Published : 09 Apr 2026, 12:11 PM
ঢাকার মিরপুর রোডে ক্ষতিগ্রস্ত গ্যাসলাইন মেরামত কাজের কারণে মোহাম্মদপুর, শ্যামলী, কল্যাণপুর, মিরপুর ও তেজগাঁওসহ রাজধানীর একাংশে তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে।
দারুস সালাম এলাকায় মাটির নিচের পাইপলাইনে লিক শনাক্ত হওয়ার পর বুধবার মেরামত কাজ শুরু হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা শেষ করা সম্ভব হয়নি। তাতে রাত থেকে অনেক এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে ভোগান্তিতে পড়েন বাসিন্দারা।
গ্যাস না থাকায় রাত থেকে অনেক বাসায় রান্না বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাসিন্দারা।
আদাবর ১২ নম্বর রোডের বাসিন্দা চমন হোসেন বলেন, “সকালে উঠে দেখি একটুও গ্যাস নেই। বাচ্চাটা স্কুলে যাবে, ওর বাবা অফিস যাবে। কী বিপদ!”
তিনি বলেন, “কোনো রকমে ওভেনে খাবার গরম করে আজকের দিন পাড়ি দিয়েছি। হুট করে কোনো নোটিস ছাড়া এভাবে গ্যাস চলে যাওয়া যেকোনো পরিবারের জন্যই বিরাট সমস্যার।”
মোহাম্মদপুর হাউজিং সোসাইটির এক বাসিন্দা বলেন, রাত থেকেই গ্যাস ছিল না। সকালে রান্না করা না যাওয়ায় পরিবারের সবাইকে শুকনো খাবার খেয়ে থাকতে হয়েছে। বাইরে থেকে খাবার আনতে গিয়েও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে।
তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দারুসসালাম মেইন রোড এলাকায় ১২ ইঞ্চি ব্যাসের ৫০ পিএসআইজি চাপের একটি বিতরণ লাইনে লিক ধরা পড়ে। তার আকার ধারণার চাইতে বড় হওয়ায় অতিরিক্ত ভাল্ব বন্ধ করতে হয়েছে। ফলে অনেক এলাকায় হঠাৎ করেই গ্যাস বন্ধ করতে হয়েছে।

শ্যামলীর এক বাসিন্দা বলেন, গ্যাস না থাকায় সকালে বাচ্চাদের জন্য খাবার তৈরি করা যায়নি। বাধ্য হয়ে ঘরে যা ছিল, তাই খাইয়ে রাখতে হয়েছে।
বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাত থেকেই অনেক বাসায় রান্না করা যায়নি। কেউ বাইরে খাবার খুঁজেছেন, কেউ শুকনো খাবার খেয়ে সময় পার করেছেন।
আগাম নোটিস না দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে।
তাদের একজন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমিনবাজার থেকে ভাল্ভ বন্ধ করা হয়েছে কাজের জন্য। এটা অবশ্যই নোটিস করার মতো খবর; জানানো উচিত ছিল। মানুষকে অজ্ঞাত রেখে ভোগান্তি দেওয়া অপরাধ!”
বৃহস্পতিবার দুপুরের মধ্যে পুনরায় গ্যাস সরবরাহ শুরু হবে বলে জানিয়েছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ।
এর আগে গেল জানুয়ারিতে মিরপুর রোডে সাবেক গণভবনের সামনে বিতরণ লাইনের একটি ভাল্ভ বিস্ফোরণের পর ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, শ্যামলী, নিউ মার্কেট, হাজারীবাগ ও গাবতলীসহ আশপাশের এলাকায় গ্যাসের ‘স্বল্পচাপ” দেখা দেয়। তখনও মেরামতের জন্য বিতরণ নেটওয়ার্কের বেশ কয়েকটি ভাল্ভ বন্ধ করে চাপ সীমিত করতে হয়েছিল। পরে নতুন ভাল্ভ প্রতিস্থাপন করা হলেও গ্যাসের চাপ স্বাভাবিক হতে কয়েক ঘণ্টা লেগেছিল।