Published : 19 Jan 2026, 07:17 PM
নির্বাচন নিয়ে কোনো অভিযোগ বা পরামর্শ থাকলে তা তাৎক্ষণিক সরকারকে জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।
তিনি বলেছেন, “সরকারের পক্ষ থেকে যে ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া যায়, সরকার তা নেবে। কেউ যেন আইন অমান্য না করতে পারেন, সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সোমবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চার সদস্যদের প্রতিনিধি দল।
এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে এতে অংশ নেন দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া, সেক্রেটারি মনিরা শারমিন এবং আইনি সহায়তাবিষয়ক উপকমিটির প্রধান জহিরুল ইসলাম মূসা।
বৈঠক শেষে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বৈঠকের বিষয়ে জানিয়েছে।
বৈঠকে এনসিপি নেতারা নির্বাচন নিয়ে তাদের পর্যবেক্ষণ ও বিভিন্ন উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন। তারা বলেন, গণভোটে “হ্যাঁ” এর পক্ষে এনসিপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা প্রচার চালাচ্ছেন।
এনসিপির নেতারা নির্বাচন সম্পর্কিত কয়েকটি বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং নির্বাচনে যেন লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত হয়, সে ব্যাপারে সরকারকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।
নির্বাচনে নিরপেক্ষতা নিশ্চিতের জন্যই লটারির মাধ্যমে মাঠ প্রশাসনে রদবদল করা হয়েছে মন্তব্য করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “এ নির্বাচনে কোনো পক্ষপাতিত্বের সুযোগ নেই। এই নির্বাচন দেশের ভাগ্য নির্ধারণের নির্বাচন। এ নির্বাচন দেশ পাল্টে দেওয়ার নির্বাচন। এই নির্বাচন সুষ্ঠু হতেই হবে।”
নির্বাচনের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার কথাও জানান প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, “অধিকাংশ কেন্দ্র জানুয়ারির মধ্যেই সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে। এছাড়া ঝুঁকির আশঙ্কা আছে এমন কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বডি ক্যামেরা থাকবে।”
নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে নজরদারি করা হবে বলেও জানান তিনি।
গণভোটে “হ্যাঁ” ভোটের পক্ষে সরকারের প্রচার প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “গণভোটে “হ্যাঁ” ভোট কেন দেওয়া প্রয়োজন, “হ্যাঁ” ভোট দিলে কী হবে, আমরা তা জনগণকে বোঝানোর চেষ্টা করছি। এ ব্যাপারে সব রাজনৈতিক দলকেও আহ্বান জানিয়েছি।
“এবারের নির্বাচন যেন সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে হয়, সেই দায়িত্ব— সরকার, নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক দল, আমাদের সবার। এ ব্যাপারে সব রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা কামনা করছি।”
বৈঠকে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও প্রধান উপদেষ্টার তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব উপস্থিত ছিলেন।