দেখা যাচ্ছিল। খবর পেয়ে শনিবার সকালে বন বিভাগ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় প্রশাসন প্রাণীটি উদ্ধারে অভিযান চালায়। তবে দীর্ঘ সময় চেষ্টা করেও সেটিকে উদ্ধার করতে পারেনি তারা। 

তাদের ভাষ্য, এক পর্যায়ে স্থানীয় লোকজন উত্তেজিত হয়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে মেছোবাঘটিকে পিটিয়ে হত্যা করে। ঘটনাটি বন বিভাগ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের সামনেই ঘটে।

ছিলিমপুর গ্রামের বাসিন্দা কামাল হোসেন বলেন, “বাঘ এসেছে বলে গ্রামে গুজব রটে গেলে লোকজন ভয় পেয়ে যান। এক পর্যায়ে বন বিভাগ ও ফায়ার সার্ভিস আসলেও উদ্ধারের নামে তারা ‘কালক্ষেপণ’ করেন।”

কামালের অভিযোগ, “তারা (বনবিভাগ) প্রাণীটি উদ্ধারে কার্যকর কোনো পদক্ষেপই নেননি। তাই গ্রামের লোকজন ক্ষুব্দ হয়ে প্রাণীটিকে পিটিয়ে হত্যা করেন। এমন দৃশ্য আমার কাছে ভালো লাগেনি।”

জগন্নাথপুর পৌরসভার সাবেক প্যানেল চেয়ারম্যান সাফরুজ ইসলাম বলেছেন, “লোকজন প্রাণীটিকে বাঘ মনে করে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে বলে শুনেছি। তবে বন বিভাগ আসার পরও প্রাণীটির বিচরণ ছিল। তারা উদ্ধার করতে ব্যর্থ হওয়ায় লোকজন উত্তেজিত হয়ে এ কাজটি করেছেন।”

এ বিসয়ে জানতে চাইলে সুনামগঞ্জ বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা রিয়াজ উদ্দিন বলেন, “শনিবার দিনভর আমরা মেছোবাঘটিকে উদ্ধারের চেষ্টা করেছি। কিন্তু উৎসুক জনতার ভিড়ের কারণে সম্ভব হয়নি।

“এক পর্যায়ে আমাদের উদ্ধার অভিযান ব্যর্থ হলে উন্মত্ত জনতা মেছো বাঘটিকে পিটিয়ে হত্যা করে বলে শুনেছি।”