তার ভাষ্য, “এটি কোনো প্রশ্ন নয়।”
Published : 20 Jun 2024, 06:46 PM
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ছাগলকাণ্ড’ নিয়ে হই চই ফেলে দেওয়া তরুণ ও তার রাজস্ব কর্মকর্তা ‘বাবাকে’ নিয়ে এবার প্রশ্নের মুখে পড়ত হল এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিমকে।
তবে তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন, এ নিয়ে কোনো প্রশ্নের জবাব তিনি দেবেন না।
বৃহস্পতিবার ঢাকার কারওয়ান বাজারে টিসিবি ভবনে এক সেমিনার শেষে সাংবাদিকদরা এনবিআর চেয়ারম্যানকে পাকড়াও করেন। তারা জানতে চান, ফেইসবুকে ১৫ লাখ টাকার ছাগল কেনার পোস্ট দেওয়া তরুণ মুশফিকুর রহমান ইফাতের বাবা এনবিআর কর্মকর্তা মতিউর রহমানের অর্থের উৎস কী?
উত্তর এড়িয়ে গিয়ে রহমাতুল মুনিম বলেন, “এটি কোনো প্রশ্ন নয়, এ নিয়ে কোনো প্রশ্নের জবাব দেব না।”
‘বাংলাদেশ ট্রেড পলিসি: ইভালুয়েশন, কারেন্ট স্টেট অ্যান্ড ফিউচার ডিরেকশনস’ শিরোনামে সেমিনারটির আয়োজন করে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন। বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটুও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
কোরবানির জন্য ঢাকার মোহাম্মদপুরের সাদিক এগ্রো থেকে ইফাত নামের এক তরুণের ১৫ লাখ টাকা দামে ছাগল কেনার ফেইসবুক পোস্ট ঘিরে গত কয়েকদিন ধরেই আলোচনা-সমালোচনা চলছে সোশাল মিডিয়ায়।
বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গেও কথা বলেন ইফাত। ধানমন্ডির বাসায় ঈদের দিন ছাগলটি কোরবানি দেওয়ার কথা বলেছিলেন তিনি। তখন ছাগলসহ ইফাতের ছবি জুড়ে দিয়ে অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন তোলেন- ১৫ লাখ টাকা দিয়ে ছাগল কেনার অর্থের উৎস কী?
এ প্রশ্ন ঘিরে সামনে আসতে থাকে ইফাতের পরিচয়। ইফাত নিজেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবিসহ পোস্ট দিয়ে ও সংবাদমাধ্যমে বাবার পরিচয় দিতে গিয়ে বলেন, তার বাবা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাস্টমস, এক্সসাইজ ও ভ্যাট অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনালের সভাপতি মো. মতিউর রহমান।
মতিউর রহমান এর আগে ব্রাসেলসে বাংলাদেশের কমার্শিয়াল কাউন্সিলের, চট্টগ্রাম কাস্টমসের কমিশনার, ভ্যাট কমিশনারসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন।
ইফাতের বাবার পরিচয় ধরে অনেকে প্রশ্ন তোলেন, একজন সরকারি কর্মকর্তার ছেলের বিপুল ব্যয়ে কোরবানির পশু কেনার সামর্থ্য হল কী করে?
অবশ্য ছাগলটি ইফাত শেষপর্যন্ত কেনেননি বলে দাবি সাদিক এগ্রোর কর্ণধার মোহাম্মদ ইমরান হোসাইনের। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেছেন, ইফাত শুধু ১ লাখ টাকা দিয়ে ছাগলটির বুকিং করেছিলেন। তবে অবশিষ্ট মূল্য পরিশোধ করে ছাগলটির তিনি আর নিয়ে যাননি।
বিষয়টি নিয়ে ইফাতের বক্তব্যও এসেছে সংবাদমাধ্যমে। তার দাবি, ইমরান হোসাইনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সূত্রে তার ‘অনুরোধে’ ছাগলটি নিয়ে প্রচারের জন্য এতটা দামের কথা বলে পোস্ট দিয়েছিলেন তিনি।
মতিউর রহমান এ আলোচনায় ‘ঘি ঢেলেছেন’ ছেলের পরিচয় ‘অস্বীকার’ করে। একটি টেলিভিশনের প্রশ্নের জবাবে তিনি দাবি করেন, মুশফিকুর রহমান ইফাত নামে কেউ তার ছেলে বা আত্মীয় নয়, এমন নামে কাউকে চেনেন না পর্যন্ত। তার একটিই ছেলে, তার নাম তৌফিকুর রহমান।
এরপর ইফাতের পরিচয় ও পারিবারিক ঠিকুজি নিয়ে ফেইসবুকে নানা তথ্য আসতে থাকে। ইফাতের সঙ্গে মতিউর রহমান এবং পরিবারের অন্যদের ছবিও প্রকাশিত হয়।
এ পর্যায়ে সামনে আসেন ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারী। একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে তিনি দাবি করেন, ইফাত তার মামাতো বোনের সন্তান। আর মতিউর রহমানই ইফাতের বাবা।
এ সংসদ সদস্য বলেন, ইফাত এনবিআর কর্মকর্তা মতিউর রহমানের দ্বিতীয় পক্ষের (স্ত্রীর) ছেলে। মতিউর রহমানের প্রথম স্ত্রী লায়লা কানিজ লাকি ছিলেন শিক্ষা ক্যাডারের সাবেক কর্মকর্তা। সরকারি চাকরি ছেড়ে তিনি নাম লেখান রাজনীতিতে। তিনি এখন নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান।
এ বিষয়ে মতিউর রহমান ও লায়লা কানিজের বক্তব্য জানতে পারেনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
নিজাম হাজারীর বক্তব্যের পর এ বিষয়ে মতিউর রহমানের আর কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।