Published : 10 Apr 2026, 10:35 PM
জনবহুল দূষণকবলিত ঢাকার প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ব্যক্তিকেন্দ্রিক এবং সামষ্টিক উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই বলে অভিমত দিয়েছেন বিশিষ্টজনরা।
শুক্রবার রাজধানীর ধানমন্ডি লেকে আয়োজিত এক ‘জীববৈচিত্র্য ভ্রমণ (বায়োডাইভারসিটি ওয়াক)’ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তারা এ অভিমত দেন।
আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (এআইইউবি) এর সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিভাগের উদ্যোগে এই ভ্রমণের আয়োজন করা হয় বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
‘নগরে প্রকৃতি: জীববৈচিত্র্য ভ্রমণের মাধ্যমে শিখন ও অনুশীলনের সমন্বয়’ শীর্ষক এই কর্মসূচিতে অংশ নেন বিশ্ববিদ্যালয়টির ‘এনভায়রনমেন্টাল জার্নালিজম’ কোর্সের শিক্ষার্থীরা।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষা ব্যক্তিত্ব, স্থপতি, শিল্পী, লেখক ও পরিবেশ সাংবাদিকরা বলেন, আলো, শব্দ, পানি ও প্লাস্টিক দূষণের মতো মানবসৃষ্ট নানাবিধ চ্যালেঞ্জের কারণে শহরের অন্যতম প্রধান অক্সিজেন সরবরাহকারী কেন্দ্র ধানমন্ডি লেকের বাস্তুসংস্থান হুমকির মুখে পড়েছে।
কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন এআইইউবির সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আফরোজা সোমা।
শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা দিতে এই কার্যক্রমে বিভিন্ন পেশার সাতজন বিশিষ্ট ব্যক্তি যুক্ত ছিলেন।
বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রকৃতি বিষয়ক লেখক মোকারম হোসেন অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের দেশীয় প্রজাতির গাছ ও ফুল চিনিয়ে দেন। তিনি বলেন, “নগরায়ণের ভিড়ে আমাদের টিকে থাকতে হলে স্থানীয় প্রজাতির গাছের বিকল্প নেই। কৃত্রিম সৌন্দর্যের চেয়ে দেশীয় গাছ রোপণে গুরুত্ব দিতে হবে।”
স্থপতি মোহাম্মদ এমরান হোসেন এবং মাহমুদুল ইসলাম ফরহাদ তাদের আলোচনায় মানুষের সঙ্গে প্রকৃতির সহাবস্থান নিশ্চিত করতে পরিবেশবান্ধব স্থাপত্য নকশার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
দৃশ্যকলা শিল্পী কামরুজ্জামান স্বাধীন তার অভিজ্ঞতায় ভাগ করে নিয়ে বলেন, কীভাবে ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়া গ্রামে সাধারণ মানুষকে যুক্ত করে পাখি ও প্রকৃতি রক্ষায় সামাজিক বিপ্লব ঘটানো সম্ভব হয়েছে।
এছাড়া জ্যেষ্ঠ পরিবেশ সাংবাদিক সাদিকুর রহমান মিথুন, সামছুর রহমান আদিল ও মোস্তফা ইউসুফ পরিবেশগত সমস্যা অনুসন্ধান, তথ্য সংগ্রহ এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের ত্রুটিগুলো সাংবাদিকতার মাধ্যমে কীভাবে তুলে ধরতে হয়, সে বিষয়ে শিক্ষার্থীদের দিকনির্দেশনা দেন।