Published : 19 Mar 2026, 04:13 PM
ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় ছুরি মেরে ও গুলি করে কলেজছাত্র রাকিবুল ইসলাম রাকিবকে হত্যার ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশ বলছে, হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া সবাই 'ভাড়াটে খুনি'।
টিকটক ও বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের জন্য ভিডিও কনটেন্ট বানানো রাকিবের সঙ্গে জান্নাত মুন নামে এক তরুণীর পরিচয় হয়। মুনের স্বামী 'সাজিদের পরিকল্পনাতেই' রাকিবকে হত্যা করা হয় বলে পুলিশের ভাষ্য।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপকমিশনার মাসুদ আলম বৃহস্পতিবার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, 'খুলনা অঞ্চলের মাদক কারবারি’ সাজিদের সঙ্গেও রাকিবের একসময় 'ভালো সম্পর্ক' ছিল।
“কিন্তু স্ত্রীর সঙ্গে রাকিবের যোগাযোগের ফলে সন্দেহ থেকে ভাড়াটে খুনি দিয়ে তাকে হত্যা করান সাজিদ।”
মাসুদ আলম বলেন, "মুনের সাথে যে সম্পর্ক, এটা কোন পর্যায়ে গেছে, তার সাথে আবার কথা বললে বুঝতে পারব। রাকিবতো বেঁচে নেই। তো এইটাকে হয়ত সাজিদ সন্দেহের চোখে দেখত।
"এটা নিয়ে বেশ কিছুদিন যাবৎ সাজিদ তাকে থ্রেট করে আসছিল। এটারই ফলশ্রুতিতে আমরা দেখতে পাচ্ছি, সাজিদ হত্যাকারীদের টাকা দিয়ে ফিট করে দেয়।"
গ্রেপ্তার ৫ জন হলেন- শিহাব, জয়, রাফিন, সাগর ও সালাউদ্দিন সাগর। তাদের মধ্যে রাফিনকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
শিহাব আর জয়কে খুলনা থেকে, সাগরকে পটুয়াখালী থেকে এবং সালাউদ্দিন সাগরকে গোপালগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

মাসুদ আলম বলেন, "যে পাঁচ জনকে অ্যারেস্ট করা হয়েছে, তার মধ্যে চারজন ছিল মোটামুটি একেবারে সরাসরি কিলিং মিশনের সাথে।
"যে শুট করেছে, তার নাম আলামিন, তাকে আমরা এখন পর্যন্ত ধরতে পারি নাই। শিহাব, জয় ও রাফিন চাপাতি ও চাকু দিয়ে কোপায়। সাগর কোপায়নি, কিন্তু একসাথেই ছিল।"
আর সালাউদ্দিন অস্ত্র যোগান দেওয়ার পাশাপাশি কে কোথায় থাকবে তার 'সমন্বয় করেছিলেন' বলে পুলিশের সংবাদ সম্মেলনে তথ্য দেওয়া হয়।
মাসুদ আলম বলেন, "এর সাথে যারা যারা জড়িত আছে, আমরা মোটামুটি আইডেন্টিফাই করেছি। আমরা পাঁচজনকে ধরেছি। এর বাইরে আরো সাত-আট জন আছে। সবাইকে আস্তে আস্তে ধরে ফেলব।"
গত রোববার রাতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বোরহান উদ্দিন কলেজের বিএ দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী রাকিবকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয়।
সেদিন রাত সোয়া ৯টার দিকে শহীদ মিনারে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছিলেন রাকিব। সেখানে তিন-চারজন মিলে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে রাকিবকে। পরে মাথায় গুলি করা হলে রাকিবের মৃত্যু হয়।
রাকিবের গ্রামের বাড়ি ভোলা সদরের চৌমুহনী গ্রামে। ঢাকার নিমতলী নাজিম উদ্দিন রোডে পরিবারের সঙ্গে থাকতেন তিনি।
ঘটনার পরদিনই তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলেছিলেন, 'নারী সংক্রান্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে' রাকিবুলকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।
রাকিবের স্ত্রী হাবিবা আক্তার ঢাকা মেডিকেলে মর্গে বলেছিলেন, বগুড়ায় এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরের বিয়েতে গিয়ে জান্নাত মুন নামে এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরের সঙ্গে তার স্বামীর পরিচয় হয়। এরপর থেকে জান্নাত তাদের বাসায় যাতায়াত করত।

তখনই তিনি তার স্বামীকে হত্যার পেছনে জান্নাতের 'বয়ফ্রেন্ডকে সন্দেহ' করার কথা বলেছিলেন। এখন পুলিশও আনুষ্ঠানিকভাবে 'জান্নাতের স্বামী সাজিদের জড়িত থাকার' কথা বললো।
সংবাদ সম্মেলনে মাসুদ আলম বলেন, "হত্যাকারীরা খুলনা থেকে এই হত্যার উদ্দেশ্যেই ঢাকায় আসে। এসে তারা ঢাকার বিভিন্ন হোটেলে, বিশেষ করে ফকিরাপুল একটা হোটেলে বেশ কয়েকজন ছিল। সোনারগাঁ হোটেলেও দুইজন ছিল, তাদের সিসি ক্যামেরা ফুটেজও আমরা পেয়েছি।
“এর মধ্যে রাকিবকে রেকিও করা হয়। রাকিব প্রতিদিন রাতে শহীদ মিনার এলাকায় যেত। ঘটনার দিন পরিকল্পনা অনুযায়ী চারজন সরাসরি থাকে, আর বাদবাকি যারা ছিল, তারা ব্যাকআপে থাকে।"
এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, "রাকিব দুই-তিনবছর আগে বিয়ে করেছে। তারপরও সাফা নামে একটা মেয়েকে ৪-৫ মাস আগে বিয়ে করেছে অনেকটা বাজি ধরে বা এরকম কিছু একটা শুনেছি তার বন্ধু বান্ধবের কাছ থেকে।
"আর আরেকটা মেয়ে আছে, তার সাথে একত্রে টিকটক করে, এটা হচ্ছে মুন ওরফে জান্নাত। জান্নাতের স্বামী সাজিদ আবার ড্রাগ ডিলার এবং খুলনা অঞ্চলে তার বসবাস। সে লোক পাঠায়ে দেয় রাকিবকে কিল করার জন্য, এটা মোটামুটি আমরা এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হয়েছি।
"এরপরও আমাদের ইনভেস্টিগেশন চলবে, এর ভেতরে যদি কোথাও ফাকফোকর থাকে আমরা একটা লিংক তৈরি করে ফেলব।"
মাসুদ আলম বলেন, "দক্ষিণ দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে যে মাঝেমাঝে বড় ধরনের ঘটনা দেখি, এটার পিছনে এদের বড় ধরনের হাত রয়েছে। এরা খুবই দুর্ধর্ষ এবং এরা টাকা পাইলে যে কাউকে খুন করতে পারে।"