Published : 03 Jun 2026, 02:52 PM
ঢাকায় বাড়ির ফটকের সামনে দুই নারীর মালামাল ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় তদন্তে নেমে নতুন চক্রের সন্ধান পাওয়ার কথা বলেছে পুলিশ, যারা নারায়ণগঞ্জ থেকে মোহাম্মদপুরে এসে মানুষজনের মালামাল লুটপাট করে।
বুধবার সংবাদ সম্মেলনে এসে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (এডিসি) ফজলুল করিম এ তথ্য দেন।
তিনি বলেন, "এ ঘটনায় জড়িতরা পেশাদার ছিনতাইকারী। তারা একসময় মোহাম্মদপুরে থাকত। পরে নারায়ণগঞ্জে নতুন আস্তানা গড়ে তোলে। সেখান থেকে এসে তারা নিয়মিত ছিনতাই করছে। "
রোববার ভোরে ঠাকুরগাঁও থেকে ঈদের ছুটি কাটিয়ে ঢাকায় ফেরেন দুই বোন। মোহাম্মদপুরের নূরজাহান রোড এলাকায় অটোরিকশা থেকে নেমে মালামাল নিয়ে বাসায় ঢোকার সময় ছিনতাইয়ের শিকার হন।
এ বিষয়ে অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, দুই নারী রিকশা থেকে বাসার সামনে এসে নামেন। বাসায় ঢুকার মুহূর্তে লুঙ্গি পরা এক যুবক চাপাতি হাতে তাদের দিকে এগিয়ে আসেন। তার পেছনে আসেন আরেক যুবক।
হাতে চাপাতি থাকা যুবক কিছু একটা বলে প্রথম রিকশাচালককে ধাক্কা দেন। পরে চাপাতির ভয় দেখিয়ে ব্যাগ, লাগেজ ও মোবাইল নিয়ে নেন তারা। নারীদের অলংকার ও মোবাইল ফোন নিতে তাদের তল্লাশি করতে দেখা যায়।
এ সময় পাশে একটি পিকআপ ছিল ল। সেই পিকআপে করে তারা এসেছিল এবং সেটা নেই তারা চলে যায়।
এ ঘটনায় নারায়ণগঞ্জের বন্দর এলাকা থেকে মঙ্গলবার রাতে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন জুয়েল ওরফে আরিফ (৪৫) এবং আনোয়ার হোসেন (২৮)।
এ ঘটনায় তদন্তের অগ্রগতি জানাতে এদিন সংবাদ সম্মেলন ডাকে ডিএমপি।
পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় ব্যবহৃত পিকআপ, চাপাতি ও ছিনতাই হওয়া কিছু আলামত উদ্ধার করা হলেও ছিনতাই হওয়া ট্রলি ব্যাগ ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
পুলিশ কর্মকর্তা ফজলুল করিম বলেন, "মামলার তদন্তে প্রথমে জুয়েল নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সিসিটিভি ফুটেজে তার হাতে চাপাতি দেখা গেছে। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে আনোয়ারকে গ্রেপ্তার করা হয়।
“আনোয়ারকে ট্রলি ব্যাগটি পিকআপে তুলতে দেখা যায়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জের বন্দর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ছিনতাইয়ের ঘটনায় ব্যবহৃত পিকআপ, চাপাতি, কিছু কাপড় উদ্ধার করা হয়।"
জুয়েলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় পাঁচটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে মাদক কারবার, ডাকাতি এবং নারী ও শিশু নির্যাতনসংক্রান্ত মামলাও আছে।
ফজলুল করিম বলেন, "জব্দ করা পিকআপের মালিক ও চালকের ছিনতাইচক্রে জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।"
এসব ঘটনার একজন ‘মূল পরিকল্পনাকারী’ থাকার তথ্য দিয়ে তিনি বলেন, "তদন্তের স্বার্থে তার নাম প্রকাশ করা হয়নি।"
ছিনতাই হওয়া ট্রলি উদ্ধার না হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “একজনের গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লে ব্যাগটি সরিয়ে ফেলা হয়। তবে আমরা সেটি উদ্ধারের চেষ্টা করছি।"