Published : 12 Nov 2025, 07:11 PM
সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বর্তমানের সব নীতি যেন পুরো পাল্টে না যায়, সেদিকে খেয়াল রাখার পরামর্শ দিয়েছেন ঢাকায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার।
বুধবার ঢাকায় জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, সরকার পরিবর্তন হয়ে যেই আসুক না কেন, কিছু চ্যালেঞ্জ একই থাকবে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে ইউনিসেফ ও বাংলাদেশ সরকার বাস্তবায়িত একটি কর্মসূচি নিয়ে ওই ব্রিফিংয়ে মাইকেল মিলার বলেন, “দেশ নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছে। এখানকার তথ্য থেকে আমরা যে সাফল্যের কথা শুনলাম, যখন দেশের নীতি প্রণয়ন করা হবে তখন এই বিষয়ে অনুমানযোগ্যতা থাকাটা গুরুত্বপূর্ণ।
“সুতরাং নতুন সরকার গঠনে যে দল বা দলগুলো ভোটে জিতুক না কেন, আমরা চাই এসব ক্ষেত্রে যেন অনুমানযোগ্যতার বিষয়টি অনুসরণ করা হয়। নতুন সরকারের সঙ্গে চ্যালেঞ্জ নাই হয়ে যাবে না। চ্যালেঞ্জগুলো একই থাকবে।”
তিনি বলেন, “তাই আমরা চাই নতুন সরকার নতুন উদ্যোমে আলোচনায় যুক্ত হোক; অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যেসব সংস্কারের এজেন্ডা নিয়ে কাজ করছে, সেগুলো এগিয়ে নিয়ে যাক।”
২০২১ সাল থেকে চলমান ‘বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রান্তিক পর্যায়ের কিশোর-কিশোরী এবং প্রতিবন্ধী শিশুদের অধিকার লালন ও ক্ষমতায়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের কার্যক্রম জানাতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
ঢাকায় ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স জানান, গত চার বছরে এই কর্মসূচির মাধ্যমে ১ কোটি ৬২ লাখ শিশু-কিশোর এবং ৬৩ লাখ কেয়ারগিভারের কাছে পৌঁছেছেন তারা।
‘উন্নয়নের জন্য খেলাধুলা’ শীর্ষক উদ্যোগের মাধ্যমে ১২ হাজারের বেশি বাল্যবিবাহ ঠেকাতে পারার কথাও বলেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার সুপারিশের আলোকে এবং শিশুশ্রম বন্ধকে সামনে রেখে শ্রম আইন সংশোধনের বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রস্তাবের বিষয়ে এক প্রশ্নে তিনি বলেন, তারা চান বাংলাদেশেরর শ্রম আইন সংশোধন হোক। এক্ষেত্রে কী করা প্রয়োজন তা নিয়ে সরকারের সঙ্গে মাসের পর মাস আলোচনা হয়েছে।
“কী পরিবর্তন আনতে হবে, সেটা নিয়ে ঐকমত্য হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সর্বশেষ সিদ্ধান্তের আলোচনা সঠিক মাত্রার পরিবর্তন আসবে বলে আমি আশাবাদী।”
তিনি বলেন, “আমাদের প্রত্যাশা এটা আইএলও’র সুপারিশের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হবে। জাতীয় কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রত্যাশার মিল থাকবে বলেও প্রত্যাশা আমাদের।”
বিদ্যালয়ে না গিয়ে একজন শিশুও যদি কাজে যায়, তার পরিণতি অনেক বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, দৃষ্টিভঙ্গি হতে হবে সব শিশুকে কাজ থেকে বের করে নিয়ে আসার। তবে প্রথম পদক্ষেপ হবে, শুরুতে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কাজ ও শিল্প থেকে শিশু শ্রমিকদের বের করে নিয়ে আসা।
রাজনৈতিক নেতা, গবেষণা সংস্থা ও ট্রেড ইউনিয়নসহ বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা থেকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে শিশুদের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার বন্ধের আলোচনা বিষয়ক এক প্রশ্নে কথা বলেন ইউনিসেফ প্রতিনিধি।
রাজনৈতিক সংঘাতে শিশুদের ব্যবহার বন্ধ বিষয়ক ওই প্রশ্নে তিনি বলেন, “আলোচনা থেকে আসা বার্তার অন্যতম হচ্ছে, তাদেরকে (শিশুদেরকে) বিক্ষোভের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার থেকে রক্ষা করা এবং সেটা বয়স্কদেরকে দ্বারা ব্যবহার হতে পারে। আমরা জানি, শিশুরা যখন অপরাধ করে সেটা প্রায় অন্যের দ্বারা প্রভাবিত এবং রাজনৈতিক দলও শিশুদেরকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে।
“ইউনিসেফ থেকে আমরা স্পষ্টভাষায় বলছি, এটা গ্রহণযোগ্য নয়। আমাদের অবস্থান শিশুদের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের বিরুদ্ধে। শিশুদের সহিংসতার জন্য ব্যবহারের বিরুদ্ধে আমরা।”
বাল্যবিয়ের বিষয়ে এক প্রশ্নে তিনি বলেন, ইউএনএফপিএর নারীর ওপর সহিংসতার প্রতিবেদনে দেখা গেছে, জীবনসঙ্গীর দ্বারা সহিংসতার শিকার নারীদের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সি। নারীদের মৃত্যুর হারের দিক থেকে সর্বোচ্চ সংখ্যাটা ১৯ বছরের কম বয়সিদের।
“নবজাতকদের মৃত্যুর সংখ্যা বেশি হচ্ছে এ কারণে যে, কিশোরীদের এই ছোট শরীর বাচ্চাধারণের উপযোগী নয়। বিবাহবিচ্ছেদের সর্বোচ্চ সংখ্যাটাও ১৯ বছরের কম বয়সিদের।”
বাল্যবিবাহ বন্ধের বিষয়ে এক প্রশ্নে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মমতাজ আহমেদ বলেন, আর্থ-সামাজিক অবস্থার কারণে কোনো একক ব্যবস্থা দিয়ে বাল্যবিয়ে বন্ধ করা যাচ্ছে না। এক্ষেত্রে শুধু একক মন্ত্রণালয় নয়, অন্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয়েরও বিষয় আছে।
জন্ম নিবন্ধনের প্রক্রিয়া জোরদারে উদ্যোগ নেওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, একটি কর্মসূচির অধীনে পতিতালয়ের শিশু এবং পথশিশুদের নিবন্ধনের ব্যবস্থাও শুরু করা হবে।