Published : 05 Apr 2026, 07:06 PM
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক এবং কুমিল্লা ও নোয়াখালীর সংযোগস্থলে সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা নিয়ে সংসদে কথা বলতে গিয়ে সড়ক পরিবহনমন্ত্রীর জবাবে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন কুমিল্লা-৬ আসনের বিএনপির এমপি মনিরুল হক চৌধুরী।
তিনি বলেছেন, মন্ত্রী ‘আগের আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের মতই’ উত্তর দিয়েছেন। তার ভাষায়, যারা ‘টাকা লুণ্ঠন’ করেছে, তাদের দেওয়া কথাই মন্ত্রী বলেছেন।
রোববার জাতীয় সংসদে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে গৃহীত নোটিশের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে এ কথা বলেন এমপি মনিরুল।
এর আগে নোটিসে বলা হয়, কুমিল্লার পদুয়ার বাজারে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক এবং কুমিল্লা ও নোয়াখালীর সংযোগস্থলে অবৈধ ব্যারিকেড, কুমিল্লায় প্রবেশপথের টমসন ব্রিজসহ সাত স্থানে আন্ডারপাস ও সার্ভিসলেন না থাকায় এলাকাটি ‘মরণফাঁদে’ পরিণত হয়েছে। এর প্রতিকার চেয়ে সড়ক পরিবহনমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।
নোটিসের জবাবে মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, “প্রকল্পটি আগে থেকেই চলমান। এখন নকশা পরিবর্তন ও বাজেট সমন্বয় করে কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দশ লেনে উন্নীত করার সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে। সেখানে তিনটি আন্ডারপাস নির্মাণের কথা আছে, পাশাপাশি পদুয়ার বাজারে আরও দুটি আন্ডারপাস করার পরিকল্পনাও রয়েছে।”
কিন্তু মন্ত্রীর এই জবাবে সন্তুষ্ট হতে পারেননি এমপি মনিরুল হক চৌধুরী।
সম্পূরক প্রশ্নে তিনি বলেন, “আমি প্রশ্ন করেছি, সাড়ে ১৭ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়েছে। সেখানে আন্ডারপাস কোথায় গেল? অনুমোদিত ওভারপাসটি কেন হল না? ব্যারিকেড দিয়ে রাস্তা বন্ধ করে দিল ২০১৪ সালের নির্বাচনের সময়। এর পরে এত লোক মারা গেল, কিন্তু একজনও ক্ষতিপূরণ পায়নি।
“মন্ত্রী মহোদয় বললেন, ওভারপাস হবে, এক্সপ্রেসওয়ে হবে। এ রবীন্দ্র সংগীত বহু শুনেছি। আমাদের শান্তিমত মরতে দেন। উনার প্রতিটি কথা সচিবেরা যা বলে দিয়েছে… যারা টাকা লুণ্ঠন করেছে তারা শিখিয়ে দিয়েছে, সেটা তিনি বলেছেন। আমি এর প্রতিবাদ করছি।”
মনিরুলের এই বক্তব্যের পর মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, “এ প্রকল্পটি আগে থেকে চলমান আছে। আমরা শুধু নকশা পরিবর্তন করে, বাজেট সমন্বয় করে কাজ করতে পারছি। এখন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দশ লেন প্রকল্পে ওই অঞ্চলে যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা, মোড়গুলোতে যাতে প্রচুর যানবাহনকে ম্যানেজ করতে হয়, সেটাকে পরিকল্পনা করে আগামী দিনের প্রকল্পে রাখা হয়েছে।
“পূর্ববর্তী সময়ের প্রকল্পে যতটুকু সংশোধন করা দরকার, ততটুকু করতে পারছি। এর বেশি করা সম্ভব হচ্ছে না। সরকার নতুন এসেছে। সংসদ সদস্য আমাকে জ্ঞাত করেছেন। সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের পাঠিয়েছি। সেখানে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। আশা করি, দ্রুততম সময়ের মধ্যে দৃশ্যমান কিছু দেখতে পাব।”
এ পর্যায়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ মন্ত্রীর কাছে জানতে চান, এসব পদক্ষেপে মনিরুল হক চৌধুরীর সমস্যার সমাধান হবে কি না? জবাবে মন্ত্রী বলেন, আংশিক হবে।