Published : 11 Nov 2025, 11:21 PM
সুস্থ ও কর্মক্ষম প্রজন্ম গড়ে তুলতে ভিটামিনসমৃদ্ধ নিরাপদ ভোজ্যতেলের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি, এমন বক্তব্য এসেছে এক কর্মশালায়।
মঙ্গলবার রাজধানীর বিএমএ ভবনে ‘সবার জন্য ভিটামিন সমৃদ্ধ নিরাপদ ভোজ্যতেল: অগ্রগতি, বাধা ও করণীয়’ শীর্ষক এই কর্মশালায় খোলা ভোজ্যতেল বিক্রির বিষয়ে উদ্বেগ তুলে ধরা হয়েছে।
গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) এবং ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ এই কর্মশালা আয়োজন করে।
সেখানে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কার্যক্রম ও গবেষণাগার বিভাগের সাবেক পরিচালক ফকির মুহাম্মদ মুনাওয়ার হোসেন বলেন, “ড্রামে খোলা তেল বাজারজাতকরণ, অস্বচ্ছ প্যাকেজিং এবং ভিটামিন ‘ডি’ সমৃদ্ধকরণের অভাবই সুস্থ ও কর্মক্ষম প্রজন্ম গড়ে তোলার ক্ষেত্রে প্রধান অন্তরায়।”
শিল্প মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ২০২২ সালের জুলাই থেকে খোলা সয়াবিন তেল এবং ডিসেম্বর থেকে খোলা পাম তেল বিক্রি বন্ধ থাকার কথা থাকলেও, বাজারে এখনো ড্রামে তেল বিক্রি অব্যাহত রয়েছে, যাকে উদ্বেগজনক বলেছেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের কনসালটেন্ট মুশতাক হাসান মুহ. ইফতিখার।
তিনি বলেন, “এটা যেমন সরকারি নিষেধাজ্ঞার লঙ্ঘন, পাশপাশি জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।”
কর্মশালায় বিষয়ভিত্তিক উপস্থাপনা তুলে ধরেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের প্রোগ্রাম অফিসার ডা. আলিভা হক ও প্রজ্ঞা’র কর্মসূচি প্রধান হাসান শাহরিয়ার।
সেখানে জানানো হয়, ‘জাতীয় মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট জরিপ’ (২০১১-১২) অনুযায়ী, দেশে প্রতি পাঁচজন শিশুর মধ্যে একজন ভিটামিন ‘এ’ এবং দুইজন ভিটামিন ‘ডি’-এর ঘাটতিতে ভুগছে। ভোজ্যতেল ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধকরণ আইন থাকা সত্ত্বেও বাস্তবে অধিকাংশ তেল ভিটামিন ছাড়া অথবা পরিমিত মাত্রার চেয়ে কমে বাজারে পাওয়া যায়।
উপস্থাপনায় বলা হয়, আইসিডিডিআর,বি-এর এক গবেষণায় দেখা গেছে, বাজারে বিক্রি হওয়া ভোজ্যতেলের ৬৫ শতাংশ ড্রামে বিক্রি হয়, যার মধ্যে ৫৯ শতাংশে ভিটামিন ‘এ’ একেবারেই নেই এবং মাত্র ৭ শতাংশে আইনি মানমাত্রা অনুযায়ী ভিটামিন পাওয়া গেছে।
আলো প্রতিরোধী ও অস্বচ্ছ বোতলে তেল সংরক্ষণের ওপরও গুরুত্বারোপ করে কর্মশালায় বলা হয়, আলো বা সূর্যালোকের সংস্পর্শে ভিটামিন ‘এ’ দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়, ফলে তেলের গুণগতমান হ্রাস পায়।
প্রিন্ট, টেলিভিশন ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকদের অংশগ্রহণে কর্মশালায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ইমপ্রুভড নিউট্রিশন (গেইন) এর লার্জ স্কেল ফুড ফর্টিফিকেশন প্রোগ্রাম ও ভ্যালু চেইনের পোর্টফোলিও লিড আশেক মাহফুজ, ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) এর সভাপতি ও দ্য ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস এর বিশেষ প্রতিবেদক দৌলত আক্তার মালা এবং প্রজ্ঞা’র নির্বাহী পরিচালক এ বি এম জুবায়ের।