Published : 06 Jul 2026, 12:41 PM
মামলার মুল নথি না থাকায় বনানী থানার হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরক আইনের মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে গ্রেপ্তার দেখানোর বিষয়ে শুনানি পেছাল।
আগামী বুধবার এ বিষয়ে ভার্চুয়ালি শুনানি হবে।
সোমবার ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ এ দিন ধার্য করেন।
প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই মোক্তার হোসেন বলেন, "মামলার মুল নথি মহানগর দায়রা জজ আদালতে শুনানিতে গেছে। এজন্য আজ গ্রেপ্তার দেখানোর বিষয়ে শুনানি হয়নি।”
শুনানির জন্য সকালে খায়রুল হককে আদালতে হাজির করা হয়। তাকে ঢাকার সিএমএস আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়।
খায়রুল হককে গত ২ জুলাই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বনানী থানার এসআই সাইফুল ইসলাম গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির দিন রাখেন এদিন।
২০২৫ সালের ২৪ জুলাই খায়রুল হককে ধানমন্ডির বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। উচ্চ আদালত থেকে জামিনের পর তিনি কারামুক্ত হচ্ছেন মর্মে কয়েকবার তার আইনজীবীরা বলেন। তবে নতুন নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন থাকায় কারামুক্ত হতে পারছেন না সাবেক প্রধান বিচারপতি।
নতুন মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতিকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনের বিষয়ে তার আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু দাবি করেন, বনানী থানার যে মামলায় তাকে (খায়রুল হক) গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে সেই তারিখে (২০/১১/২০২৫) খায়রুল হক জেলখানায় বন্দি ছিলেন।
“জেলখানায় থাকা একজন ব্যক্তি কীভাবে নতুন কোনো মামলায় সম্পৃক্ত হতে পারেন এবং তাকে শোন অ্যারেস্ট দেখানো যায়, তা সম্পূর্ণ বেআইনি।”
তিনি বলেন, বনানী থানার এ মামলা যুক্ত হলে সাবেক প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে মামলার সংখ্যা দাঁড়াবে নয়টিতে।
এদিকে বৃহস্পতিবার চেম্বার আদালত খায়রুল হকের একটি মামলার জামিনের বিষয়ে ‘নো অর্ডার’ (কোনো আদেশ নয়) দিয়েছে।
এর ফলে ওই মামলায় হাই কোর্টের দেওয়া জামিন আদেশই বহাল থাকার কথা বলেছেন তার আইনজীবী সাজু।
বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাই কোর্ট বেঞ্চ গত ৩০ জুন যাত্রাবাড়ী থানার খোয়াইব হত্যা মামলায় খায়রুল হককে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছিল।
সাজু বলেন, হাই কোর্টের জামিন আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করলে এদিন চেম্বার আদালতে শুনানি হয়।
শুনানিতে খায়রুল হকের পক্ষে তিনি শুনানিতে অংশ নেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দা সাজিয়া শারমিন।
বনানী থানার এ মামলার বিবরণে বলা হয়, জুলাই আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ৪ অগাস্ট দুপুরে মহাখালীতে সেতু ভবনের সামনে বিক্ষোভ করছিলেন আন্দোলনকারীরা। সেখান থেকে তাদের শাহবাগ যাওয়ার পথে হামলা, গুলি ও হাতবোমা নিক্ষেপ করা হয়।
এতে উজ্জ্বল মিয়াসহ ২৫ থেকে ৩০ জন আহত হন। এ ঘটনায় উজ্জ্বল মিয়া বনানী থানায় হত্যাচেষ্টাসহ বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা করেন।
২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর দেশের ১৯তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন এ বি এম খায়রুল হক। ২০১১ সালের ১০ মে তার নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে রায় দিলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল হয়। ওই রায় দেওয়ার সাত দিন পর ১৭ মে তিনি প্রধান বিচারপতির পদ থেকে অবসরে যান।
অবসরে যাওয়ার পর ২০১৩ সালের ২৩ জুলাই তাকে আইন কমিশনের চেয়ারম্যান করা হয়। আওয়ামী লীগের সরকার পতনের পর ২০২৪ সালের ১৩ অগাস্ট তিনি ওই পদ থেকে পদত্যাগ করেন।
ক্ষমতার পটপরিবর্তনের এক বছর পর খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করা হয়। সেদিন রাতেই তাকে আদালতে হাজির করা হয়। আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে যুবদলকর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারেই রয়েছেন।
গ্রেপ্তারের পর থেকে বিভিন্ন সময় তার বিরুদ্ধে মোট আটটি মামলা দায়ের করা হয়, যার মধ্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হত্যা, রায় ‘জালিয়াতি’ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলা রয়েছে।
গত ২৮ এপ্রিল যাত্রাবাড়ীতে যুবদলকর্মী হত্যা, রায় জালিয়াতি এবং দুদকের করা পৃথক পাঁচ মামলায় তার জামিন বহাল রাখে আপিল বিভাগ।
এ ছাড়া ২০ মে যাত্রাবাড়ী ও আদাবর থানার দুই মামলায় হাই কোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রাখে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত।
এর আগে গ্রেপ্তার দেখানোর প্রক্রিয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ১৩ মে রিট আবেদন করেন খায়রুল হকের ছেলে আইনজীবী আশিক উল হক। তার ভিত্তিতে সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হককে গ্রেপ্তার না দেখাতে এবং হয়রানি না করতে নির্দেশ দিয়েছিল হাই কোর্ট।
গত ৩০ জুন যাত্রাবাড়ী থানার খোয়াইব হত্যা মামলাতে খায়রুল হককে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেয় হাই কোর্ট।
তাকে কেন স্থায়ী জামিন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে একটি রুলও জারি করে আদালত।