Published : 30 Apr 2026, 03:19 PM
প্রধানমন্ত্রীর জন্য একটি বাসভবন নির্মাণের নির্দেশনা চেয়ে রিট আবেদন করেছেন এক আইনজীবী।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. ইলিয়াছ আলী মণ্ডল বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট মামলা করেন।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব, গণপূর্ত সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, জনপ্রশাসন সচিব, আইন সচিব, জাতীয় সংসদ সচিবালয় সচিব এবং পুলিশের মহাপরিদর্শককে বিবাদী করা হয়েছে সেখানে।
আবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে গণ-অভ্যুত্থানের পর আগের সরকারি বাসভবন গণভবনকে একটি পাবলিক জাদুঘরে রূপান্তরিত করা হয়। পরে প্রধানমন্ত্রী এবং তার পরিবারের জন্য একটি ‘নিরাপদ ও উপযুক্ত’ সরকারি বাসভবন নির্ধারণ, নির্মাণ বা সংস্কারের কোনো ‘দৃশ্যমান ও কার্যকর’ পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
প্রধানমন্ত্রীর জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং যথাযথ আবাসিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করাকে ‘জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়’ হিসেবে বর্ণনা করে রিট আবেদনে বলা হয়, “সরকারপ্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী একটি নিরাপদ এবং সরকারিভাবে নির্ধারিত বাসভবন পাওয়ার অধিকারী।”
প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা, সুরক্ষা এবং প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে রিট আবেদনে বলা হয়, “প্রধানমন্ত্রীর জন্য একটি নিরাপদ সরকারি বাসভবন নির্মাণ বা নির্ধারণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণে স্পষ্ট নিষ্ক্রিয়তা এবং ব্যর্থতা নাগরিকদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে এবং প্রশাসনিক দায়িত্ব এবং জাতীয় নিরাপত্তা বিবেচনা সম্পর্কে গুরুতর প্রশ্ন উত্থাপন করেছে।”
রিট আবেদনকারী আইনজীবী মো. ইলিয়াছ আলী মণ্ডল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, আগামী রোববার মূলভবনের ২৩ নম্বর কোর্টে এই আবেদনের শুনানি হবে।
এর আগে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের এই আইনজীবী ‘জনস্বার্থে’ উকিল নোটিস পাঠিয়েছিলেন। তাতে সাড়া না পেয়ে এবার রিট মামলা করলেন।
চব্বিশের অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা ২০০৯ সালে তার বাসভবন হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন শেরেবাংলা নগরের গণভবনকে। ৫ অগাস্ট তার সরকারের পতনের দিন সেখানে ব্যাপক হামলা-লুটপাট হয়। সেই ভবনকে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ হিসেবে গড়ে তুলেছে অন্তর্বর্তী সরকার।
বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মা খালেদা জিয়া যখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, দুইবারই তিনি ছিলেন ঢাকা সেনানিবাসের মঈনুল রোডের ৬ নম্বর বাসায়। শেখ হাসিনা ২০১০ সালে তাকে ওই বাড়ি থেকে উৎখাত করে। পরে তিনি গুলশানে ভাড়া বাসায় ওঠেন ।
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নেওয়া মুহাম্মদ ইউনূস হেয়ার রোডের রাষ্ট্রীয় অতিথিভবন যমুনাকে তার অফিসিয়াল বাসভবন হিসেবে ব্যবহার করেন।
১২ ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনের পর গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার সংস্কার হলে সেখানেই উঠবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেভাবেই যমুনাকে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন হিসেবে প্রস্তুতও করে মন্ত্রণালয়।
কিন্তু শেষমেষে যমুনায় না ওঠার সিদ্ধান্ত নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর লন্ডন থেকে ঢাকায় ফিরে গুলশানের ১৯৬ নম্বর বাড়িতে সপরিবারে ওঠেন তারেক রহমান। এরপর থেকে সেখানেই তিনি থাকছেন।
তবে গত রোবার ঈদের দিন রাষ্ট্রীয় এ অতিথি ভবন যমুনাতেই কূটনীতিক, শিক্ষাবিদসহ সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী।
নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের জন্য নতুন করে বাসভবন নির্মাণ করতে আগেই কাজ শুরু করেছিল গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। এ জন্য একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছিল। সেই কমিটি নির্বাচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের আবাসনের বিষয়ে সুপারিশও জমা দেয়।
ওই কমিটি শেরেবাংলা নগরে দুটি স্থান প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন হিসেবে প্রস্তুত করার বিষয়টি বিবেচনা করে। যার একটি হল শেরেবাংলা নগরে সংসদ ভবন এলাকার স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বাসভবন, আরেকটি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এলাকা। তবে এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কোনো সিদ্ধান্ত এখনো সরকারের তরফে জানানো হয়নি।