Published : 08 May 2026, 07:57 PM
বাড়িতে গৃহিণীদের কাজের ‘মূল্য’ নির্ধারণের উদ্যোগ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন নারী নেতারা।
শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম আয়োজিত এক সমাবেশে তারা বলেন, নারীর স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাজেট বরাদ্দ রাখতে হবে।
পাশাপাশি সরকারিভাবে ডে-কেয়ার সেন্টার তৈরি, কর্মজীবী নারী হোস্টেল নির্মাণ, নিরাপদ গণপরিবহণ, মা ও শিশু হাসপাতাল, স্বাস্থ্যসম্মত পাবলিক টয়লেট নির্মাণের দাবিগুলোও এসেছে বক্তাদের কথায়।
সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ এর নেত্রী শম্পা বসু বলেন, “পরিবার পরিচালনায় গৃহস্থালি কাজের ৮৫ ভাগ করেন নারীরা। কিন্তু পরিবার এবং রাষ্ট্রে এই কাজের কোনো স্বীকৃতি এবং মর্যাদা নেই।
“সে কারণেই পরিবারে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে গৃহিণীদের মতামত স্বামী বা পরিবারের অন্য সদস্যরা গ্রহণ করেন না।”
গৃহকাজের আর্থিক মূল্য নির্ধারণ ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি থাকলে নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনসহ নির্যাতন কমে যেত বলে মনে করেন তিনি।
শম্পা বসু বলেন, “বিভিন্ন দেশে বিবাহ বিচ্ছেদের পর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পত্তির সমান ভাগ পাওয়ার আইন আছে। অর্থাৎ বিশ বছর সংসার করার পর যদি বিবাহ বিচ্ছেদ হয় তাহলে বিশ বছরে সৃষ্ট মোট সম্পত্তি সমান ভাগ হয়। কিন্তু আমাদের দেশের সংসার গড়ে তোলার ক্ষেত্রে নারীর শারীরিক-মানসিক শ্রম থাকা সত্ত্বেও বিবাহ বিচ্ছেদের পর সম্পত্তির প্রায় কোনো অংশই পান না তারা। ফলে গৃহিনীরা অসহায় হয়ে পড়েন।”
সমাবেশে দেশজুড়ে চলমান হামের প্রকোপ নিয়ে কথা বলেন সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক মনীষা চক্রবর্তী।
তিনি বলেন, “হামের টিকার অভাবে ৩০০ এর বেশি শিশু ইতোমধ্যে মারা গিয়েছে। হামের টিকা সংকট চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে, আমাদের শিশুদের চিকিৎসার চিত্র। মা ও শিশু হাসপাতালগুলো কার্যকর থাকলে ভয়াবহতা অনেকটাই কমে আসত। কিন্তু এ বিষয়ে কোনো আলোচনা বা উদ্যোগ দেখা যায় নাই। হাসপাতালে মাতৃসদন নির্মাণে খুব বেশি বাজেট বরাদ্দ লাগে না।”
অনেক নারীর অ্যাকাডেমিক ফলাফল ভালো হলেও কর্মক্ষেত্রে পিছিয়ে আছে বলে দাবি করেন ছাত্র নেতা মুক্তা বাড়ৈ।
তিনি বলেন, “রেজাল্ট ভালো হয় কিন্তু চাকরি ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ে। ডে কেয়ার সেন্টার, নিরাপদ গণপরিবহন ইত্যাদি না থাকায় তাদের (নারী) পিছিয়ে যেতে হয়। সরকারি উদ্যোগে উপজেলায় ডে কেয়ার সেন্টার ও কর্মজীবী নারী হোস্টেল নির্মাণের জন্য বাজেট বরাদ্দ করলে এই সমস্যার সমাধান হতে পারে।”