দুদক চেয়ারম্যান-কমিশনার খুঁজতে কমিটি, সদস্য হলেন সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব
গত ২৯ অক্টোবর মঙ্গলবার দুদক চেয়ারম্যান মুহাম্মদ মইনুউদ্দীন আব্দুল্লাহ, কমিশনার আছিয়া খাতুন ও কমিশনার জহুরুল হক ‘ব্যক্তিগত’ কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন।
দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগে সুপারিশ করতে বাছাই কমিটি গঠন করেছে সরকার।
রোববার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ৭ ধারা অনুযায়ী এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটির সভাপতি করা হয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হককে।
মাহবুব হোসেন ছাড়া কমিটির অন্য সদস্যরনা হলেন- হাই কোর্ট বিভাগের বিচারক বিচারপতি ফারাহ মাহবুব, বাংলাদেশের মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক মো. নূরুল ইসলাম, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান মোবাশ্বের মোনেম ও সবশেষ অবসরপ্রাপ্ত মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাছাই কমিটি, চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগে সুপারিশ করতে ‘উপস্থিত সদস্যদের অন্যূন ৩ জনের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে কমিশনারের প্রতিটি শূন্য পদের বিপরীতে ২ জন ব্যক্তির নামের তালিকা প্রণয়ন করে রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠাবে’।
অন্যূন ৪ জন সদস্যের উপস্থিতিতে বাছাই কমিটির কোরাম গঠিত হওয়ার কথা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ বাছাই কমিটিকে প্রয়োজনীয় সাচিবিক সহায়তা দেবে।
গত ২৯ অক্টোবর মঙ্গলবার দুদক চেয়ারম্যান মুহাম্মদ মইনুউদ্দীন আব্দুল্লাহ, কমিশনার আছিয়া খাতুন ও কমিশনার জহুরুল হক ‘ব্যক্তিগত’ কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন। মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ এক সময় ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব। ২০২১ সালের ৩ মার্চ রাষ্ট্রপতি তাকে দুদক চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেন।
পাঁচ বছর মেয়াদের জন্য তারা দুদকে নিয়োগ পেলেও পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দেড় বছর আগেই তাদের বিদায় নিতে হয়।
দুদকের চেয়ারম্যান সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ এবং কমিশনাররা হাই কোর্ট বিভাগের বিচারকের সমান মর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেন।
ছাত্র-জনতার প্রবল আন্দোলনে গত ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগের ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে। এরপর প্রশাসন ও রাষ্ট্রীয় সকল প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে পরিবর্তনের হাওয়া লাগে।
সেই হাওয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংক, নির্বাচন কমিশন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন, সরকারি কর্ম কমিশনসহ বিভিন্ন সংস্থার শীর্ষ ব্যক্তিরা দায়িত্ব ছাড়তে বাধ্য হন।
অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দুদক চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের পদত্যাগের জন্য আলটিমেটামও দিয়েছিল।
