সংরক্ষিত আসনে সরাসরি নির্বাচন দাবি
নারীর রাজনৈতিক অধিকার ফোরাম চাইছে, নারী প্রার্থীদের আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া হোক।
জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনে সরাসরি নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে ১২ সংগঠনের মোর্চা নারীর রাজনৈতিক অধিকার ফোরাম।
সেই সঙ্গে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর মনোনয়নের ৩৩ শতাংশ নারীদের দেওয়া এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধন করে নারী প্রার্থীর জন্য রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বিশেষ আর্থিক সহায়তা বরাদ্দ দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
আগামী জাতীয় নির্বাচনে নারীর অধিকার আদায়ের রূপরেখা তুলে ধরতে রোববার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনী মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্রের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সুস্মিতা রায় বলেন, “স্বাধীনতার ৫০ বছরের বেশি সময় অতিক্রান্ত হলেও সংসদে নারীর সরাসরি প্রতিনিধিত্ব এখনো হতাশাজনকভাবে কম।
“সংসদে নারীর ন্যায্য প্রতিনিধিত্ব আমাদের গণতন্ত্র, সমতা এবং অন্তর্ভুক্তি ধারণার সাথে গভীরভাবে সম্পৃক্ত।”
তিনি বলেন, “বর্তমানে সংবিধানের ৬৪ এর ৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদে ৫০টি সংরক্ষিত আসন আছে। কিন্তু এই আসনগুলো নির্বাচনের মাধ্যমে সংসদের প্রাপ্ত দলীয় আসন অনুপাতে এমপিদের ভোটে পূরণ হয়।
“ফলে তারা দলীয় নেতৃত্বের কাছে জবাবদিহি থাকেন, জনগণের কাছে নয়। এতে নারীদের স্বাধীন রাজনৈতিক ভূমিকা সংকুচিত হয়ে পড়ে। তারা সংসদে উপস্থিত থাকলেও বেশিরভাগ সময়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন না।”
নারী অধিকার কর্মী সুস্মিতা রায় বলেন, ১৯৯৫ সালের ৯ ডিসেম্বর রোকেয়া দিবসে যে ‘পায়রাবন্দ ঘোষণা' দেওয়া হয়, সেখানে মোট ৩১টি ধারার মধ্যে ১১ নম্বর ধারায় বলা হয়, “জাতীয় সংসদে মহিলাদের প্রতিনিধি নির্বাচনে অপমানজনক পদ্ধতির অবসান চাই।”
তিনি বলেন, “আজ ত্রিশ বছর পরেও সেই পরিস্থিতি বহাল আছে। এমন পরিস্থিতিতে নারীর রাজনৈতিক অধিকার ফোরাম শুরু থেকেই বলছে, ‘নারীর প্রতিনিধিত্বকে প্রতিটি পর্যায়ে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না।’
“আমরা বারবার বলেছি, সংসদে নারীর ন্যূনতম ৩৩ শতাংশ প্রতিনিধিত্ব এখনই বাধ্যতামূলক করতে হবে। এবং ধাপে-ধাপে সেটা ৫০ শতাংশে উন্নীত করতে হবে।”
বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্রের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সুস্মিতা বলেন, “এটি বাস্তবায়নের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থী মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় আইনি বাধ্যবাধকতা আরোপ করতে হবে। শুধু দলগুলোর সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করলে নারীর অংশগ্রহণ বাড়বে না।”
১০০ সংরক্ষিত আসনে সরাসরি নির্বাচনের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, “সংসদে সংরক্ষিত আসনকে ৫০ থেকে ১০০-তে উন্নীত করার যে সিদ্ধান্ত জুলাই সনদে নেওয়া হয়েছে, সেটিকে স্বাধীনতা পরবর্তী নারী আন্দোলনের একটি অগ্রগতি বলে ধরে নিলেও এই ১০০ আসনে সরাসরি নির্বাচন হবে কি না তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি।
“অতীতের অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, ইশতেহারে উল্লেখ থাকলেও দেশের ৫১ শতাংশ নারীর এই দাবিটি কোনো সরকারই পূরণ করেনি। এবং কার্যকর আইনও প্রণয়ন করেনি।”
সুস্মিতা রায় বলেন, “সরাসরি নির্বাচন না হলে আবারও নারীরা দলীয় নেতৃত্বের কাছে মনোনয়নের জন্য নির্ভরশীল হয়ে পড়বেন। এতে তাদের রাজনৈতিক স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ হবে এবং তারা কখনোই নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে ভূমিকা রাখতে পারবে না।”
সংরক্ষিত আসনে সরাসরি নির্বাচন ও নির্বাচনি পদ্ধতি সম্পর্কে সুস্পষ্ট নির্দেশনা প্রদানের দাবি জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন ইউপিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও অ্যাকটিভিস্ট মাহ্রুখ মহিউদ্দীন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা, গণসংহতি আন্দোলনের রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য তাসলিমা আখতার, অ্যাকশন এইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির, উদ্যোক্তা-ব্যবসায়ী নেতা সাদাফ সাজ সিদ্দিকী।
