Published : 05 Mar 2026, 12:33 AM
জীবনে কখনও ‘কোনো দুর্নীতি’ করেননি দাবি করে সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেছেন, বাংলাদেশ ছাড়া অন্য কোনো দেশে তার বাড়ি বা সম্পত্তি নেই।
অন্তর্বর্তী সরকারে থাকার সময় এবং পরে তার বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে ফেইসবুক পোস্টে তিনি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনা এবং সেখানে চলে যাওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে ছড়ানো খবর ‘গাজাখুরি’ গল্প।
উপদেষ্টার দায়িত্ব শেষের সপ্তাহ দুয়েক পর বুধবার দেওয়া এ পোস্টে সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, কিছুদিন গুজব কমে এলেও অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়ের পর আবার নতুন করে তার এবং তার কয়েকজন সহকর্মীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ছড়ানো শুরু হয়েছে।
তার দাবি, এসব অভিযোগ প্রথমে কিছু অনলাইনের মাধ্যমে ছড়ানো হয় এবং পরে তা অন্য কিছু গণমাধ্যমেও প্রকাশিত হতে থাকে।
“আমি সরকারে থাকা অবস্থায় বা এর আগে-পরে জীবনে কখনো কোনো দুর্নীতি করিনি। এক টাকা–আবার বলি, এক টাকাও দুর্নীতি করিনি।”
নিজের অজান্তেও কাউকে দুর্নীতি করার সুযোগও দেননি বলে দাবি তার।
একই সঙ্গে তার ভাষ্য, কোনো নতুন ব্যাংক হিসাব বা অপ্রদর্শিত সম্পদও নেই।
চব্বিশের আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দায়িত্বে আসা অন্তর্বর্তী সরকারে আইন উপদেষ্টার পাশাপাশি প্রবাসী কল্যাণের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। তফসিল ঘোষণার দিন আগের ছাত্র উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার পদত্যাগ কার্যকর হলে তিনি ক্রীড়া উপদেষ্টার দায়িত্বও পান।
এ দায়িত্বে আসার পর নতুন করে আলোচনায় আসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের এই শিক্ষক। আইপিএল থেকে মুস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ভারত না যাওয়ার সিদ্ধান্তে তিনি ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন।
উপদেষ্টার দায়িত্ব শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে তার বাড়ি থাকা এবং উপদেষ্টা থাকাকালে ‘অনিয়ম ও দুর্নীতির’ মাধ্যমে তিনি বিপুল অর্থ বানিয়েছেন বলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে।
বুধবার ফেইসবুকে এর জবাব দিয়ে আসিফ নজরুল বলেন, প্রায় এক বছর আগে ইউটিউবে খবর ছড়ানো হয় তার যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার। তার পরিবার সেখানে চলে গেছে এবং তিনিও শিগগির সেখানে চলে যাবেন।

তিনি লেখেন, অনেক মানুষ সেই ভিডিও দেখেছেন এবং কেউ কেউ তা বিশ্বাসও করতে শুরু করেন।
এ নিয়ে ইউটিউবে প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি প্রকাশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি থাকলে সেটির প্রমাণ দেখাতে তখন চ্যালেঞ্জ করেছিলেন বলে এদিনের ফেইসবুক পোস্টে তুলে ধরেন। লেখেন, “আমেরিকায় বাড়ি কিনলে রেকর্ড থাকে, কেউ তা লুকাতে পারে না।”
তিনি বলেন, সেই চ্যালেঞ্জ দেওয়ার পর প্রায় আট মাস কেটে গেলেও কেউ তার যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি থাকার কোনো ঠিকানা, দলিল বা প্রমাণ দেখাতে পারেনি।
“আমেরিকা কেন, বাংলাদেশের বাইরে পৃথিবীর কোনো দেশেই আমার বাড়ি নেই। কোনো রকম সম্পত্তিও নেই।”
উপদেষ্টা থাকাকালে স্বজনপ্রীতির অভিযোগও নাকচ করে আসিফ নজরুল বলেন, দায়িত্বে থাকার সময় পরিবার বা আত্মীয়দের কোনো সুবিধা দেননি।
“আমি প্রায় পাঁচ হাজার আইন কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছি, একজন আত্মীয়কেও নিয়োগ দেইনি। নিজের গ্রামের বাড়ি বা ঢাকার যে এলাকায় তিনি বড় হয়েছেন সেখানে একবারও যাননি।
তবে লালবাগ শাহী মসজিদের জরুরি উন্নয়নের জন্য ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে কিছু আর্থিক সহযোগিতা পেতে সহায়তা করেছেন বলে তুলে ধরেন তিনি।
এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ও ডাকসুর আবেদনের ভিত্তিতে ক্রিকেট বোর্ডের কাছে অনুরোধ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠ উন্নয়নের জন্য কিছু অনুদান আনার কথাও বলেন।
বহু মিথ্যাচার ও অপবাদের মুখোমুখি হওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “চুরি করে বা অন্যের হক মেরে বেঁচে থাকার জন্য আমার জন্ম হয়নি।”