Published : 08 Jan 2026, 02:56 PM
জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে বিভিন্ন জায়গায় ‘দলীয়’ ডিসি নিয়োগের অভিযোগ তুলে তাদের অপসারণের দাবি ওঠার পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আব্দুর রশীদ বলছেন, রাজনৈতিক দলের অভিযোগে নয়, নির্বাচন কমিশন চাইলে মাঠ প্রশাসনে রদবদলের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকরা মন্ত্রিপরিষদ সচিবের কাছে জানতে চান, নির্বাচন সামনে রেখে মাঠ প্রশাসন নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রদবদলের চিন্তা রয়েছে কি না?
জবাবে তিনি বলেন, “আমরা রদবদলের কথা তো বলছি না। তবে নির্বাচন কমিশন যদি ‘কনভিন্সড’ হয়, তারা যদি মনে করেন যে হ্যাঁ রদবদল প্রয়োজন, তাহলে তারা বলবেন। তখন আমরা সেটা বিবেচনা করব, সেইভাবে ব্যবস্থা নেব।”
এর কারণ ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, “নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত বা অভিমতের এখন অনেক বেশি মূল্য। সেটাই আমরা অনার করার চেষ্টা করব। তো তারা কনভিন্সড হোক আগে।”
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি। সেদিন গণভোটও হবে।
দেশের ৩০০ সংসদীয় আসনে নির্বাচন করার জন্য যারা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে সেগুলো যাচাই-বাছাই শেষ হয়েছে ৪ জানুয়ারি। আড়াই হাজারের বেশি মনোনয়নপ্রত্যাশীর মধ্যে ৭ শতাধিকের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।
বুধবার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একটি প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশনে গিয়ে তাদের নেতারা প্রার্থিতা বাছাইয়ে ‘বৈষম্যের’ শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ তুলেছিলেন।
তাদের অভিযোগ, বিভিন্ন জায়গায় ‘দলীয় পরিচয়ে’ ডিসি নিয়োগ করা হয়েছে।

এ ধরনের ডিসি বা এসপি যারা আছেন, তাদের অপসারণের দাবি নির্বাচন কমিশন-ইসিতে জানিয়েছেন বলে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বলেছিলেন জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের।
তিনি বলেন, “আপনারা লক্ষ্য করেছেন যে প্রার্থিতা বাছাইয়ের ক্ষেত্রে বড় ধরনের বৈষম্য আমরা দেখেছি। প্রশাসনের সিদ্ধান্তেরও ভিন্নতা দেখেছি। যেমন দ্বৈত নাগরিকত্বের ব্যাপারে একই ধরনের ঘটনায় কোনো কোনো জায়গায় মনোনয়ন গ্রহণ করা হয়েছে। আবার একই রকম ঘটনায় কোনো কোনো জায়গায় এটাকে বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।”
এ অভিযোগের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, “আমি এখন পর্যন্ত সেরকম কিছু দেখিনি। কোথাও কোথাও কোনো কোনো সিদ্ধান্তে কেউ কেউ সন্তুষ্ট হননি, এটা হতেই পারে। এটা, সকলের সিদ্ধান্ত একরকম হয় তা তো নয়। আর সকল প্রার্থীরও পরিস্থিতি তো একরকম ছিল না। সুতরাং কিছু কিছু পরিবর্তন হতেই পারে।
“আর এখানে তো তাৎক্ষণিকভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। তো তারা তাৎক্ষণিক বিবেচনায় যেটা সবচাইতে উপযুক্ত মনে করেছেন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সেটা যদি সঠিক না হয়ে থাকে তাহলে তো আপিলের সুযোগ আছে। সেই সুযোগটা এখন প্রত্যেক প্রার্থীই নিচ্ছেন। শত শত প্রার্থীই আপিল করেছেন এবং আরও করছেন। আজকেও করবেন- এরকম শুনতে পেয়েছি। দেখা যাক সেগুলিতে।”
বর্তমান ডিসিদের পূর্বের কোনো নির্বাচনে মাঠ প্রশাসন পরিচালনার অভিজ্ঞতা না থাকায়, তাদের দিয়ে নির্বাচন কতটা সুষ্ঠু হবে এমন প্রশ্নে সচিব বলেন, “আমি তো এখনও আশাবাদী যে পারা যাবে ইনশাআল্লাহ। অভিজ্ঞতা তো সকলে নিয়ে আসে না। অভিজ্ঞতা তো তৈরি হয়। অভিজ্ঞতার অবস্থায় পড়লে অভিজ্ঞতা তৈরি হয়। এবং তাদের যদি, তারা যদি সঠিক পথে চলেন, চলতে পারবেন।
“এবং তাদের যদি মনোভাব সঠিক থাকে তাহলে তারা সফল হবেন ১০০ পারসেন্ট। সফল হবেন ইনশাআল্লাহ। আর যেখানে, যদি আমরা কোনো বিচ্যুতি দেখতে পাই, তখন আমরা সেইভাবে ব্যবস্থা নেব।”