Published : 27 Feb 2026, 03:27 PM
মঞ্চের আড়াল থেকে বেরিয়ে এল বাঘ, তা দেখে খুশিতে আত্মহারা মাইশা তুলল ছবি।
শুক্রবার ছুটির দিনের সকালে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে অমর একুশে বইমেলার চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে মা-বাবার সঙ্গে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের শিশু চত্বরে এসেছিল সে।
সেখানে কাকতাড়ুয়া পাপেট থিয়েটার পরিবেশন করে পুতুল নাচ। সঙ্গে ছিল পাপেটদের নানারকম আনন্দ আয়োজন।
বেলা ১২টার দিকে শিশুচত্বরে দেখা যায়, শতাধিক শিশু ও অভিভাবকরা পাপেট শো উপভোগ করছেন। মঞ্চে হাজির দুই পুতুল বন্ধু অপু ও দিপু। গল্পের ফাঁকে তারা দেয় নানা শিক্ষণীয় বার্তা।
অপু–দিপু বিদায় নিতেই বেজে ওঠে পরিচিত সুর—‘বুলবুল পাখি ময়না টিয়ে…’। গানের তালে তালে লেজ নাড়তে নাড়তে মঞ্চে আসে বিশাল এক বাঘ পুতুল। সামনে বসা শিশুরা একসঙ্গে চিৎকার করে ওঠে আনন্দে।

নাচতে নাচতে বাঘ নেমে আসে শিশুদের মাঝে। হাত বাড়িয়ে বাঘকে ছুঁতে চায় তারা। হাসি, হাততালি আর উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ। অনেক শিশু এই বাঘ মামার সঙ্গে ছবি তোলেন।
বাবার সঙ্গে আজিমপুর থেকে মেলায় এসেছিল প্রসন্ন পারিজাত। সে মেলায় এসে ‘দারুণ খুশি’ বলে জানাল।
এ আয়োজনে দুই সন্তানকে নিয়ে মোহাম্মদপুর থেকে এসেছিলেন শামীম হাসান।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এখানে যে পাপেট শো হচ্ছে, এটা দেখে আমার বাচ্চারা খুব আনন্দ পেয়েছে। তবে খোলা জায়গায় রোদ অনেক বেশি।”
এবারের বইমেলার মূল প্রতিপাদ্য- ‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’। এবারও মেলা হচ্ছে বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানজুড়ে।

গতবার উদ্যানে মন্দিরের গেইট দিয়ে প্রবেশ করেই হাতের ডান দিকে ছিল শিশুচত্বর। এবার শিশুচত্বর রাখা হয়েছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মুক্তমঞ্চের পাশের জায়গাটিতে; একদিকে লিটলম্যাগ চত্বর, আর অন্যদিকে শিশুচত্বর। এবার শিশুচত্বরে স্টল রয়েছে মোট প্রতিষ্ঠান ৬৩টি এবং ইউনিট ১০৭টি।
শুক্রবার মেলা শুরু হয় সকাল ১১ টায়, শেষ হবে রাত ৯ টায়। সকাল ১১টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত ছিল শিশুপ্রহর।
তবে সকাল সাড়ে ৯টায় বইমেলা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় শিশু-কিশোর চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। আর বেলা সাড়ে ১০টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় শিশু-কিশোর আবৃত্তি প্রতিযোগিতার প্রাথমিক পর্ব।
বইমেলা চলবে ১৫ মার্চ পর্যন্ত; ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন খোলা থাকবে বেলা ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। রাত সাড়ে ৮টার পর নতুন করে কেউ মেলা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে পারবেন না। আর ছুটির দিন বেলা ১১টায় শুরু হয়ে মেলা চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত।

প্রতিদিন বিকাল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত বইমেলার মূল মঞ্চে বিষয়ভিত্তিক সেমিনার এবং বিকাল ৪টা থেকে ৫টা পর্যন্ত চলবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
অমর একুশে উদযাপনের অংশ হিসেবে শিশুকিশোর চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি এবং সংগীত প্রতিযোগিতার আয়োজন থাকছে।
মেলার মাঠে খাবারের স্টলগুলো এবারও থাকছে ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশনের সীমানা ঘেঁষে।

বইমেলায় বাংলা একাডেমি এবং মেলায় অংশগ্রহণকারী অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ২৫ শতাংশ কমিশনে বই বিক্রি করবে। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো বই বেচবে তাদের নির্ধারিত কমিশনে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা রয়েছে।