০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

রেমালের ক্ষয়ক্ষতি দেখতে কলাপাড়ায় যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

ঘূর্ণিঝড় রেমালের ক্ষয়ক্ষতি পরিদর্শন করে দুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করবেন প্রধানমন্ত্রী।

রেমালের ক্ষয়ক্ষতি দেখতে কলাপাড়ায় যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 18 Aug 2024, 04:10 PM

Updated : 26 Aug 2026, 09:40 AM

ঘূর্ণিঝড় রেমাল উপদ্রুত এলাকার ক্ষয়ক্ষতি পর্যবেক্ষণ ও ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করতে বৃহস্পতিবার পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বুধবার প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে তার সফরের কথা জানানো হয়েছে।

একশ কিলোমিটারের বেশি বাতাসের বেগ নিয়ে আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড় রেমালের সঙ্গে জলোচ্ছ্বাসে ধসে পড়েছে উপকূলীয় এলাকার অনেক ঘর। ঝড়ে গাছপালা ভেঙেও ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভেসে গেছে মাছের ঘের।

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে পটুয়াখালীতে দফায় দফায় প্লাবিত হয়েছে চরাঞ্চলসহ শতাধিক গ্রাম। তলিয়ে যায় পৌরসভাসহ জেলার নিম্মাঞ্চল। 

পটুয়াখালীর ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা সুমন চন্দ্র দেবনাথ জানান, প্লাবিত হয়ে ও ঝড়ো বাতাসে জেলায় মোট ২৩৫টি আধাপাকা ও কাচা ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে। আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩ হাজার ৫০০ ঘরবাড়ি। এর মধ্যে বিচ্ছিন্ন দ্বীপচর রাঙ্গাবালী উপজেলা ও কলাপাড়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে। বহু গাছপালা উপড়ে গেছে।

জলোচ্ছ্বাসে উপকূলীয় উপজেলায় বেশ কিছু পয়েন্টে বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝড়ো বাতাসে গাছ উপড়ে দুমকি ও বাউফলে দুই বৃদ্ধ নিহত হন। এছাড়া রোববার কলাপাড়া উপজেলায় এক যুবক নিহত হন।

ঘূর্ণিঝড়ের এই ক্ষতচিহ্ন বৃহস্পতিবার ঘুরে দেখবেন সরকারপ্রধান।

গত ২২ মে পূর্বমধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়, যা ধীরে ধীরে শক্তি সঞ্চয় করে সুস্পষ্ট লঘুচাপ, নিম্নচাপ, গভীর নিম্নচাপ দশা পেরিয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয় শনিবার সন্ধ্যায়। তখন এর নাম দেওয়া হয় রেমাল। রোববার সকালে ঘূর্ণিঝড়টি পরিণত হয় প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে। এর প্রভাবে রোববার বিকাল থেকেই উপকূলীয় এলাকায় ব্যাপক বৃষ্টিপাত শুরু হয়। পরদিন সকাল থেকে সারাদেশেই বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বেড়ে দুর্বল হয়ে আসে রেমাল। ঘূর্ণিঝড়ের মধ্যে বানের জলে ভেসে, দেয়াল ও গাছ চাপায়, আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়ার সময় অসুস্থ হয়ে প্রাণ গেছে দেড় ডজন মানুষের।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, রেমালে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ৩৭ লাখ ৫৮ হাজার ৯৬ জন। সম্পূর্ণভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে ৩৫ হাজার ৪৮৩টি এবং আংশিকভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার ৯৯২টি ঘরবাড়ি।

আরও পড়ুন-

উপকূলজুড়ে ক্ষত রেখে গেল রেমাল