২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫ আশ্বিন ১৪৩৩

আদালতে জামিননামা জমা দিলেন সংসদ সদস্য গাজী নজরুল

হাই কোর্ট থেকে গত ১০ অগাস্ট ৮ সপ্তাহের জামিন পান জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কার হওয়া এ রাজনীতিক।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 20 Sep 2026, 04:36 PM

Updated : 20 Sep 2026, 04:36 PM

ঢাকার পল্লবী থানার হত্যাচেষ্টা মামলায় আদালতে জামিননামা জমা দিয়েছেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম।

রোববার ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদের আদালতে সশরীরে জামিননামা জমা দেন জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কার হওয়া এ রাজনীতিক।

প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই সাইফুল ইসলাম বলেন, গাজী নজরুল ইসলাম উচ্চ আদালত থেকে ৮ সপ্তাহের জামিন পেয়েছেন। আজ আদালতে তিনি জামিননামা জমা দেন।

“জামিনের মেয়াদ শেষ হলে তিনি বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইবেন।"

অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিবাদ এবং ভিডিও ফাঁসের সন্দেহে মারধর ও শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে গত ২১ জুলাই গাড়ি চালক ওবায়দুর রহমান পল্লবী থানায় এ মামলা করেন।

মামলায় হাই কোর্ট থেকে গত ১০ অগাস্ট ৮ সপ্তাহের জামিন পান গাজী নজরুল ইসলাম।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন- আমিনুর রহমান (৫৫), মাসুম বিল্লাহ (৪১), মোতাসসিম বিল্লাহ (২৫) ও রাকিবুল হাসান (৩০)।

মামলায় বলা হয়, ওবায়দুর রহমান পল্লবীর কালশী এলাকার ‘রোজগার্ডেন টাওয়ারে’ তার বোনের বাসায় থাকতেন এবং এমপি গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত গাড়ি চালাতেন।

এজাহারে বলা হয়, আত্মীয়তার সূত্রে নজরুল ইসলাম ওই বাসায় যাতায়াত করতেন। একপর্যায়ে নজরুল ইসলামের সঙ্গে ওবায়দুরের ভাগ্নির ‘অনৈতিক সম্পর্ক’ গড়ে ওঠে।

বিষয়টি টের পেয়ে ওবায়দুর তার পরিবারকে জানান এবং নজরুল ইসলামকে এ ধরনের সম্পর্ক থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে নজরুল ইসলাম ‘প্রাণনাশের হুমকি’ দেন বলে তার গাড়ি চালকের অভিযোগ।

মামলায় বলা হয়, মগবাজারের একটি ‘চক্র’ নজরুল ইসলাম ও ওবায়দুরের ভাগ্নির কিছু ‘অপ্রীতিকর ভিডিও’ সংগ্রহ করে এমপিকে ব্ল্যাকমেইল করতে থাকে। নজরুল ইসলামের ধারণা হয়, ওবায়দুরই গোপন ভিডিও ধারণ করে সংবাদমাধ্যম ও ওই চক্রের হাতে তুলে দিয়েছে।

এ নিয়ে বিরোধের জেরে গেল ১৪ জুলাই নজরুল ইসলামের ‘নির্দেশে’ অন্য আসামিরা ওবায়দুরের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে এজাহারে।

সেখানে বলা হয়, ওই দিন বেলা ১১টার দিকে আসামি আমিনুর রহমান ‘কৌশলে’ ওবায়দুরকে তাদের বাসার ড্রয়িংরুমে ডেকে নেন। সেখানে অন্য আসামিরা মিলে তাকে লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করেন।

একপর্যায়ে আমিনুর ফ্লোরে ফেলে ‘গলা টিপে শ্বাসরোধে হত্যা করার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেছেন ওবায়দুর।